কান্দাহার বিমানবন্দরে তালিবান তাণ্ডব, পরপর রকেট হানায় ক্ষতিগ্রস্ত রানওয়ে

আপডেট: আগস্ট ১, ২০২১, ২:০২ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


তালিবানি হামলায় বিধ্বস্ত আফগানিস্তান। ক্রমশ গোটা দেশের দখল নিচ্ছে তারা। এবার সরাসরি কান্দাহার বিমানবন্দরে হামলা চালাল এই জঙ্গিগোষ্ঠী। শনিবার রাতে কান্দাহার বিমানবন্দর লক্ষ্য করে পর পর তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। যার জেরে আপাতত বন্ধ বিমানের ওঠানামা।
তালিবানের মুহুমুহু হামলায় এই মুহূর্তে কোণঠাসা আফগান সেনা ও সরকার। প্রাদেশিক রাজধানীগুলি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। তালিবানের পাখির চোখ পশ্চিমের প্রাদেশিক রাজধানী হেরাট এবং দক্ষিণের শহর লস্করে গহ। গুরুত্বের বিচারে আফগানিস্তানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর কান্দাহার। এই বিমানঘাঁটি থেকে একদিকে আফগান সেনাকে যেমন লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করা হয়। তেমনই বিমান হানা চালাতেও মেলে সহায়তা। ফলে এই বিমানঘাঁটি দখল করতে চাইছে তালিবানরা। গত কয়েকদিন ঘরেই এই এলাকা ঘিরে ফেলছিল তালিবান জেহাদিরা। তাদের ভয়ে শহর ছাড়ছেন বহু মানুষ।
কান্দাহার শহরে প্রবেশ করতে না পারলেও বাইরে থেকেই হামলা চালাচ্ছে তারা। শহরবাসীর মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে। সেই উদ্দেশ্যেই শনিবার রাতে কান্দাহার বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালায় তালিবানরা। যার জেরে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রানওয়ে। চলছে মেরামতির কাজ। তাই আপাত কান্দাহার বিমানবন্দরে বন্ধ বিমানের ওঠানামা। এ প্রসঙ্গে বিমানবন্দরের প্রধান মসউদ পশতুন জানান, “গত রাতে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে তালিবানরা। তার মধ্যে দুটি বিমানবন্দরের রানওয়েতে আঘাত হেনেছে। তাই আপাতত বিমান ওঠানামা বন্ধ রয়েছে।” রবিবার বেলা থেকে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন ওই আধিকারিক।
উল্লেখ্য, হেরাত, জালালাবাদ ও কান্দাহার শহরের অনেকটাই দখল করে ফেলেছে তালিবান। সেখানে আফগান ফৌজের সঙ্গে তুমুল লড়াই চলছে জেহাদিদের। সরকারি কমান্ডো বাহিনী ময়দান কামড়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দখল করা এলাকায় লুটপাট, তোলা আদায়, কমবয়সি ছেলেদের নিজেদের বাহিনীতে জোর করে যোগ দেওয়ানো ও মেয়েদের ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে তালিবান। ফলে রণক্ষেত্র ছেড়ে কাবুলের উদ্দেশে পালিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন