‘কাফির’ আখ্যা দিয়ে হত্যার হুমকি আফগানিস্তানে মানবিক বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী?

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

একবিংশ শতাব্দীতে সভ্যতাকে এগিয়ে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। বিশেষ করে ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের বাড়-বাড়ন্ত উন্নয়নকামী দেশে দেশে সভ্যতা বিকাশের ধারণাকে পর্যদস্তু করে তুলছে। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রগতির ধারাকে নস্যাৎ করার জন্য উন্মাদনা তৈরি করা হচ্ছে সমাজ-রাষ্ট্র যতটুকু এগায় তার চেয়ে অনেক বেশি পিছিয়ে পড়ে।
আফগানিস্তানে সেই করুণ চিত্র বিশ্ব দেখছে। তালিবানের শাসনে বিবর্তনের পথে পিছু হাঁটছে দেশটি। বিগত ২০ বছরে যা কিছু অর্জন তা নিমিষেই জলাঞ্জলি দেয়া হচ্ছে। দেশটির গণতন্ত্রমনা মানুষ পরবাসী হয়েছেন আর যারা দেশে আছেন তারা জীবন-মৃত্যুর মুখে অপেক্ষা করছে সম্ভাব্য করুণ পরিণতির জন্য। ইতোমধ্যে শিল্পী ও কবিদের উপর তালিবানি খড়গ নেমে এসেছে তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমে নৃশংসতা খবর, মানবাধিকার লঙ্ঘনের এন্তার খবর প্রকাশিত ও প্রচার হচ্ছে।
তালিবানি জমানায় আফগানিস্তানের নারীরা ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে পড়েছে। নারীশিক্ষায় লাগাম টেনে ধরা হয়েচে। তালিবানি নীতি-নির্ধারকরা বলছেন, নারী শুধুই সন্তান জন্ম দিবে এবং তার লালন-পালন করবে। দেশের উন্নয়নমূলক কোনো কাজেই তাদের অংশগ্রহণ মোটেও কাম্য নয়। নারীকে পরিপূর্ণরূপেই ভোগের সামগ্রী হিসেবেই তালিবানি জমানায় বিবেচনা করা হচ্ছে। মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলির যে কোন মূল্য যে নেই তা ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়েছে। তালিবানি জেহাদিরা নিজেদের কুৎসিত চেহারা ফের প্রকাশ্যে এে ছে। নারীদের অধিকারের দাবিতে মিছিল করা এক মানবাধিকার রক্ষা কর্মীকে ‘কাফের’ আখ্যা দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছে জেহাদিরা। হুমকির মুখেই আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে আফগান নারী ফুটবল দলের ৩২ জন সদস্য। হুমকির তালিকায় রয়েছেন একাধিক সাংবাদিকও।
আফগানিস্তান তালিবানের দখলে চলে যাওয়ার পর থেকে মানবাধিকার রক্ষা কর্মীদের উপর এ রকম হামলা প্রায় রোজকার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতা দখলের পরই তালিবানের সুপ্রিমো হায়বাতোল্লা আখুন্দজাদা সাফ জানিয়েছিল যে, গণতন্ত্র নয়, আফগানিস্তানে জীবন চলবে শরিয়ত আইন মেনে। ফলে ‘ইসলামিক আমিরশাহী’ বা ‘ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তান’-এ সংখ্যালঘু ও নারীদের পরিণাম কী হতে চলেছে তা স্পষ্ট। মানুষকে ‘কাফির’ ঘোষণা করে হত্যার ফতোয়া দিচ্ছে- কিন্তু তারা দেশটির ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র বিমোচনে করণীয় বিষয়টি মোটেও গুরুত্ব পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি সামাল দেয়া না গেলে দেশটি মানবিক বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে।
মানুষকে ‘কাফির’ ঘোষণা দিয়ে হত্যার হুমকি- এটা মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন। একটি ভীত-সন্ত্রস্ত আরোপিত রাষ্ট্র ব্যবস্থা যে অন্ধকার যুগেরই প্রতিচ্ছবি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মানবিক মূল্যবোধের জায়গায় সেখানে স্থান করে নিচ্ছে অসভ্য- স্বেচ্ছাচারিতা, বর্বরতা, নৃশংসতা। যা আফগানিস্তানকে নিয়ে যাচ্ছে ঘোর অন্ধকারে। জাতিসংঘ মহাসচিবের ভাষায়- ‘আফগানিস্তান এগোচ্ছে মানবিক বিপর্যয়ের দিকে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ