কানসাট আম বাজারে নেই স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই

আপডেট: July 13, 2020, 10:52 pm

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি:


‘জানি যে করোনা ভাইরাস প্রাণঘাতি রোগ, প্রশাসন বেশি বেশি করে প্রচারনা চালাচ্ছে তারপর আমার মাস্ক ব্যবহার করা হচ্ছে না। ভাল লাগে না, তাই মাস্ক ব্যবহার করি না। তবে মাস্ক কিনেছি। নিজের কাছে রেখেছি। প্রশাসনের লোক দেখলেই ব্যবহার করছি।’ কথাগুলো বললেন, আমবাজারের বিক্রেতা কানসাট ইউনিয়নের শিবনারায়ণপুর গ্রামের মাইনুল ইসলাম।

শুধু মাইনুল ইসলাম নয়, একই কারণে কানসাট আমবাজারে আসা ফতেপুর কর্নখালী গ্রামের বাদশা, মনাকষা ইউনিয়নের সিংনগর গ্রামের হামিদুর রহামন, দূর্লভপুর ইউনয়িনের আজবুগী গ্রামের জেন্টুসহ শত শত আম ক্রেতা- বিক্রেতার মুখে কোন মাস্ক নেই।
সরজেিমন দেখা গেছে ভয়াবহ অবস্থা। আম বাজারে মানুষের উপচে পড়া ভীড়। নেই কোন সামজিক দূরত্ব। নেই কোন স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ। নেই কোন নিয়ন্ত্রণ। অসচেতনতার যত ধরন থাকতে হয় তা সবই আছে।

সাইকেল ও ভ্যান বাজারে দেখা গেছে একজন অন্যজনের গা ঘেঁষে কথা বলছে। হাঁচি কাশি দেয়ার সময় কোন সাবধানতা নেই। আড়তগুলোতে দেখা গেছে করোনার প্রতিরোধে কোন স্বাস্থ্য বিধি না মেনেই আম প্যাকেটের কাজ চলছে।

হাট ইজারাদাররা শুধু একটি ঘরে বসে মাইকিং করেই দায়িত্ব শেষ করছে। রাস্তাঘাটের অবস্থা আরো ভয়াবহ। সাধারণ জনগণের যাতায়াতের কোন উপায় নেই। আমের ভ্যান, সাইকেল ও ট্রাকে ভরপুর রাস্তা। সব মিলিয়ে করোনার ছড়ানোর সব রকম পরিবেশ রয়েছে কানসাট আম বাজারে। যদিও মাঝে মাঝে প্রশাসনের লোক বাজারে টহল দিচ্ছে।

ঢাকা থেকে আসা আড়তাদার আহসান আলি বলেন, ব্যবসার জন্য কানসাট এসেছি,তবে আমের বাজারে কোন সচেতনতা না থাকায় খুব ঝুঁকির মধ্যে আছি।
আম আড়তদার ব্যবসা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক উমর ফারুক টিপু জানান, কানসাট আম বাজারে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে ব্যাপকভাবে প্রচারনা চালাচ্ছি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে ৩ শ টি পিপিই, হ্যান্ডস্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাবসহ বিভিন্ন ধরনের উপকরাদি বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে তারা এগুলো ব্যবহার করছে না। তাই আমরাও যথেষ্ট ঝুঁকির মধ্যে আছি। তবে এ ঝুঁকি থেকে বাঁচতে আমরাা আরো বেশী তৎপর হবো। প্রয়োজনে প্রশাসনকে আরো কঠোর হওয়াার জন্য অনুরোধ করবো।

 

এব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুল আলম শাহ বলেন, আমরা অভিযান শুরু করেছি। রোিববার (১২ জুলাই) ৬৩ জনকে মাস্ক ব্যবহার না করার জন্য আটক করে পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১শ ও ৩শ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে অভিযান চলছে, এপর্যন্ত ৬০ জনকে আটক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১শ টাকা করে জরিমান করা হয়েছে। প্রয়োজনে আমরা আরো কঠোরভাবে অভিযান চালাবো।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল রাব্বী জানান, করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের অভিযান অব্যহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, কানসাট আম বাজারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে করোনা প্রতিরোধে শতভাগ জনসচেতনতা সৃষ্টি করবো।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মদ শিমুল বলেন, করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টিতে নিজে সরাসরি কাজ করছি। প্রশাসন অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়েছে। আজকে বিশেষ করে কানসাট বাজারে মাস্ক না পড়াসহ বিভিন্ন ভাবে অসচেতন থাকায় শতাধিক লোককে জরিমানা করা হয়েছে। অনেককেই নিজে মাস্কসহ অন্যান্য উপকরণ কিনে দিয়েছি। তারপর মানুষ সচেতন না হলে আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।