কানসাট আম বাজারে খালি ক্রেট বহনকারী যানবাহনে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

আপডেট: June 10, 2020, 9:55 pm

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি:


উপজেলার কানসাট আম বাজারে খালি ক্রেট ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছে জোরপূর্বক চাঁদা বা খাজনা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে কানসাট আম বাজার হাট ইজারা কমিটির বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে কানসাট বাজার খালি ক্রেট ব্যবসায়ী দোকানদার সমিতি এর প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্নভাবে উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন । অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এবং কানসাট বাজারে স্থায়ী ক্রেট দোকান থেকে খালি ক্রেট ক্রয় বা বিক্রয় করে ভ্যান-ট্রলি এবং নসিমন ও করিমনযোগে কানসাট আম বাজারের উপর দিয়ে ক্রেতাদের গন্তব্য স্থানে নিয়ে গেলে তাদের কাছ থেকে আম বাজার হাট ইজারাদার ক্যারেট প্রতি ৬ টাকা খাজনা নিচ্ছে।
আর ক্রেট বহনকারী যানবাহন যদি ক্রেটের খাজনা না দেয় তাহলে কোনো প্রকার খালি ক্রেট এই আম বাজারের উপর দিয়ে তাদের গন্তব্য স্থানে পৌঁছাতে পারবে না।
তবে, আম বাজার হাট ইজারা কমিটির দাবি তারা সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পরবর্তী খাজনা আদায় করছেন।
এ ব্যাপারে কানসাট বাজারের খালি ক্রেট ব্যবসায়ী দোকানদার সমিতি সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমরা স্থায়ী ক্রেট ব্যবসায়ী। আমরা অনেকে জমির মালিকদের কাছ থেকে ঘর ভাড়া নিয়ে ১২মাস ক্যারেট ক্রয়-বিক্রয় করে আসছি। আমরা ক্রেট প্রতি ১/২ টাকা লাভে বেচা কেনা করে থাকি। কিন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে যাওয়া ক্রেট ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রতি ক্রেট ৬ টাকা খাজনা আদায় করছে ইজারাদার কমিটি। যেটা আদৌ তাদের সিডিউলে নাই। তাদের এই খাজনা আদায়ের কারণে সাধারণ ক্রেট ক্রেতারা আমাদের কানসাট আম বাজার আসছেন না। এতে আমাদের ব্যবসায় লোকসান দেখা দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা দোকানদারেরা বিভিন্ন ইউনিয়নের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে এই খালি ক্রেট ব্যবসা করছি। তারপর আম বাজার হাট ইজারা কমিটি জোরপূর্বক এই খাজনা আদায় করছে।
তিনি বলেন, আমরা এই সমাধান চেয়ে দেশে লকডাউন আসার আগে জেলা প্রশাসককে ডাকযোগ গত ২৪ মার্চ ডাক রেজিস্ট্রার নম্বর-০২০ লিখিত আবেদন দিয়েছি। এছাড়া এর অনুলিপি উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র, কানসাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মোবারকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে কানসাট আম বাজার হাট ইজারা কমিটির সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম জানান, আমরা সরকারের কাছ থেকে হাট বাজার ক্রয় করেছি এবং নীতিমালা অনুযায়ী খাজনা আদায় করছি। সরকারের নীতিমালায় আছে কানসাট আম বাজারে প্রতি ক্রেটের খাজনা ৬টাকা নির্ধারিত করা হয়েছে। আমরা তাদের কাছ থেকে সেটাই আদায় করছি।
তিনি আরো বলেন, খালি ক্রেট ব্যবসায়ীরা আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় না বসেই তারা নিজের ব্যবসা করছে। তারা যদি আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবসা শুরু করতো তাহলে এই সমস্যা হতো না। এছাড়া কানসাটের বাইরে থেকে বিভিন্ন পরিবহনে আসা খালি ক্রেটে কোনো খাজনা আদায় করা হয়নি। হয়তো ক্রেট বহনকারী চালক আমাদের আদায়কারীদের বুঝাতে না পারার কারণে ২/১জনের কাছে খাজনা আদায় করেছে। এটা ভুলবশতঃ। তবে, আমরা নীমিমালা অনুযায়ী ক্রেট প্রতি ৬টাকা করে খাজনা আদায় করছি।
এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাকিব-আল-রাব্বি জানান, আমি সবেমাত্র যোগদান করেছি এই উপজেলায়। শুধু এবিষয়টি নয়, উপজেলার অনেক কিছু আমার এখনো জানা হয়নি। উপজেলার বিভিন্ন বিষয়াদি জেনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।