কামারুজ্জামান রাজশাহীতে সান্ধ্য আইন প্রত্যাহারের দাবি জানালেন

আপডেট: মার্চ ৯, ২০১৭, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



৯ মার্চ, ১৯৭১ সাল : এদিনও ভবন শীর্ষে এবং যানবাহনের বনেটে কালো পতাকা শোভিত ছিল ঢাকা নগরী। সচিবালয় ভবন ও হাইকোর্ট ভবনের শীর্ষে কালো পতাকা মৃদু হাওয়ায় আন্দোলিত হচ্ছিল। কিন্তু এই স্তব্ধতার পিছনে চলছিল সার্বিক সংগ্রামের সর্বাত্মক প্রস্তুতি।
অসহযোগ আন্দোলন ক্রমেই তুঙ্গে উঠতে শুরু করলো। নতুন নতুন তাৎপর্যে মহিমান্বিত হতে থাকলো আন্দোলনের গতি। যে কোন ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জনে বদ্ধপরিকর বাঙালি জাতি। কোন পরাভব তাকে ছুঁতে পারে না। বাঙালি জাতির স্পর্ধিত মাথা আকাশ ছুঁয়ে যায়। স্বাধিকার আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির পুরো নেতৃত্ব জাতীয়তাবাদী শক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন। মজলুম জননেতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এদিন পল্টন ময়দানে এক জনসভায় ভাষণ দিলেন। আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে তিনি বলেন, “একদিন ভারতের বুকে নির্বিচারে গণহত্যা করে জালিয়ানওয়ালাবাগের মর্মান্তিক ইতিহাস রচনা করে অত্যাচার-অবিচারের বন্যা বইয়ে দিয়েও পরাক্রমশালী ব্রিটিশ সরকার শেষ রক্ষায় সক্ষম হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। পাক-ভারত উপ-মহাদেশকে শত্রুতে পরিণত না করে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে মধ্যে একদিন যে সূর্য অস্ত যেত না, রুঢ় বাস্তবের কষাখাতে সে সা¤্রাজ্যের সূর্য আজ অস্তমিত। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকেও তাই বলি, অনেক হয়েছে আর নয়। তিক্ততা বাড়িয়ে আর লাভ নেই। ‘লা-কুম দ্বীনকুম অয়ালইয়াদিল’ (তোমার ধর্ম তোমার, আমার ধর্ম আমার)-এর নিয়মে পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা স্বীকার করিয়া লও।… মুজিবের নির্দেশমত আগামী ২৫ তারিখের মধ্যে কোন কিছু করা না হলে আমি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে মিলিত হয়ে ১৯৫২ সালের ন্যায় তুমুল আন্দোলন শুরু করিব। ‘খামোকা কেউ মুজিবকে অবিশ্বাস করবেন না, মুজিবকে আমি ভালো করে চিনি।’ তিনি সভায় ১৪ দফা কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
এদিন রাত ৯টা থেকে রাজশাহীতে আবারও ৮ ঘণ্টার সান্ধ্য আইনজারি করা হয়। নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এএইচএম কামারুজ্জামান সান্ধ্য আইন প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি রাজশাহীর নিয়ম-শৃংখলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশ বাহিনীর ওপর ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জহুরুল হক হলে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের এক সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অবিলম্বে জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান এবং স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ‘স্বাধীন বাংলাদেশ; প্রতিষ্ঠার ঘোষণা অনুমোদন করা হয়। পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বি.এ সিদ্দকী কর্তৃক গভর্নর হিসেবে লে. জেনারেল টিক্কা খানকে শপথ গ্রহণ করাতে অস্বীকৃতির ফলে উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এদিন চিফ মার্শাল ল’ অ্যাডমিনিস্টেটর সংশ্লিষ্ট সামরিক বিধি পরিবর্তন করে কসাই টিক্কা খানকে ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত করেন। এই নিয়োগ ৭ মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়।
প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান অদূর ভবিষ্যতে দেশের পূর্বাঞ্চল সফর করবেন বলে এ দিন রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রকাশিত এক সরকারি ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়।
এদিন পশ্চিম জার্মানির ১৯১ জন নাগরিককে থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। জাপানের পররাষ্ট্র দপ্তর ঢাকা থেকে ১৫০ জন জাপানি নাগরিককে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য চাটার্ড বিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। জাতিসংঘের ঢাকাস্থ কর্মচারীদের পরিবারবর্গকে সরিয়ে নেয়ার জন্য জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল মি. উথান্ট ঢাকাস্থ উপ-আবাসিক প্রতিনিধিকে ক্ষমতা দিলেন।
একই দিন ঢাকাস্থ সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে বেশ কিছু অ্যাসিড ও কিছু বিস্ফোরক দ্রব্য চুরি যায়।