কাতারে বেজে উঠলো বিশ্বকাপের বাঁশি মহারণে সামিল হয় সবাই

আপডেট: নভেম্বর ২১, ২০২২, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ সময় রোববার (২০ নভেম্বর) রাত ১০টায় কাতার ও ইকুয়েডর ম্যাচ দিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের রেফারির বাঁশি বেজে উঠেছে। চলবে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই উদ্মাদনা মরুর দেশ থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে রোববার রাত ৮টায় শুরু হয়েছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জমকালো আয়োজনের আনুষ্ঠিকতা। এই মহাযজ্ঞ স্বরণীয় করে রাখতে এবার অলিম্পিকের আদলে হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। কাতারের রাজধানী দোহার আল বায়াত স্টেডিয়ামে ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মার্কো বালিচের নির্দেশনায় আল বায়াত স্টেডিয়ামে ৩০ মিনিট ধরে চলেছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

এক মাস ব্যপী ফুটবল যুদ্ধের ময়দানে একে একে নামবে ৩২টি দেশ। কে জিতবে কাতার বিশ্বকাপ তা নিয়ে চায়ের আড্ডা থেকে সবত্র চলছে তর্কবিতর্ক। এরই মধ্যে পাড়া-মহল্লায় শুরু হয়েছে উত্তেজনা। এ উন্মাদনায় মেতেছেন সারাবিশ্বই। চোখ ধাঁধানো অনুষ্ঠান উপহার দিয়ে বিশ্বকে মুগ্ধ করতে সব দিক থেকেই চেষ্টা করে গেছে কাতার। বৈশ্বিক মন্দার ভেতরেও তাই কোটি কোটি ডলার খরচ করতে দ্বিধা করেনি দেশটি। আল বায়াত স্টেডিয়ামে ৬০ হাজার দর্শক উপস্থিত থাকলেও টিভিতে কোটি কোটি মানুষ উপভোগ করেছেন অনুষ্ঠানটি।
১৯৩০ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের গোড়াপত্তন হয়েছিল। ২০২২ সালে এসে তা ২২তম আসরে গিয়ে ঠেকেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে প্রথমবারের মতো শুরু হলো এই বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এক মহাযজ্ঞ। যেই আকর্ষণ শুধু চুম্বকের মতো টানেই না, নিয়ে যায় অতলেও। ১৯৭১ সালে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর কাতার একটু একটু করে নিজেদের গড়ার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। অফুরন্ত প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি করে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশের তালিকায় কাতারিদের নাম রয়েছে। আর তাই তো বিশ্বকাপের মতো বড় আসর সফল করতে ২১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে তাদের কুণ্ঠা নেই। আয়তনে ঢাকার প্রায় চারগুণ কাতার। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এতো কম আয়তনের দেশে যে আগে কখনও এমন আসর হয়নি! আর তা সফল করতে স্বাগতিকদের চলছে রাত-দিনের প্রচেষ্টা। বিশ্বকাপ উপলক্ষে নতুন করে হয়েছে সাতটি স্টেডিয়াম। আর পুরনো স্টেডিয়ামটির হয়েছে বড় সংস্কারও। হয়েছে মেট্রোরেল, হোটেল, রাস্তাঘাটসহ অনেক কিছুই। আর সবার কথা চিন্তা করে এই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ হচ্ছে শীত মৌসুমে। যদিও এখন কাতারের আবহাওয়া কম উত্তপ্ত নয়। তবে স্টেডিয়ামগুলো তাপানুকূল করে রাখায় গরমের তেজটা সেভাবে অনুভব হবে কমই।
বিশ্বকাপের রং উজ্জ্বল করতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা শহরে পা দিয়েছে। অন্যরাও এসেছে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সামনে হেক্সা জয়ের মিশন। ২০০২ সালের পর নেইমার-পাকেতাদের হাতে ট্রফি দেখার অপেক্ষায় সমর্থকরা। আর ১৯৮৬ সালের পর লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখলে আনন্দে আত্মহারা হবে অন্য সমর্থকরা। তাদের চোখ রাঙানি দিতে এমবাপ্পে-করিম বেনজেমা কিংবা লুকাকু, কেইনরা কম যাবেন কেন। তাই আমরা পারস্য উপসাগরের তীরে বিশ্বকাপের মহারণে সামিল হয় সবাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ