কুলিয়ারচরে ‘রেকর্ড গড়ার’ বিজ্ঞান ক্লাস

আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০১৭, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক
কুলিয়ারচর থানার মাঠে শামিয়ানা টানিয়ে বানানো হল সোয়া চার হাজার বর্গফুটের বিশাল ক্লাসরুম, ৩২০০ স্কুল শিক্ষার্থী অংশ নিল ব্যবহারিক ক্লাসে; কখনো গল্পে, কখনও খেলাচ্ছলে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল তাদের শেখালেন বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তি।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা প্রশাসন আশা করছে, বিজ্ঞান ও আইসিটি বিষয়ক ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যবহারিক ক্লাস’ হিসেবে এই আয়োজনের কথা লেখা হবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।
কুলিয়ারচরের ইউএনও উর্মি বিনতে সালাম জানান, পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে বুধবার বেলা ১১টায় শুরু হয় মহড়া। এরপর বেলা ১২টায় ক্লাস শুরু করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল।
ক্লাস পরিচালনায় তাকে সহায়তা করেন কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের বিজ্ঞান ও আইসিটি বিষয়ের ৮০ জন শিক্ষক। ক্লাসে অংশ নেয়া শিশু-কিশোরদের উৎসাহ দিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও ভৈরব-কুলিয়ারচরের সাংসদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
ক্লাসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সব শিক্ষার্থীর হাতে যখন অতিথিরা বিজ্ঞানের বই তুলে দিচ্ছিলেন, অনুষ্ঠানে বাজছিল সেই উজ্জয়নী গান- ‘আমরা করব জয় নিশ্চয়’।
গিনেস বুকে এখন পর্যন্ত স্কুল পর্যায়ে বিজ্ঞান বিষয়ক বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যবহারিক ক্লাস আয়োজনের কৃতিত্ব অস্ট্রেলিয়ার। গত বছরের ১৬ অগাস্ট কুইন্সল্যান্ডে একসঙ্গে দুই হাজার ৯০০ ছাত্রছাত্রী সেই বিজ্ঞান বিষয়ক ব্যবহারিক ক্লাসে অংশ নিয়ে রেকর্ডের পাতায় নাম লেখায়।
ওই রেকর্ড নিজেদের করে নিতে গিনেস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উর্মি বলেন, “গিনেস কর্তৃপক্ষ গত ১৪ নভেম্বর আমাদের আবেদন গ্রহণ করে। এতে করে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের নাম গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ হয়।”
কুলিয়ারচর থানার মাঠে ২৪৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৭২ ফুট প্রস্থের এই অস্থায়ী ক্লাসরুম ১০ ফুট উচ্চতার সাদা কাপড়ে ঘিরে সেখানে বসানো হয় ২১টি এলইডি স্ক্রিন। ৩২০০ ছাত্রছাত্রীর প্রতি দুইজনকে নিয়ে এক একটি গ্রুপ করে বসার ব্যবস্থা সাজানো হয়। দুই পর্বের আয়োজনের প্রথম পর্বে ছিল দেড় ঘণ্টার ব্যবহারিক ক্লাস; দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা সভা।
অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, “বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা এখন অনেকেই নানা কারণে বিজ্ঞান পড়তে চাচ্ছে না। আমার মনে হয়, এই ঘটনাটা যখন প্রচার হবে, মানুষ দেখবে, বিজ্ঞানে একটা আগ্রহ তৈরি হবে। এখানে যে বাচ্চারা আছে, আমার ধারণা তারাও ভবিষ্যতে বিজ্ঞানে পড়তে আগ্রহী হবে।”- বিডিনিউজ