কারাগারে বেকারি পণ্য উৎপাদন ।। মহতী উদ্যোগটি সফল হোক

আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০১৭, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে চালু হয়েছে আধুনিক বেকারি পণ্যের কারখানা। গত নভেম্বরে চালু হয়েছে এটি। সম্প্রতি দৃষ্টিনন্দন কমলা টি-টেবিল বানিয়ে সাড়া ফেলেছে এ কারাগার। এর বাইরে অন্তত ২৩৫ ধরনের বিভিন্ন কারুপণ্য প্রস্তুত করছেন বন্দিরাÑ যা কারাগারের নিজস্ব স্টলে বিক্রিও হচ্ছে। গত অর্থবছরে এ থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৫৬ লাখ টাকা। এছাড়া নতুন করে পুরুষ ও নারী বন্দিদের প্রশক্ষণে আলাদা পার্লার চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এখানে ২০ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী বন্দি প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। এর বাইরে প্রতি তিন মাস অন্তর ১৮ জন করে বন্দিকে সেলাই প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। কারামুক্তির পর স্বাবলম্বী করতেই বন্দিদের নিয়ে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিরেবদন দৈনিক সোনার দেশে শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে।
কারগারে উৎপন্ন বেকারি পণ্য বাজারজাত করার জন্য বিএসটিআই এর অনুমোদন লাগবে। আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদিত হলেই বেকারি পণ্যের বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হবে। উৎপাদনের জন্য ইতোমধ্যেই কারখানা অভ্যন্তরে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। কারাবন্দিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা হয়েছে। প্রশিক্ষিতরাই পাউরুটি, কেক ও বিস্কুট তৈরি করছে। কারাবন্দিদের সংশোধনাগার হিসেবে কাজ করছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার। এরই অংশ হিসেবে তাদের দেয়া হচ্ছে কর্মমুখি নানা প্রশিক্ষণ।
ভাল লাগার মত একটি উদ্যোগ। নানাভাবে, নানা কারণে মানুষ অপরাধের সাথে সম্পর্কিত হয়ে যায়। অপরাধের ধরণ অনুযায়ী সংািশ্লষ্টদের যেমন শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে, তেমনি তাদের সংশোধনের সুযোগ থাকাও বাঞ্ছনীয়। বর্তমান সরকার সেই কাজটিতেই বেশি করে মনোযোগী হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। মানুষকে আমরা বিচ্ছিন্ন করে দেখতে থাকলে বরং অপরাধ প্রবণতা গতি পায়। অপরাধজগত থেকে সংশ্লিষ্টদের বের করে আনার উদ্যোগ থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফল হওয়া যায়। তার পরেও ওই অপরাধী তার শাস্তি ভোগকালেই নিজেকে দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে তার মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হবেÑ তারা দক্ষ এবং সক্ষমতা লাভ করবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল- সে নিজেকে আত্মপ্রত্যয়ী হিসেবে ভাবতে শিখবে এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সে যে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়, তারও ভাল হয়ে ভালভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছেÑ এ বোধ দ্বারাও সে তাড়িত হতে পারেÑ যা আমাদের সমাজকে ইতিবাচকভাবে বদলে দিতে পারে।
অপরাধীদের শুধরানোর উদ্যোগ তো সরকার নিয়েছে। এই উদ্যোগের সফলতার জন্য যে যার মত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবে সেটিই তো প্রত্যাশিত। কারা কর্তৃপক্ষ বিএসটিআই এর অনুমোদনের জন্য  যে আবেদন করেছেন সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হওয়ার কথা নয়। সরকারের মহতী উদ্যোগগুলো সর্বক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে, এটিই তো হওয়া উচিৎ। বিএসটিআইও একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। কর্তৃপক্ষ নিশ্চয় তাদের শর্তপূরণ সাপেক্ষে অনুমোদনের কাজটি ত্বরান্বিত করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ