কামারপল্লীতে ব্যস্ততা বাড়লেই নেই কাজের চাপ

আপডেট: জুন ১৩, ২০২৪, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:


মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব পবিত্র ইদুল আজহা। এই ইদের প্রধান আকর্ষণ পছন্দের পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন। আর তাই তো পশুর হাটের মতোই জমেছে রাজশাহীর কামারপল্লী। কিন্তু এবছরের ব্যস্ততা বাড়লেও নেই কাজের চাপ।

বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ইদের মৌসুমে কামার শ্রমিকদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। যেন নিশ্বাস নেওয়ার সময় নেই শ্রমিক কিংবা খুচরা বিক্রেতাদেরও। ইদকে ঘিরে হাটের পাশাপাশি বিভিন্ন মোড়ে মোড়েও গড়ে ওঠে দা, বঁটি, চাকু, ছুরি কিংবা চাপাতির ভ্রাম্যমাণ দোকান। আর ক্রেতারাও এসব কিনতে হুমড়ি খেয়ে ভীড় জমান দোকানগুলোতে।
রাজশাহী নগরীর অন্যতম কামার পল্লী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম মার্কেট টুংটাং শব্দে মুখরিত। কামারের হাপরের টানে কয়লার চুলায় দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। জ্বলে ওঠা আগুনের ফুলকিতে লোহাও হয়ে উঠছে রক্তিম। দগদগে গরম লোহাকে হাতুড়ি পিটিয়ে নতুন রূপ দিচ্ছেন শ্রমিকরা। আবার পুরোনো দা, ছুরি এবং বঁটিতে শান দিতে ব্যস্ত অনেকেই।

কারিগরদের পাশাপাশি ব্যস্ততা বেড়েছে বিক্রেতাদেরও। পশুর হাট কিংবা বাজারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়েও নতুন অস্ত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছেন কেউ কেউ।
কামারদের দাবি, ইদ ঘিরে কামারপাড়ায় ব্যস্ততা বেড়েছে ঠিকই। অন্য বারের মতো চাপ এবার নেই বললেই চলে। যদিও পুরোনো অস্ত্রে শাণ দেওয়া, নতুন লোহা পুড়িয়ে ধারালো দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি বানানোর কর্মযজ্ঞ চলছে পুরোদমেই। এছাড়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে কমেছে লাভের অংক।

নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেটের কামার পুলক কর্মকার বলেন, আমার ৪০ বছরের ব্যবসা। বেচাবিক্রি এবার খুব কম। অর্ডার তেমন নেই বললেই চলে, কয়েকদিন থেকে ইদের অর্ডারের কাজ করছি। অন্য বছরের চেয়ে এবার অনেক কম।

তিনি আরও বলেন, এবার দৈনিক দুই-তিন হাজার টাকার জিনিস তৈরি হচ্ছে। অথচ আগে প্রতিদিন ছয়-সাত হাজার টাকার জিনিস তৈরি করছি। আসলে সব জিনিসপত্রের দাম বেশি, লোকের হাতে টাকাপয়সা নাই, মানুষ কিনবে কিভাবে।

একই এলাকার আরেক শ্রমিক ভাদু মিয়া বলেন, আমাদের কাজকাম এবার কম। অনলাইনে সব জিনিসপত্র পাওয়া যাচ্ছে। দশটার মধ্যে পাঁচ-সাতটা বিক্রি হচ্ছে। অনলাইনে সহজেই সব জিনিস পাওয়া যাচ্ছে, তাই আর এদিকে আসছে না।

এদিকে সিটি পশুর হাট, সাহেববাজার, শালবাগান, নওদাপাড়া কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ের মতো জনবহুল জায়গায় গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ দোকান। প্রবেশদ্বারগুলোতে দা, বঁটি, চাকু, ছুরি, চাপাতির অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। লোকজন যাওয়ার পথে যাচাই-বাছাই ও দরদাম করে জিনিস কিনছেন।
আরিফুল ইসলাম নামের এক পশু ব্যবসায়ী বলেন, ঈদ তো চলেই আসলো। কোরবানির মাংস কাটাকুটির জন্য একটা চাকু দরকার। তাই ভালো একটা চাকু খুঁজছি।

আশরাফ হোসেন নামের ভ্রাম্যমাণ দোকানী জানান, আকারভেদে দা, বঁটি, চাকু, ছুরি, চাপাতির দাম আলাদা। তবে বেচাবিক্রি একেবারে খারাপ না, মোটামুটি। মানভেদে পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১০০ থেকে ২৫০ টাকা, দা ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বঁটি ২৫০ থেকে ৫০০, পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা, চাপাতি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পুরোনো অস্ত্র শাণ দিতে এবং নতুন কিনতে আসা ইসমাইল হোসেন বলেন, বছরের অন্য সময়ের চেয়ে এসময়ে অনেক ভিড় থাকে। তবে কামারপাড়ায় অনেকগুলো দোকান থাকায় অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে কাজ করা যায়। তবে লোহার দাম বাড়ায় সব যন্ত্রপাতির দামও বেড়েছে। সেজন্য কিছু কিনছি আর কিছু শান দিতে নিয়ে আসছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ