কুরিয়ারে আম পরিবহনে দরে বিস্তর ফারাক || সুফল দিচ্ছে ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন’ ও ডাকা বিভাগের গাড়ি

আপডেট: জুন ৭, ২০২০, ৯:৫১ অপরাহ্ণ

শাহিনুল আশিক:


অন্য জেলায় পাঠানোর জন্য নগরীর কুরিয়ারে আম বুকিং নেয়া হচ্ছে-সোনার দেশ

রাজশাহী থেকে ঢাকায় আম পরিবহনে দরে বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা গেছে। কুরিয়ার ও পার্সেল সার্ভিসগুলোতে আম পরিবহনে বিভিন্ন দর। যদিও পরিবহন করা গাড়িগুলো একই পথে একই খরচে যাবে। তার উপরে কেজিতে ১৩ টাকা কমবেশি। ঢাকায় আম পাঠানোয় এমন খরচে ভোগান্তি আর বেকায়দায় পড়েছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
তবে আশার আলো দেখিয়েছে ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন’ ও ডাকা বিভাগের গাড়ি। এতে চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়ে খুশি। তারা বেশ উপকৃত হচ্ছেন।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শামসুল হক জানান, ‘রাজশাহী থেকে ৫ টন করে আম ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে ডাক বিভাগের গাড়ি। রোববার (৭ জুন) জেলার বাঘা উপজেলা এলাকা থেকে আম নিয়ে গেছে। একদিন পুঠিয়া, মোট দুইদিন বাঘা, একদিন চারঘাটের চাষিদের আম বিনামূল্যে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে ডাক বিভাগের গাড়িতে। এছাড়া আজ সোমবার (৮ জুন) গোদাগাড়ী থেকে আম নিয়ে যাওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকরা ঢাকার মধ্যে ইচ্ছেমত জায়গায় আম নিতে পারছে। এতে কৃষকরা বেশ খুশি। কারণ কোনো খরচ ছাড়া আম পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে গন্তব্যে।’
কুরিয়ার ও পার্সেল সার্ভিস নিয়ে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ পরিবহন খরচ একই হলে সার্ভিস চার্জ এতো কমবেশি কেনো? ভুক্তভোগিদের দাবি কুরিয়ার ও পার্সেল সার্ভিসগুলো মনগড়া দর নির্ধারণ করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সার্ভিসদাতা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় চাপ কমেছে কুরিয়ার ও পার্সেল সার্ভিসগুলোতে। এবছর সরকার রাজশাহী অঞ্চলের আম ঢাকায় নিতে বিশেষ ব্যবস্থাগ্রহণ করেছে। তার অংশ হিসেবে ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন’ চালু ও বিনামূল্যে প্রান্তিক চাষিদের আম ডাক বিভাগের গাড়িতে আম পরিবহন।
জানা গেছে, গত শুক্রবার (৫ জুন) ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন’ চালুর উদ্বোধন করেন, সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এর আগে গত মঙ্গলবার (২ জুন) ডাক বিভাগের গাড়ি ব্যবহার করে বিনা ভাড়ায় প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদিত আম-লিচু ঢাকার পাইকারি বাজারে পৌঁছানো কার্যক্রমের ঢাকা থেকে উদ্বোধন করেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
ডাক বিভাগের গাড়িতে ঢাকা আম পাছিয়েছেন, চারঘাট উপজেলার বুদিরহাট এলাকার আমচাষি নজরুল ইসলাম ও পান্নাপাড়া এলাকার বুলবুল ইসলাম। তারা জানান, ‘সরকারের এমন উদ্যোগে সাধারণ আমচাষি ও কৃষকদের অনেক উপকার হচ্ছে। আম পরিবহনের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে না তাদের। ফলে কোনো খরচ ছাড়ায় ঢাকায় আম পৌঁছে যাচ্ছে।’
অন্যদিকে, রাজশাহী থেকে ঢাকা ও ঢাকায় বাইরে সর্বোচ্চ দরে আম নিয়ে যাচ্ছে ‘এসএ পরিবহন’। এসএ পরিবহন রাজশাহী থেকে ঢাকায় আম পরিবহনে গ্রহককে গুনতে হচ্ছে কেজি প্রতি ১৫ টাকা। এছাড়া ঢাকার বাইরে প্রতি কেজি ২০ টাকা। ‘এসএ পরিবহন’ এর রাজশাহী ম্যানেজার লিটন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গতবারের মতো এবছর ঢাকায় আম যাচ্ছে না। গত শুক্রবার রাজশাহী থেকে ঢাকায় আম পার্সেল গেছে দুই টন।
আম পাঠানোর দরের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস। এর ম্যানেজার মাসুদ জানান, রাজশাহী থেকে ঢাকায় আম যাচ্ছে ১২ টাকা কেজি দরে। এছাড়া ঢাকার বাইরে ১৬ টাকা।
এদিকে, রাজশাহী থেকে ঢাকায় আম পাঠানোর দিক থেকে সর্বনিম্ন দর আহম্মেদ পার্সেল সার্ভিসে। এরর ম্যানেজার করিম জানায়, তারা ঢাকায় আম পরিবহনের কেজি প্রতি সার্ভিস চার্জ নিচ্ছে ৭ টাকা। এছাড়া ঢাকার বাইরে ১০ টাকা।
ঢাকায় আম পাঠাতে আসা সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জানান, বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসে বিভিন্ন দর। কোনো কুরিয়ার সার্ভিস ঢাকায় প্রতিকেজি ৭ টাকায় নিয়ে যাচ্ছে। কেউ বা ১৬ টাকা। পরিবহন খরচের এমন হেরফেরে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
রাজশাহী এগ্রো ফুড প্রডিউসার সোসাইটির আহ্বায়ক মো. আনোয়ারুল হক জানান, ট্রেনে আম পাঠালে অর্ধেক খরচ কমে যাচ্ছে। কুরিয়ার ও পার্সেল সার্ভিসগুলোতে আর দর কষাকশি করতে হবে না। ট্রেনে আম ঢাকায় পরিবহন সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ। তারা জেলা প্রশাসককে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, করোনার কারণে সার্ভিস চার্জ বাড়াবে না। কিন্তু তারা সার্ভিস চার্জ বাড়িয়েছে।