কী কী সিদ্ধান্ত নেয়া হলো আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে!

আপডেট: আগস্ট ৪, ২০২০, ১:০৫ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্থগিতের আগেই আইপিএল আয়োজনের প্রস্তুতি মোটামুটি চূড়ান্ত করে ফেলেছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বিশ্বকাপ স্থগিত হওয়ার পর সে সব শুধু বাস্তবায়নের পালা। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে আরব আমিরাতের মাটিতে শুরু হবে আইপিএলের তেরোতম আসর।
এবারের আইপিএল নিয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করতে রোববার বৈঠকে বসেছিল বিসিসিআই এবং আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। লম্বা সময়ের সে বৈঠকে অনেক কিছুই নির্ধারণ করা হলো। বিস্তারিত গাইডলাইনও তৈরি করা হয়েছে এই বৈঠকে।
করোনা সংক্রমণ চলাকালেই বিদেশের মাটিতে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিওর (এসওপি) মেনে কিভাবে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্ট- এসবই বিষয়ই ছিল গভর্নিং কাউন্সিল বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা।
বৈঠকে সবমিলিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। ঠিক করা হলো ফাইনালের তারিখও। ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হবে এবারের আইপিএল। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১০ নভেম্বর। মোট ৫৩ দিনের একটি পূর্ণাঙ্গ টুর্নামেন্ট আয়োজনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো কোভিড পরিবর্তিত খেলোয়াড় ব্যবহার করতে পারবে বলেও নিশ্চিত করেছে আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক রোববারের বৈঠকে কী কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে গভর্নিং কাউন্সিল –
১. সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে ২০২০ আইপিএল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর। অর্থাৎ দিওয়ালি উৎসবের আগে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল।
২. নতুন ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০মিনিট (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) থেকে শুরু হবে ম্যাচগুলি। ১০টি ডাবল হেডারের ক্ষেত্রে বিকেলের ম্যাচগুলি শুরু হবে ৩টা ৩০মিনিট (বিকাল ৪টা) থেকে।
৩. সর্বোচ্চ ২৪ জন ক্রিকেটারের স্কোয়াড নিয়ে ২৬ অগস্টের পর আরব আমিরাতের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারবে দলগুলো। অর্থ্যাৎ প্রতিটি দলের খেলোয়াড় সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ ২৪জন।
৪. করোনাভাইরাসের কথা মাথায় রেখে কোভিড পরিবর্তিত খেলোয়াড় নিতে পারবে দলগুলো। অর্থাৎ, টুর্নামেন্ট চলাকালীন দলের কোনো খেলোয়াড় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে টুর্নামেন্টের বাকি সময়ের জন্য পরিবর্তিত খেলোয়াড় দলে নিতে পারবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি।
৫. প্রাথমিকভাবে আইপিএলের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ক্লোজ ডোর স্টেডিয়ামে। মাঝপথে পরিস্থিতি বুঝে সীমিত সংখ্যক দর্শককে স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে সেটা পুরোটাই সে দেশের (আরব আমিরাত) সরকারের সম্মতিক্রমে।
৬. ভারতীয় এবং বিদেশি সমস্ত ক্রিকেটারকে চার্টার্ড বিমানে করে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে আয়োজক দেশ আরব আমিরাতে।
৭. বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেই জৈব নিরাপত্তা বলয়ের মতো স্ট্যান্ডার্ড অপারেশনস প্রোসিডিওর (এসওপি) তৈরির কাজ চলছে।
৮. স্ট্যান্ডার্ড অপারেশনস প্রোসিডিওরের (এসওপি) অন্তর্ভুক্ত মেডিক্যাল প্রোটোকল তৈরির জন্য প্রথম সারির হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়োগ করা হবে।
৯. চিনা স্পনসর সহ অন্যান্য সমস্ত স্পনসরকেই টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।
১০. ১-১০ নভেম্বর নারীদের আইপিএল অর্থাৎ, উইমেন্স টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জার সিরিজও আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
১১. প্রতিটি দলের মেডিক্যাল টিম খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের ইতিহাস সংরক্ষণ করবে। দুই সপ্তাহের পর্যবেক্ষণ শেষে তাদেরকে খেলতে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হবে। যদি কারো শারীরিক অবস্থা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই তার পিসিআর টেস্ট করতে হবে। একদিন বিরতি দিয়ে দুইবার। প্রথম দিন এবং তৃতীয় দিনের রিপোর্ট অবশ্যই নেগেটিভ আসতে হবে। এরপরই তারা ক্যাম্পে যোগ দেয়ার অনুমতি পাবে।
১২. প্রতিটি খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাকে অবশ্যই আরোগ্য সেতু অ্যাপসটি ডাউনলোড করতে হবে। যাতে করে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং করা সুবিধা হয়। একই সঙ্গে প্রটেকশন অ্যান্ড প্রিভেনশনের জন্যও এই অ্যাপসটি প্রয়োজন।
১৩. প্রতিটি খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাকেই পাবলিক প্লেসে তিন লেয়ারের (ভালভ রেস্পাইরেটর ছাড়া) এন৯৫ মাস্ক পরিধান করতে হবে। যাতে করে পুরো নাম এবং মুখ ঢেকে যায়।
১৪. ৬০ বছরের বেশি কোনো ব্যক্তি, যেমন- সাপোর্ট স্টাফ, আম্পায়ার, গ্রাউন্ড স্টাফ এবং এমন সব ব্যক্তি যারা শারীরিকভাবে অন্য নানা জটিলতায় ভুগছেন (ডায়াবেটিস, অন্ত্রের সমস্যা, দুর্বল ইম্যুনিটি) তাদেরকে দুরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
১৫. হোটেলে খেলোয়াড়দের প্রতিজনকে থাকতে হবে আলাদা আলাদা রুমে। হোটেল হতে হবে মাঠ এবং ট্রেনিং গ্রাউন্ডের কাছাকাছি।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ