কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: অক্টোবর ৪, ২০২২, ৮:২২ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক :


আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ধরে রেখে সবাইকে ভিন্ন মত এবং ধর্মকে সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া যাবে না।

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মঙ্গলবার (০৪ অক্টোবর) বিকেলে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির অঙ্গনে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যে ধর্মেরই হোক, যেই হোক ধর্মীয় অনুভূতিতে কেউ আঘাত দিতে পারবে না। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কেউ কোনো কথা বলতে পারবে না। যেকোনো ধর্মের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য।

তিনি বলেন, আমরা যদি বিশ্বাস করি এই বিশ্ব সৃষ্টিকর্তার তৈরি, আল্লাহর তৈরি, যে যেভাবেই ডাকে না কেন সেই শক্তির প্রতি; যারাই যেভাবে যতটুকু যার যার বিশ্বাস থেকে সে যেভাবে উদযাপন করে সেখানে সবাকেই সম্মান দেখানো উচিত, কেউ কাউকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

ইসলাম ধর্মের উদারতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ইসলাম ধর্ম, এটা অনেক উদার ধর্ম, আমাদের ইসলাম ধর্মে এটা নির্দেশ আছে যেসকব ধর্মকে সম্মান দেখানো।

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আমরা জানি ৭৫ এর পর অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে… কখনো কখনো কিছু কিছু ঘটনা ঘটে। কিন্তু আপনারা নিশ্চয়ই একটা জিনিস লক্ষ্য করেছেন আমাদের সরকার সব সময় এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন যেকোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের এই দেশে যারা জন্মগ্রহণ করেছে, এই দেশে যারা বসবাস করে বা যারা বাংলাদেশের নাগরিক সে যে ধর্মেরই হোক যার যার ধর্ম সবাই স্বাধীনভাবে পালন করবে। আমরা কিন্তু প্রত্যেকটা উৎসবই ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে কিন্তু আমরাও উদযাপন করি। যে কারণে বলি ধর্ম যার যার উৎসব সবার। সব উৎসবে কিন্তু আমরা সম্মিলিতভাবে উদযাপন করে থাকি সেটাই হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একটা বিষয়। সেখানে আমাদের সবচেয়ে বড় সার্থকতা বাংলাদেশে এই চেতনা আমরা ধরে রাখতে পেরেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সব সময় চেষ্টা করি আমাদের এই দেশটা যেন সব সময় অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে চলতে পারে। কোথায়ও কোন দুর্ঘটনা হলে পরে সেটাকে খুব বড় করে না দেখে তার বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সে বিষয়টিকে আপনাদের নজর দিতে অনুরোধ করব। সে সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের সহযোগিতাও চাইবো। আপনারাও সেই সহযোগিতা করবেন।

মহালয়া যোগ দিতে যাওয়া সময় পঞ্চগড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় শোক এবং সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ