কান্না থামেনি সড়কে নিহত সিএনজি চালক তুহিনের পরিবারের

আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০২৩, ৯:২৯ অপরাহ্ণ


আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী):


পিতার মাতার কষ্ট লাঘব করতে লেখাপড়া বন্ধ করে সড়কে সিএনজি চালাতে শুরু করেন তুহিন আহম্মেদ মনা (২২)। সিএনজি চালিয়ে ৬ সদস্যের পরিবার ভালই চলছিল। অভাবের সংসারে ছেলের চোখে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল বৃদ্ধ বাবা-মা। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলের আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে যায় গোটা পরিবারের স্বপ্ন।

১৬ অক্টোম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে সিএনজি নিয়ে ঈশ্বরদীতে গ্যাস আনতে যাচ্ছিল। বাঘা-লালপুরের মহাসড়কের বাঘা পৌর এলাকার বানিয়াপাড়া জামে মসজিদের কাছে পৌছলে অপরদিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সাথে সিএনজি’র মুখামুখি সংঘর্ষে নিহত হয় মনা।

বাজুবাঘা ইউনিয়নের আহমোদপুর গ্রামের পিতা চমক আহম্মেদের সাথে তুহিনকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, আমি অসহায় সামান্য দিনমুজুর। রোজ খাটি, রোজ খাই। আমার ছেলের লেখাপড়ার করার খুব ইচ্ছা ছিল। অভাবের সংসার দেখে লেখাপড়া বাদ দিয়ে সিএনজি চালাতে শুরু করে। ছেলে এভাবে আমাদের রেখে চলে যাবে বুঝতে পারিনি। ছেলের রোজগারে সংসারের অভাব-অনটন দূর হবে এটা আশা করেছিলাম। কিন্তু তা হলো না।

মা তহমিনা বেগম বলেন, সংসারের অবস্থা ভাল দেখে দুই বছর আগে ছেলেকে বিয়ে দিয়েছিলাম। তাদের কোলজুড়ে দেড় বছরের সাপিয়া খাতুন আছে। বর্তমানে ছেলের স্ত্রী চিথি খাতুন ও দেড় বছরের সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে দিন যাপন করছি। ছেলে স্থানীয় স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে।

স্ত্রী চিথি বলেন, কন্যা সন্তানকে নিে কোথায় যাবো, কী করে খাবো, বাবার অবস্থাও ভাল না। এ নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।
এ বিষয়ে বাঘা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবদুল লতিফ মিঞা বলেন, বেপরোয়া চালকের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। সবাই সতর্কতার সাথে গাড়ি চালালে এমন দুর্ঘটনা ঘটবে না বলে তিনি মনে করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ