কামারদের ব্যস্ত সময় কাটছে

আপডেট: আগস্ট ২৭, ২০১৭, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ক’দিনের পর মুসলমাদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা বা কোরবানীর ঈদ। আর এই ঈদকে সামনে রেখে ঠনঠন শব্দে ব্যস্ততা বেড়েছে কামারদের। কেউ ভারি হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন দগদগে লাল লোহার খন্ড। কেউ শান দিচ্ছেন, কেউবা আইতনা দিয়ে কয়লার আগুনের বাতাস দিচ্ছেন। তবে এবার বন্যার কারণে ঈদের কাজ কমেছে বলছেন কামাররা। গত বছর যেখানে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার বিক্রি হয়েছে, সেখানে এবার ২ থেকে আড়াই হাজার টাকার কোরবানির হাতিয়ার বিক্রি হচ্ছে। এদিকে প্রতিকেজি চাপ্পর ৪০০ টাকা, চামড়া ছেলা চাকু ৫০ থেকে ১০০ টাকা, জবাই করা ছোরা ৩০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
এই কোরবানির ঈদে গরু, ছাগল ও উট কোরবানির পশু হিসেবে জবাই করা হবে। আর এসব পশুর গোস্ত কাটতে দা, বটি, ছুরি, ছোড়া ও চাপাতি ইত্যাদি ধাতব হাতিয়ার অপরিহার্য। এজন্য ব্যতিব্যস্ত দা, বটি, ছুরি, ছোরা ও চাপাতি শান দিতে সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ধাতব সরঞ্জামাদি শান দিতে কামারপাড়ায় ভিড় বাড়ছে মানুষের।
নগরীর নিউমার্কেট, জেলা স্টোডিয়াম, কোর্ট স্টেশন, বহরমপুর, উপশহর, কাটাখালি, চৌদ্দপাই, শমসাদিপুর বিভিন্ন এলাকায় কামারদের ব্যস্ততা বেড়েছে। কোরবানির জন্য ব্যবহৃত প্রতিপিস ছুরি, চাকু বটি ইত্যাদির আকার অনুযায়ী ১৫ টাকা থেকে শুরু করে ৬০ বা ৭০ টাকা নিচ্ছেন কামাররা। নিউ মার্কেট এলাকার খান মাস্টার কেঁচি সান ঘর প্রোপাইটার মো. ইসলাম বলেন, এক নম্বর স্পেশাল সবধরনের চাকু, ছুরি, চাপ্পর তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে। পুরানো হাতিয়ার শান দিয়ে ধারালো করা হচ্ছে।
নগরী ঘুরে দেখা যায়, ভ্রাম্যমাণ কামাররাও চষে বেড়াচ্ছেন নগরীর বিভিন্ন এলাকার ওলিগলিতে। আর ভ্রাম্যমাণ কামারদের কাছে পেয়ে মহাখুশি নগরবাসী। যেহেতু কামারদের দোকান গুলোতে এখন খুব ভীড় বেড়েছে, সেহেতু বাড়িতে  হলে মন্দ কী ? আবার কেউ কেউ কামারদের কাছে পেয়েও সে সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন না। কারণ ভ্রাম্যমাণ কামারদের দেয়া শান তেমন ভালো হয় না তাদের মতে। নগর জুড়ে এখন কামারদের ব্যস্ততা লক্ষ্যণীয়।
ঈদের মাত্র আর কয়েক দিন বাকি। এজন্য নগরবাসী পশু কোরবানি করার জন্য শেষবারের মতো তাদের হাতিয়ারগুলো ধার দিয়ে নিচ্ছেন। গ্রাহকদের চাপে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। একটুখানি অবসরের সময় যেন নেই তাদের হাতে। সবসময় কাজ আর কাজ।
সরেজমিনে নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কামারদের কাজের ব্যস্ততা বেড়েছে। ঈদের আগের রাত পর্যন্ত কাজ করতে হবে বলে তারা জানান। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী কোরবানির হাতিয়ার তৈরি করে দিচ্ছেন বলে জানান।
বিভিন্ন এলাকার কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের সময় ছাড়া অন্য সময়গুলোতে তেমন একটা কাজ থাকে না বললেই চলে। দিনের বেশির ভাগ সময় বসেই কাটাতে হয়। নতুন হাতিয়ার তৈরির পাশাপাশি মুসলি¬রা পুরাতন হাতিয়ারগুলো ধার দিয়ে নিচ্ছেন। অন্য সময় কাজও থাকে না আয়-রোজগারও বেশি হয় না। সেজন্য অভাব-অনটনের মধ্য দিয়েই সংসার চালাতে হয়।
নগরীর ভাটাপাড়া এলাকার ফটিক ইসলাম নামের কামার জানান, ঈদের কারণে কাজের চাপ বেড়েছে। কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টিরও বেশি কাজ হচ্ছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার কাজ কমেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ