কামারুজ্জামান : এক আলোকবর্তিকার নাম

আপডেট: জুন ২৬, ২০২২, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

নাজিম খোকন


শতাব্দি জুড়ে আলোর জয়গান, অন্ধকার সরে যায় মরে যায় কালো, আর আঁধার থেকেও উঁকি মারে জ্বলজ্বলে উজ্জ্বল জোতিষ্ক, পথ দেখায় আগামীর, তাঁদের দেখিয়ে যাওয়া স্মৃতিময় কর্মের দ্বারা উদ্বেলিত হয়ে প্রজন্ম পরম্পরা আলোকবর্তিকা হাতে এগিয়ে চলে বন্ধুর পথ।

স্মৃতিময় কর্ম ও বাণীর দ্যোতনা দিয়ে পথকে মসৃণ করে, পথকে সুন্দর সমৃদ্ধ করে। সে আলোর রশ্মিচ্ছটার উজ্জীবিত উত্তরের পরম্পরা পথকে গড়ে তোলে সুপথ এবং আলোকোজ্জ্বল। স্বদেশ সেই আলোর মহিমায় রূপায়িত হয় সেই দূরআকাশের তারা বা আলোর রূপকারের রেখে যাওয়া অঙ্কনে দিক নির্দেশনায়। এই যে পথ হাঁটা তার শুরু যে বা যারা করেন, করে দেন তারা মহিরুহ বা মাইলস্টোন।

রাজশাহী, এই রাজশাহী আজ সব মিলে পরিপূর্ণরূপে উদ্ভাসিতপ্রায় নগর কিন্তু এই নগরেও শোভিত সবুজের সমারোহ, পদ্মাও সেই খরস্রোতা নেই, নেই সেই জল অতল। কিন্তু তার পাড় এখন সুশোভিত শোভাময়তায় সমৃদ্ধ, এখানকার রাস্তাঘাট পয়ঃপ্রণালী শিক্ষালয় অট্টালিকাসমূহ দেখে অন্য জেলা হতে আসা মানুষ শিহরিত ও মুখরিত হয়ে ওঠে এর উদ্যোক্তার অরগানোগ্রাম বা ইতিবৃত্ত খুঁজলে বেরিয়ে আসবে অনেকানেক নাম। তাঁরা সব ইতিহাসের গর্ভে মৌন অবস্থানে, যদিও তারা নমস্য, আর তাঁদের প্রদানও শ্লাঘার। সেইসব মৌন হয়ে যাওয়া ঋষিরা ধীর লয়ে গড়তে চেয়েছেন এই নগরীকে তাঁদের সাধ্যের প্রাচুর্যে প্রকরণে, এসব দূর ইতিহাস।

এরপরে যখন তার উপর সোনায় সোহাগা পড়ে, স্ফুরিত হতে চলেছে মাত্র সেই সময়েই নেমে এলো পাষা-ের অবিমৃষ্যকারীদের খড়গহস্ত বন্ধুবেশি হন্তারকদের কালো হাতে কালো রাত্রীতে জেলহত্যার মতো নৃশংসতা। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুর পরিজনসহ আরও যারা তার আগেই পাষ-দের হাতে নিহত তারাই আবার তেসরা নভেম্বর পঁচাত্তরে ঢাকা পুরাতন জেলখানার অভ্যন্তরে দেশকে পাকিস্তানি পাপাত্মায় পূর্ণ করতে ছদ্মবেশি ঘাপটি মেরে থাকা নরপিশাচরা খুন করলো জাতীয় চার নেতাকে, তাজউদ্দীন আহম্মেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মুনসুর আলিসহ রাজশাহীর মহানসন্তান নতুন সমৃদ্ধ রাজশাহীর রূপকার কামারুজ্জামান হেনাকে। সমতল মাটির উপরের রাস্তাপথে সেই ঘাতক জান্তারা তাঁকে রাজশাহীতে এনে সমাহিত করতে সাহস পেলনা, আনলো আকাশপথে নির্জনে এবং আপামর জনতাকে তাঁর সমাধিস্থলে ঢুকতে দেওয়া হলোনা, নিরবে নিভৃতে দায় সারাভাবে তাঁকে কবরস্থ করা হলো।

কবর হলো, কবরে শুয়ে রইলেন কিন্তু জেগে থাকলেন এবং এখনও জেগে থেকে কর্মীদের মননে জাগিয়ে যাচ্ছেন নতুন উদ্যোমের কর্মপ্রেরণা। রাজশাহী তাঁর যোগ্য উত্তরসূরিদের দ্বারা তাঁর দেখানো পথে তাঁর স্বপ্নের শহর সম্মানিত শহর সবার আদৃত মোহনীয় আকাক্সিক্ষত শহর হয়ে উঠেছে। যারা অবিমৃষ্যকারী তারা হয়ত সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝাবেন যে এই রাজশাহী পিছনের পায়ে হাঁটছে, যারা আলোকে অন্ধকার দেখেন, সামনে কে পিছনে…পশ্চাদমুখিতাই তাদের ধ্যান জ্ঞান, সাথে মৌলবাদিতা, যা মানুষকে করে তোলে অমানুষ, করে তোলে হিংস্র শ্বাপদ, মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের বাতাবরণে আবদ্ধ করাই তাদের ধ্যান জ্ঞান কিন্তু তাঁর ( প্রয়াতঃ কামারুজ্জামানের ) সুযোগ্য উত্তরসূরিরা তাঁর মন্ত্রবলে তাঁর ফেলে যাওয়া নকশা ম্যাপে আলোর ধারায় রাজশাহীকে গড়ে তুলছে তিলোত্তমা নগরীতে।

এ কার স্বপ্নের ফসল, এ কার উদ্দীপনার প্রদীপ্ত ভাস্মরিত ভাষ্কর্য? নিশ্চয়ই আমরা ইতোমধ্যে জেনে গেছি সেই তাঁকে সেই নমস্যজন যিনি তাঁর রক্ত দিয়ে লিখে গেছেন রাজশাহীর আগামীর সমৃদ্ধ সুন্দর আলোকিত শান্তির মানবিকতার ভাস্মরিত নকশা ।
লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক