কুসিক নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর জয় || নির্বাচন কমিশন উতরে গেল

আপডেট: এপ্রিল ১, ২০১৭, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

বহুল আলোচিত কুল্লিা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ এবং বিচ্ছিন্ন দু’একটি ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হল। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক সাচ্চু পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১২ সালে তিনি কুমিল্লার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার বিপুল উৎসাহ- উদ্দীপনার নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে সাক্কু পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৯৪৮ ভোট; নৌকা প্রতীকে আঞ্জুম সুলতানা সীমার ভোট ৫৭ হাজার ৮৬৩।
কুমিল্লা সিটি করপোররেশনের নির্বাচনের দিকে দেশবাসীর আগ্রহ ও কৌতুহল ছিল। কেননা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে এটিই ছিল প্রথম নির্বাচন।  প্রধান নির্বাচন কমিশন গোড়া থেকেই তাঁদের অধীনে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন। নির্বাচনের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলাই যায়, প্রথম নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন নিজেদের উতরাতে পেরেছেন অর্থাৎ তাদের অঙ্গীকার পূরণে সফল হয়েছেন। দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন যে, সুষ্ঠু করা যায় সে প্রমাণও তারা রাখলেন। যদিও বিএনপি নির্বাচনের শুরু থেকেই নির্বাচনে ব্যাপক অরিয়মের অভিযোগ করে আসছিল। কিন্তু দেশের কোনো গণমাধ্যম্যেই বিএনপির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় নি। হয়ত বিএনপি সরকারকে চাপে রাখার জন্য নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ করে আসছিল। কিন্তু তাদের অভিযোগের মোটেও প্রতিফলন ঘটেনি যে, তাদের প্রার্থীই ১১ হাজারের বেশি ভোটে জয় পেয়েছে।
তবে এই নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দ যে তালমাটাল অবস্থায় ছিলেন তা লক্ষ্য করা গেছে। কখন কী বলতে হবে সেটাও তারা খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন। নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা নির্বাচিত হলে বিএনপি নানাভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনসহ অন্য কমিশনারদের বিতর্কিত করতে থাকে। এমনকি তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনকে আওয়ামীলীগ দলীয় লোক হিসেবে প্রচার করতে থাকে।
২৭ মার্চ সিইসি নূরুল হুদার সঙ্গে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে যায় বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল, তার নেতৃত্বে ছিলেন রিজভী।
আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে যাওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেছিলেন, “সিইসি বলেছেন, কুমিল্লা থেকেই গণতন্ত্র চর্চা শুরু করতে চান। সিইসির বক্তব্যের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।”
সিইসির সঙ্গে বৈঠক থেকে বেরিয়ে রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, “সিইসি একজন সজ্জন ব্যক্তি, চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ জায়গায় উপনীত হয়েছেন। এ ধরনের একজন মানুষ কখনোই অবান্তর কথা বলবেন না।”
বৃহস্পতিবার এই সিটি করপোরেশনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ঢাকার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অধিকাংশ কেন্দ্রে ক্ষমতাসীনদের ‘সন্ত্রাস-অনিয়ম’ ঠেকাতে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সকাল থেকে আওয়ামী ক্যাডার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপি নেতা-কর্মী ও এজেন্টদের মারধর করে প্রায় অধিকাংশ কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। দুপুরের পর থেকে ককটেল ফাটিয়ে বেপরোয়াভাবে কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট প্রদানে মাতোয়ারা হয়ে উঠে।”
বিএনপির এসব অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করে তাদের প্রার্থীই জয়ী হয়। তারপরও তারা নানাভাবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিএনপির এই বিজয় নিঃসন্দেহে কর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। কিন্তু এতে করে খুব বেশি আত্মতুষ্টির সুযোগ আছে বলে মনে হয় নাÑ যদি না তারা তাদের রাজনৈতিক কৌশলে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি হারলো, নাকি আওয়ামী লীগ হেরেও জয়লাভ করলো নিশ্চয় তার সদুত্তর আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রমাণ হবে। তার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ