কিশোর কবিতা

আপডেট: ডিসেম্বর ২, ২০১৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ

মাথাভাঙ্গা নদী
আহাদ আলী মোল্লা

মাথভাঙ্গা নদীর পাড়ে আমার ছোট বাড়ি
সারা বেলা নৌকা ডিঙি এপার ওপার যায়
গাঁয়ের মানুষ কূলে কূলে ঘুনশি খাদুন পাতে
জাল ঠেলা জাল ফেলে জেলে কত না মাছ পায়।

হাত নাড়িয়ে পা নাড়িয়ে আমরা সাঁতার কাটি
মনের সুখে ডুব দিয়ে নিই মাঝ নদীতে থই
আম্মু রেগে চড় শাসিয়ে খালি আমায় ডাকে
জ্বর হবে তোর দুষ্টু ওরে উঠলি ডাঙায় কই!

মাছরাঙা বক পানকৌড়ি বসে নদীর ধারে
পাখনা মেলে রোদে শুকোয় ভেজা ডানার জল
পল্লী বধূ জলকে চলে কলসি কাঁখে নিয়ে
খেয়ার ঘাটে মাতোয়ারা পাটনি মাঝির দল।

রাখাল গরুর পাল এনে রোজ নামায় নদীর বুকে
এই মায়াময় দৃশ্যে বলো জুড়ায় না মন কার
মাথাভাঙ্গা তাই চিরকাল স্বপ্ন বোনায় মনে
এই নদীটা আমার খুশি আমার অহঙ্কার।

 

আমার সাথে যাবে কী ভাই
শেখ সাইফুল্লাহ রুমী

আমার সাথে যাবে কী ভাই যাবে আমার গাঁয়ে
নেবো তোমায় আদর করে পাল তোলা এক নায়ে।
যেতে যেতে দেখবে তুমি দেখবে বিলের বাঁকে
শাপলা শালুক বিলে ঝিলে কেমন করে থাকে?

গাঁওটি আমার কাছে তো নয় আছে অনেক দুর
জারি গান আর ভাটিয়ালি আনন্দে ভরপুর।
আরো আছে সবুজ শ্যামল বড় বড় মাঠ
নৌকা বাঁধার জন্য আছে রহিমুদ্দীর ঘাট।

 

সুখ ছবি
শাহাদাৎ শাহেদ

পাখিদের কলরোল মুখরিত গান
ঝিরিঝিরি ঝরনার সুর কলতান
ফুল ফল নদী জল সবুজের বন
বারেবারে দোলা দেয় সকলের মন।

এ আমার ভালোবাসা, এ আমার দেশ
মনটাকে নাড়া দেয় এর পরিবেশ।

এইখানে সুখ পাখি বাসা বাঁধে এসে
সবুজের দোলনাতে মন উঠে হেসে।
নেই কোন রেষারেষি সবে মিলে থাকি
প্রকৃতির কোলে বসে সুখ ছবি আঁকি।

সেগুনগাছের কাঠবিড়ালি
আব্দুস সালাম

খাও যে তুমি কুল, পেয়ারা, পাকা পাকা জাম
কাঠবিড়ালি বলবে আমায়, কোথায় তোমার ধাম?
পুকুর পাড়ের সেগুনগাছের ফোকড়েতে বাসা
ছোট খাট বাসাটি যে দেখতে দারুণ খাসা।

তোমার সাথে কে কে থাকে? আমায় তুমি বল?
আমার সাথে থাকে মায়ে, দেখবে? তুমি চল।
অন্ধকারে ঝড় বাদলে ভয় কি তুমি পাও?
ভয় যদি পাও তখন তুমি কোথায় বল যাও?

গাছের ফোকড় বন্ধ করি পাটের ফেঁসো দিয়ে
ভয় কি বল, আমার ঘরে থাকে আমার মায়ে।