কানসাটে জমে উঠে নি আমের বাজার হতাশ আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা

আপডেট: জুন ২০, ২০১৭, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ


কানসাটে এখনও জমে উঠেনি আমের বাজার- সোনার দেশ

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ হলেও উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বড় এ মৌসুমে ওজন ও মণ প্রতি কমিশনসহ বিভিন্ন জটিলতায় দেরিতে আম কেনাবেচা শুরু হয়। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন সমস্যা ও হতাশায় জর্জরিত আম ব্যবসায়ীরা।
সরজমিনে গিয়ে আম ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর ঝড় ও শিলায় শিবগঞ্জের আমের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় একদিকে আমের উৎপাদন কম, অন্যদিকে দেরিতে আম কেনাবেচার শুরু হওয়ায় বড় বড় ব্যাপারীরা এখনো কানসাটমুখী হয় নি। এ কারণে আমের বাজারও জমজমাট হচ্ছে না। গত শুক্রবার সকালে কানসাট বাজারে ঘুরার সময় অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। দুই একটা ভ্যান ও সাইকেল আম নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুটা এগিয়ে গিয়ে কানসাটের মূল বাজারে দেখা গেল জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সাইকেলে, ভ্যানে করে দাঁড়িয়ে আছে বিক্রেতারা। আম নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা হুসেন আলি জানান, নিজ বাগানের বোমবাই ও ল্যাংড়াজাতের আম নিয়ে এসেছি। কিন্তু বড় ব্যাপারী না থাকায় কেউ আম নিচেছ না। যে কয়জন আছে তারা আশানুরূপ দাম বলছে না। বেশি ব্যাপরী নামলে আমের দাম ভালো পাওয়া যায়।
মাসুদ রানা নামে একজন আমচাষি ফ্রুট ব্যাগ প্রযুক্তিতে উৎপাদিত আম বিক্রি করলেন দুই হাজার ৩৫০ টাকা মণ ধরে। তিনি জানালেন, ফ্রুট ব্যাগ করেছিলেন ৫০ হাজার আমে, নানাবিদ কারণে বিদেশে রফতানি হচ্ছে না। তাই কানসাটে নিয়ে এসেছি।
কানসাট বাজারে আম কেনা আম ঢাকায় পাঠান শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, এবার কানসোটে আমের দর বেশি হওয়ায় ঢাকায় আম পাঠিয়ে লাভ হচ্ছে না। তবে আম ব্যবসায়ীরা বলছেন তাদের ক্ষতি হচ্ছে। দাম চড়ার কারণ হিসাবে তিনি বলেন, এবার ঝড় ও শিলার কারণে শিবগঞ্জে আমের উৎপাদন কম হওয়ায় আম ব্যবসায়ী (ব্যবসায়ীদের) লক্ষ্যমাত্র ঘাটতি হওয়ায় গতবারের চেয়ে দাম কিছু বেশি হলে তারা যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্তের সম্মুখীন। অন্যদিকে যখন আম পাঠানোর চিন্তা করছি, তখন দেখছি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়া দেশের অন্য এলাকার আম কিছুটা কম দামে ও বেশি ওজনে কিনে ব্যাপারিরা ঢাকা পাঠাচ্ছে, তখন ঢাকার আড়তে বেশি দামে আমাদের আম নিতে চায় না।
কানসাট আম বাজর ঘুরে দেখা গেছে, ভালো মানের খিরসাপাত (হিম সাগর ) বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ দুই হাজার ৫শ থেকে দুই হাজার ৬শ টাকায়, মাঝারি মানের দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২শ টাকা ও ছোট সাইজের এক হাজার ৪শ থেকে এক হাজার ৬শ টাকা।
অন্যদিকে ভালো মানের ল্যাংড়া বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ দুই হাজার টাকায়, মাঝারি মানের এক হাজার ৫শ টাকায়, ছোট সাইজের ল্যাংড়া বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২শ হতে এক হাজার ৩শ টাকায়। বিভিন্ন ধরনের গুটি আম বিক্রি হচ্ছে ৮শ থেকে এক হাজার ২শ টাকার মধ্যে। সব আমই বিক্রি হচ্ছে ৪৫ কেজিতে মণ হিসাবে। সেই সাথে আরো এক কেজি আম দিতে হচ্ছে আড়তদারকে।
এদিকে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আম পাঠানোর প্রতিবছরের ন্যায় কানসাট বাজারে গড়ে উঠা প্রায় আড়াইশ আমের আড়তের এখনো অর্ধেকমতো চালু হয় নি।
কানসাটে একটি বড় আমের আড়ত মেসার্স শফিকুল ট্রেডার্সর মা মালিক শফিকুল ইসলামের সাথে জানান, এ বছর আমের আমদানি কম, ঝড় ও শীলার কারণে আমের উৎপাদন কম হয়েছে। তাই ব্যবসার পরিস্থিতি খুব ভালো না।
তিনি জানান, অন্যান্য বছর এসময় তার আড়ত থেকে প্রতিদিন ৫-৬ ট্রাক আম পাঠাতে পারলেও এবার অনেক ব্যাপারী এখনো না আসায় গড়ে দুই ট্রাক আম নিয়ে যাচ্ছেন। তার আড়তে কাজ করার জন্য ৬০ জন শ্রমিকের মধ্যে এ পর্যন্ত ২০ জনকে কাজে লাগাতে পেরেছেন। ঈদের পর বড় বড় ব্যাপারীরা কানসাটমুখী হলে ব্যবসা ভালো হবে।
তবে ঝড় ও শিলায় আমের ক্ষতি হলেও সব মিলিয়ে গড় উৎপাদন ব্যাহত হবে না বলে মনে করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হুদা। তিনি জানান, জেলায় এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল দুই লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন হবে দুই লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন। তবে তিনি ঝড় ও শিলায় শিবগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নসহ নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলার আংশিক এলাকায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে স্বীকার করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ