কাজী আরেফসহ পাঁচ জাসদ নেতার হত্যা দিবস আজ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২২, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


আজ বেদনাবিধুর ১৬ ফেব্রুয়ারি। এই দিনে কুষ্টিয়ায় জাতীয় পতাকার রূপকার ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদসহ পাঁচ জাসদ নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাসবিরোধী এক জনসভায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাসদ সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদ, জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলী, স্থানীয় জাসদ নেতা ইসরাইল হোসেন ও শমসের মন্ডল সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিনই পুলিশ বাদি হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করে। মামলাটি পরদিন সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের সাড়ে পাঁচ বছর পর ২০০৪ সালের ৩০ আগস্ট কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১০ আসামির ফাঁসি ও ১২ আসামির যাবজ্জীবন কারাদ- দেন। রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল করলে ২০০৮ সালের ৫ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নিম্ন আদালতের মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ১০ আসামির মধ্যে ৯ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির সাজা মওকুফ করেন হাইকোর্ট।

এরপর হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ফাঁসির তিন আসামি রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু, আনোয়ার হোসেন ও সাফায়েত হোসেন হাবিব ওরফে হাবি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। ২০১১ সালের ৭ আগস্ট প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি শেষে আপিল করা ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের ৯ জনের সাজা বহাল রাখেন।

পরে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ করলে তাও ২০১৪-এর ১৯ নভেম্বর খারিজ করে দেন আদালত। এরপর ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি গভীর রাতে যশোর কারাগারে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত তিন আসামি আনোয়ার হোসেন, রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু ও সাফায়েত হোসেন হাবিবের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা তাতে স্বস্তি প্রকাশ করলেও তাদের দাবি এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীরা আজও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ঘাতকদের অনেকেই এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা দানা বেঁধেছে নিহতদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মাঝে।
সেদিনের ওই জনসভার সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী স্থানীয় জাসদ নেতা হেলাল উদ্দিনও হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে জনসমক্ষে এনে বিচার করার দাবি জানান।