কানসাটে আমের মণ ৫২ কেজিতে, বিপাকে চাষী ও বিক্রেতারা

আপডেট: জুন ১৫, ২০২২, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি:


অন্যান্য নছরের মত এ বছরও ৫০-৫২ চট্টগ্রাম উপজেলার কানসাট আম বাজারে ৫০-৫২ কেজিতে এক মণ ধরে আম ক্রয় করছেন আড়তদাররা। এতে বিপাকে পড়েছেন আমচাষি ও বিক্রেতারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সমস্যা দ্রুতই সমাধান করা হবে। মঙ্গবার দুপুরে সরজমিনে কানসাট আমবাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে। আম চাষিদের জিম্মি করেই ৫০-৫২ কেজিতে একমণ ধরে আম ক্রয় করছেন আড়তদাররা। এমনকি ৫২ কেজিতে মণ ধরে আম বিক্রি করতে অপারগতা প্রকাশ করলে ভোগাস্তি পোহাতে হচ্ছে চাষিদের।

আম বিক্রি করতে আসা শ্যামপুর এলাকার আরিফ আলী বলেন, এ বছর অন্য বছরের থেকে গাছে আম অনেক কম ধরেছে। আর এদিকে আম বিক্রি করতে এসে শুনছি ৫২ কেজিতে এক মণ ধরা হবে। এতে আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। এর আগেও বলা যায়, গত বছরও আমাদের জিম্মি করে ৫২ কেজিতে মণ নিয়েছেন আড়তদাররা। আর এবার ফের ৫২ কেজিতে মণ নিচ্ছেন। এমন চলতে থাকলে আমরা কিভাবে কীটনাশক খরচ পরিশোধ করব।

কানসাট পুখুরিয়া এলাকার বিপ্লব বিশ্বাস বলেন, আম হচ্ছে কাচা পণ্য। তবে গত বছর হঠাৎ আড়তদাররা ৫০ কেজিতে মণ নেয়া শুরু করে। এবার ফের বলছে ৫২ কেজিতে মণ বিক্রি করতে হবে। এতে আমরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে গেছি। তিনি বলেন, আম বাজারে এক কথা বলে আম কিনেন আড়ৎদাররা আর ঘরে গিয়ে ওজনের সময় খারাপ আচরণ করে।

আমরা কিছু বলতে পারিনা। কানসাটে আম বিক্রি করতে আসা জিয়াউর নামে এক কলেজ শিক্ষক বলেন, গত ১০ দিন থেকে এ কানসাট বাজারে আম বিক্রি করতে আসছি। এদিনগুলোতে এমন কোন দিন নেই যে আড়তদারদের সঙ্গে ঝামেলা হয়না। আড়তদাররা সাফ বলছে ৫২ কেজিতে মণ নিব। প্রতিবেদকের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন শতাধিকের বেশি আম চাষি।

কানসাট আম আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক টিপু বলেন, কানসাট বাজারে ওজন নিয়ে একটি ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে। এটি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধান করা হবে। শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিডেটের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খান শামীম বলেন, কানসাট বাজারে আম চাষিদের জিম্মি করে ৫০ কেজিতে মণ নিচ্ছে আড়তদাররা।

এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন হাজারো চাষি। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত। আর জেলার সব আম বাজারে এটি ওজনে মণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হায়াত বলেন, কানসাট আম বাজারে ওজন নিয়ে একটি ঝামেলার বিষয়টি শুনেছি। পরে জেলার অন্য আম বাজারের সঙ্গে ওজন মিলিয়ে এ বাজার চালানো নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে আমের মণ ৫২ কেজিতে নিচ্ছে আপনার কাছে শুনলাম। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ