কাজ শেষ হতে না হতেই ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ধস ।।এলাকায় আতঙ্ক

আপডেট: আগস্ট ২, ২০১৭, ১:০১ অপরাহ্ণ

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী


ঈশ্বরদীতে কাজ শেষ হতে না হতেই পদ্মা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ এভাবে ধসে পড়ছে -সোনার দেশ

ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নে পদ্মা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হতে না হতেই বাঁধের কয়েকটি অংশে ধস নেমেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ (বালুর বস্তা) দিয়ে ডাম্পিং না করায় এবং নদীর পাড় থেকে মাটি কাটা ও বালুস্তূপ করে রাখায় বাঁধের প্রতিরক্ষা সিসি ব্লকগুলো ধসে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। বাঁধের কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার এক মাসের মধ্যেই এ ধসের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসরিন আক্তার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিমুল আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পাবনা কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে নাটোরের লালপুরের তিলকপুর থেকে গৌরীপুর পর্যন্ত পদ্মা নদীতে ৯ দশমিক ৬৫ মিটার ও ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নের কোমরপুর থেকে সাঁড়া ঝাউদিয়া রেলের গাইড বাঁধ পর্যন্ত ৬ হাজার ৬২০ মিটার প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ শুরু হয়। কাজের মধ্যে ছিল নদীপাড়ে পানির নিচে জিও ব্যাগ ও ব্ল¬ক দিয়ে ডাম্পিং করা এবং সর্বনিম্ন লেভেল থেকে গাইডব্যাংক পর্যন্ত নদীপাড় সিসি ব্ল¬ক দ্বারা আচ্ছাদিত করা। এ কাজে ২২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের সময় কিছু অংশ বাদ পড়ায় এবং দৈর্ঘ্য-প্রস্থ কমে আসায় নির্মাণ ব্যয় কমিয়ে ১৯৮ কোটি টাকা করা হয়। চলতি বছরের ৩০ জুন নির্মাণ কাজ শেষ হয়। কিন্তু কাজ শেষের এক মাস পার হতে না হতেই প্রতিরক্ষা বাঁধে বিভিন্ন অংশে সিসি ব্ল¬ক সরে ফাঁক হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে সাঁড়া ঝাউদিয়া রেলের গাইড বাঁধ সীমানার অংশে ব্লক ধসে দেবে গেছে।
গত সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝাউদিয়া বাঁধের পূর্ব পাড়ে প্রায় ২০ ফুট জায়গার মাটি ও সিসি ব্ল¬ক ধসে গেছে। বাঁধের পাড়ের মাটিও সরে যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা সিসি ব্লকের প্রায় ১৫ ফুট বাঁধ দেবে গেছে। ওই স্থান থেকে শুরু করে সাঁড়াঘাটের আসাদের বাড়ি পর্যন্ত প্রতিরক্ষার সিসি ব্লকগুলো একটা থেকে আরেকটি সরে গেছে। এলাকার লোকজন অভিযোগ করে বলেন, ‘বাঁধের ব্লক স্থাপনের সময় বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) দিয়ে ডাম্পিং করার নিয়ম যথাযথভাবে পালন করা হয়নি। অল্প কিছু বস্তা ফেলে ডাম্পিং করা হয়েছে। বাঁধের নিচে পুরোনো বোল্ডার (পাথর) সরিয়ে ফেলা হয়েছে। শুধু ঝাউদিয়া অংশে নয়, বাঁধের বিভিন্ন স্থানে সিসি ব্ল¬ক সরে যাচ্ছে। ফলে আমরা আতঙ্কিত।’
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসরিন আক্তার বলেন, তিনি পরিদর্শনে এসে বাঁধের কিছু অংশে ধস ও দেবে যাওয়ার সত্যতা পেয়েছেন। জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন। এবং পাউবো কার্যালয়ে জানানো হবে বলে জানান।
সাঁড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রানা সরদার বলেন, অতি বর্ষণের কারণে বাঁধের বিভিন্ন ফাঁক গলিয়ে পানি প্রবেশ করার অল্প কিছু ব্লক দেবে গেছে, তবে আতঙ্কিত হওয়ার মত তেমন কিছু হয় নি। তিনি এ জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণ কাজে ত্রুটি ছিল বলে মন্তব্য করেন।
পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, নির্মাণ কাজের গাফিলতি ছিল না। বাঁধের পাশ থেকে স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাটি ও বালু কেটে নেওয়ার কারণে বৃষ্টির পানিতে মাটি ও বালু ধসে যাওয়ায় সিসি ব্লকের কিছু অংশ দেবে ধসে গেছে। যেসব স্থানে ধস নেমেছে, সংশ্লি¬ষ্ট ঠিকাদারের মাধ্যমে তা ঠিক করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।