কিছু আরব দেশ ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: এরদোয়ান

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েল ঘেঁষা শান্তি পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়ে কিছু আরব দেশ ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এমন মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। শুক্রবার রাজধানী আঙ্কারায় দলীয় এক অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
এরদোয়ান বলেন, কিছু আরব দেশ ট্রাম্পের এ সংক্রান্ত পরিকল্পনাকে সমর্থন করছে। তারা জেরুজালেমের বিরুদ্ধে, পাশাপাশি তাদের নিজ দেশের জনগণ এবং মানবতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে বরাবরই সরব এরদোয়ান তার এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান ও জর্ডানের মতো দেশগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি হোয়াইট হাউজে ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কথিত মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিনিধি পাঠিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তিন মুসলিম দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও বাহরাইন। ট্রাম্প বলেছেন, দেশ তিনটি তার পরিকল্পনা সমর্থন করছে। এজন্য তিনি দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনার তাগিদ দিয়েছে সৌদি আরব।
শুক্রবারের অনুষ্ঠানে এ নিয়ে কথা বলেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, সৌদি আরব নীরব ভূমিকায় রয়েছে। কখন তাদের নীরবতা ভাঙ্গবে? আম্মান, বাহরাইন, আবুধাবির দিকে তাকান। তাদেরও একই অবস্থা।
ট্রাম্পের প্রস্তাবে সমর্থন দেয়া আরব দেশগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, লজ্জা করে না আপনাদের! কিভাবে এই বিশ্বাসঘাতকতার জবাব দেবেন?
এরদোয়ান বলেন, ইসরায়েল ইতোমধ্যেই ফিলিস্তিনের যেসব ভূখণ্ড জবরদখল করে নিয়েছে সেগুলোকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়াই ট্রাম্পের এ পরিকল্পনার উদ্দেশ্য। তবে কথিত এই শান্তি পরিকল্পনা কখনও মেনে নেবে না তুরস্ক।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, পবিত্র জেরুজালেম নগরী হাজার বছর ধরে বিশ্বশান্তির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই নগরীকে নিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত তুরস্কের বিরুদ্ধে ‘রেড লাইন’ অতিক্রমের পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক জেরুজালেম শহরকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলি দখলদারিত্বের ফলে শরণার্থীতে পরিণত হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে। জর্ডান নদীর পশ্চিম তীরের অংশবিশেষ ও গাজা উপত্যকা নিয়ে নামমাত্র একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছে; যে রাষ্ট্রের নিজস্ব কোনও সেনাবাহিনী থাকবে না।
তথ্যসূত্র: দ্য নিউ আরব, বাংলা ট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ