কারাগার এলাকায় হেলিকপ্টার অবতরণ || নিরাপত্তার দুবর্লতা সামনে এসেছে

আপডেট: আগস্ট ১২, ২০১৭, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

দেশের কারাগারগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টি খুব প্রকটাকারে জাতির সামনে এসেছে। গাজীপুরে উঁচুমাত্রায় নিরাপত্তা রয়েছে, এমন একটি কারাগার এলাকায় হঠাৎ করে অবতরণ করেছে একটি হেলিকপ্টার। পরে যাত্রীদের আটকের পর দেখা যায়, তারা বিয়ের দাওয়াতে এসেছেন, ভুলবশত কারাগারে নেমেছেন। বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে।
এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই কারাগারের মত একটি একটি স্পর্শকাতর সংস্থার এলাকায় হেলিকপ্টার অবতরণ বেশ আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। টনক নড়েছে বলা যায় উর্ধতন কর্তৃপক্ষের।
অবশ্য হেলিকপ্টারটির পাইলট অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার সোহেল লতিফ সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, যেখানে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করার কথা ছিল সেখানে পানি জমে থাকায় তিনি পার্শ্ববর্তী স্কুলের মাঠে অবতরণ করেন। তিনি জানতেন যে এটি কারা কর্তৃপক্ষের এলাকা, তবে কারাগারের মূল স্থাপনা থেকে তারা দূরে ছিলেন। আবহাওয়া খারাপ থাকায় আমি কারাগারের কাছে পাবলিক স্কুলের মাঠে ল্যান্ড করি। কিন্তু কোন অবস্থাতেই কারাগারের মূল এলাকার উপর দিয়ে উড়ে যাইনি।
পক্ষান্তরে জেল সুপার বলেছেন, এলাকায় এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম। তবে কারাগারের মূল এলাকায় অবতরণ করলে ঘটনাটি ভিন্ন হতে পারত। যদি কারাগারের মূল স্পর্শকাতর অংশে হেলকপ্টারটি ল্যান্ড করতো তাহলে নিরাপত্তারক্ষীদের রিঅ্যাকশনটাও অন্যরকম হতে পারতো। বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে এবং দুখঃ প্রকাশ করে মেঘনা এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ তাদেরকে একটি চিঠি দিয়েছে এবং তারা সেটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন।
হয়ত সঠিক যে, ওই হেলিকপ্টারটি ভুল করেই কারাগার চত্বরে নেমেছে। তবে এর সাথে দেশের কারাগারগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। ওই হেলিকপ্টার ‘ভুল’ না হয়ে ‘লক্ষ্য’ হলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্করই হতে পারতো। সন্দেহ নেই বাংলাদেশ এখনো জঙ্গি-ঝুঁকির দেশ। উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠির দণ্ডপ্রাপ্তদের অনেকেই জেলে আছে। তাদেরকে রক্ষা করতে অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা চালাতে তারা দ্বিধা করবে না। বর্তমান সরকারের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকায় তারা কোণঠাসা হয়ে আছে। তার মানে এই নয় যে, জঙ্গিদের তৎপরতা নেই। নিরাপত্তা ব্যবস্থার যে কোনো দুর্বলতার সুযোগ যে তারা নিতে পারেÑ তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
গাজীপুরের কাশেমপুর কারাগারের ঘটনা নিরাপত্তার দুর্বলতার দিক উন্মোচন করে দিয়েছে। একই দেশের সব কারাগারে নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। এ ব্যাপারে কালবিলম্ব না করে দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ