কুসিক নির্বাচনে আ,লীগ প্রার্থীর হার চাই আত্মোপলব্ধি,আত্মশুদ্ধি

আপডেট: এপ্রিল ২, ২০১৭, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর হেরে যাওয়ার কারণ হিসেবে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে মূলত দায়ী করা হচ্ছে। যারা এর জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। তবে দলের মধ্যেকার বিশৃঙ্খলকারীদের কতটুকু বিচলিত করবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে। কেননা ব্যবস্থা নেয়ার পরও দলের বাইরে বেশিদিন থাকতে হয়নি বিশৃঙ্খলাকারীদের, এমন নজিরই ভুরি ভুরি। তাই দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াটা একধরনের চমক বলেই দেশের মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আর শুধু দলীয় দ্বন্দের কারণেই প্রার্থী হেরেছে এমন সরলীকরণ করাটা যথার্থ হবে না। এর ফলে অন্য যে কারণগুলি থাকে তা বিবেচিত হয় না। এর ফলে একটি রাজনৈতিক দলের সহসা বিপর্যায়ের মধ্যে পড়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয়ের পিছনে সামগ্রিক কারণগুলো নিয়ে নিবিড় বিশ্লেষণ এবং তদনুযায়ী রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের ওপর জোর দেয়াই গুরুত্বপূর্ণ হবে।
জঙ্গি ইস্যুতে আওয়ামী লীগ জিরো টলারেন্স দেখিয়েও জনগণকে কতটুকু কাছে টানতে পারছে বা পেরেছে তা নিয়ে বিশ্লেষণের সময় এসেছে। বিএনপি গত ৮ বছরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান মোটেও স্পষ্ট করেনি। বরং তাদের কর্মকা-ের মধ্যে জঙ্গি- সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও উৎসাহিত করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন সময় মুক্তিযুদ্ধ ও ও মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের নিয়ে নানাভাবে কটাক্ষ করেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিতর্কিত ও বিকৃত করার মত ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। এমনকি শত-সহ¯্র তিরস্কারকে তুচ্ছ জ্ঞান করে জামায়াতে ইসলামীর সাথে গাটছড়াকেই রাজনীতির প্রধান কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছে। তা হলে কেন দলটি জনসমর্খন পাবে? এটা তো হওয়ার কথা ছিল না! তা হলে এ ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ পক্ষের শক্তির ব্যর্থতা নাকি অন্য কিছু। আওয়ামী লীগ কেনই বা যুদ্ধাপরাধী ইস্যুতে জনসমর্থন নিজেদের পক্ষে নিতে পারছে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যুতেই তো ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগকে দেশের যুব সমাজ ব্যাপকভাবে সমর্থন দিয়েছিল।
এটা যে প্রগতিশীল রাজনৈতিক মহলকে ভাবাচ্ছেÑ আর ভাবনাটা খুবই স্বাভাবিক। এই ভাবনার জায়গাটিকে আওয়ামী লীগকেই পরিস্কার করতে হবে। এই পরিস্থিতি নিবিড় পর্যালোচনার দাবি রাখে। এই পযালোচনা যেমন নিজেদের দলকে নিয়ে তেমনিভাবে বাম-গণতান্ত্রিক ধারার দলগুলোর সাথে আওয়ামী লীগের দূরত্ব বাড়ছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।
এটা ঠিক যে, মোটা দাগে উল্লিখিত দুটো পর্যায়েই ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দলের অভ্যন্তরে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে এই বিশৃঙ্খলা ক্রমাগতভাইে বাড়ছে। কর্মীরা অসহিষ্ণু ও আক্রমণমুখি আচরণ করছে। যা সাধারণ মানুষের মধ্যে এর প্রতিক্রিয়া সরকার ও দলের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্য ক্ষুব্ধতা বাড়ছে এই কারণে যে, তারা কোনা প্রতিকার পাচ্ছে না।
জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের জিরো টলারেন্স বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। ওইসব দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের কাছ থেকে বাংলাদেশ প্রশংসিতও হচ্ছে। অথচ কুমিল্লা ও সিলেটে জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রাখা অবস্থায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে জঙ্গির প্রতি সহনশীল বিএনপিদলীয় প্রার্থীর কাছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হারবে কেন? তবে কি জনসাধারণ কোনো কোনো কারণে ক্ষমতাসীনদের প্রতি বিরূপ হচ্ছে? আমরা মনে করি, এই পরিস্থিতি ক্ষমতাসীনদের জন্য সতর্কবার্তা দিচ্ছে। পরিস্থিতি কীভাবে নিজেদের অনুকূলে আনতে হবে সেই যুৎসই কৌশল গ্রহণ করার চূড়ান্ত সময় এখনই। এটাকে কোনোভাবেই অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগকেই আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে করতে হবেÑ ঘরে এবং বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ