কুমতি আব্বাসের গোপন বাসনা! দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি দিকে দিকে

আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২১, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অপসারিত মেয়র জ্হাঙ্গীর আলমের ছায়া রাজশাহীর কাটাখালি পৌরসভাতে। কাটাখালি পৌর মেয়র আব্বাস আলীও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রকাশ ও কটূক্তি করেছেন। এখানেই আব্বাসের ঔদ্ধত্যের শেষ নয় সে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামানের জ্যেষ্ঠ পুত্র রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন সম্পর্কে অশালীন বক্তব্য দিয়েছেন। তার এই বক্তব্যের অডিও রেকর্ড প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় তুলেছে। বর্তমানে মূলধারা সংবাদ মাধ্যমেও ঝড় তুলেছে। আব্বাসের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে রাজশাহীবাসী প্রতিবাদ-নিন্দা ও বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছে। আব্বাসও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অপসারিত মেয়র জাহাঙ্গীরের মত আওয়ামীলীগ নেতা। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে উভয়ই মেয়র নির্বাচিত হয়েছে। কিন্তু উভয়ই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার যোগ্যতা হারিয়েছে। ইতোমধ্যেই জাহাঙ্গীরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আওয়ামীলীগের মধ্যে স্বাধীনতা বিরোধী ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশ নিয়ে এরআগে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু দলটির নীতি নির্ধারকদের কাছে নতুন ভাবনা সামনে এসেছে। দলের মধ্যে থেকেও কেউ কেউ স্বাধীনতাবিরোধী হয়ে যেতে পারে। দলে যোগদানের ক্ষেত্রে এবং পদ-পদবিতে পদায়ন ও নির্বাচনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতার সময় এসেছে। আব্বাস আলী কাটাখালী মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য কোন যোগ্যতা বলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিল সেগুলো এখন মূল্যায়নের সময় এসেছে। এটা তো ঠিক যে, আব্বাসের অতীত বর্তমান বিশ্লেষণ-পর্যালোচনা করলে মেয়র পদে মনোনয়ন লাভের সুযোগ থাকে না। তার কর্মকান্ড কোনোভাবেই আওয়ালীগের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির সাথে যায় না। তবুও সে আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার আর্শিবাদ লাভ করেছেন আব্বাসের সাথে ছিল তাদের সখ্যতা। তারা এই মুহূর্তে আব্বাসের বিরোধিতাতেও আছেন। এসব বিষয় বিচ্ছিন্ন করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। জাহাঙ্গীর ও আব্বাসের ঘৃণ্য কর্মকান্ডে মধ্য দিয়ে এই সত্যও সামনে এসেছে যে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের আত্মসমালোচনা করারও সময় এসেছে।
নিঃসন্দেহে ওই দুই মেয়রের ক্ষমার অযোগ্য কর্মকা-ের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখিন হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মনে এ প্রশ্ন জাগতেই পারে যে, জাহাঙ্গীর ও আব্বাসের পর এবার কে? এই ঘটনা দেশের স্বাধীনতাকামী প্রতিটি মানুষকে আহত করেছে, ক্ষুব্ধ করেছে। বুকের মধ্যে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে। ওরা কোনো সাধারণ অপরাধ করে নি। রাষ্ট্রদ্রোহের মত অপরাধ করেছে। বঙ্গবন্ধু শুধুই জাতির পিতা নয় তিনি এদেশের মাটি ও মানুষের সাথে সুনিবিড় গ্রথিত আছে। একে আলাদা করা যায় না। ফলে বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ-কটূক্তি করা মানে দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি অমর্যাদা প্রকাশ করা। এটা ঘৃণ্য অপরাধ। এ অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। এদেরকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার, মেয়র পদ থেকে অপসারণই যথেষ্ট নয় এদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ