কাগজের ফুলেই সংসার চলে রাণীনগরের আবদুল মান্নানের

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

আবদুর রউফ রিপন, রাণীনগর


এভাবে কাগজ ও প্লাস্টিকের ফুল বিক্রি করেই সংসার চালান রাণীনগরের আবদুল মান্নান-সোনার দেশ

ফুল সৌন্দর্য্যরে প্রতীক। ফুলের সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে মানুষ শখের বসে নিজ বাড়ির আঙিনায় ও বাড়ির আশে পাশের বিভিন্ন জায়গায় ফুল চাষ করে। কেউ বা আবার মৌসুমি ফুলের টব রাখে বাড়ির ছাদ বা ঘরের বারান্দায়।
আর শিশুদের খেলনা কিংবা ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ঘরে রাখে কৃত্রিম ফুল। তাছাড়া বিয়ে, জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কাগজের কৃত্রিম ফুলের প্রয়োজন সব সময়ই। আর এই কাগজের ও প্লাস্টিকের মনকাড়া কৃত্রিম ফুল তৈরি ও বিক্রি করে প্রায় ৮ বছর ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার গোনা ইউনিয়নের বড়বড়িয়া পূর্বপাড়া গ্রামের আবদুুস সামাদের ছেলে আবদুুল মান্নান (৫০)।
সরেজমিনে একদিন রাণীনগর থানার সামনে কৃত্রিম এই ফুল বিক্রি করার সময় আলাপ হয় আবদুুল মান্নানের সঙ্গে। তিনি জানান পরিবাবে তার দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে। আবদুুল মান্নানসহ তিন ছেলে মেয়ে ও তার স্ত্রী নিজ বাড়িতে ফুল তৈরি করেন। আর সেই ফুলগুলো নিয়ে আবদুুল মান্নান সারাদিন ফেরী করে বিক্রি করেন। রাণীনগর উপজেলারসহ নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর, পোরশা, নজিপুর, সাপাহার, আত্রাই, জয়পুরহাট জেলার হিলি, বিরামপুর, ফুলবাড়িসহ দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় বাহারী এই কৃত্রিম ফুল বিক্রি করেন। প্রায় ৮ বছর ধরে কাগজের ফুল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। তিনি বাহিরের জেলা ও উপজেলাতে ফুল বিক্রি করে প্রায় এক সপ্তা পর পর বাড়িতে ফিরে আসেন। এই ফুল বিক্রি করে কখনো ৫শ আবার কখনো এক হাজার টাকা লাভ হয়। এ ব্যাবসা দিয়ে এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। আরো ৩ ছেলে মেয়েকে লেখাপড়াসহ নিজের সংসার চালান আবদুুল মান্নান। তিনি জানান আমাদের পুঁজি কম। কোনমতে বেঁচে আছি। তবে তিনি আরো জানান সরকারি ভাবে কিংবা কোন প্রতিষ্ঠান যদি আমাদের বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতো তাহলে এই হস্তশিল্পের আরো প্রসার ঘটতো এবং আমরাও বেশি লাভ করতে পারতাম।
এবিষয়ে রাণীনগর শের-এ বাংলা (ডিগ্রি) মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোফাখ্খার হোসেন খাঁন পথিক বলেন, রঙ্গিন কাগজের এই কৃত্রিম ফুল তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ হস্তশিল্প। উপজেলার অনেক লোক এই কৃত্রিম ফুল তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত আছে। যদি সরকারি বা কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের উচ্চ প্রশিক্ষণ ও বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে জনপ্রিয় এই হস্তশিল্পের আরো প্রসার লাভ করবে।