কৃত্রিম উপায়ে মৃত শূকরের অঙ্গের পুনরুজ্জীবন! চিকিৎসা বিজ্ঞানে নজির আমেরিকায়

আপডেট: আগস্ট ৬, ২০২২, ৯:১৪ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


মৃত শূকরের কিছু কোষ ও অঙ্গ পুনরুজ্জীবিত করে নজির তৈরি করলেন আমেরিকার ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সব কোষ বা অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায় না। কোষের এই বৈশিষ্ট্যটিকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন তাঁরা।

‘অর্গানএক্স’ নামক এক পদ্ধতি ব্যবহার করে এই কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন গবেষকরা। মারা যাওয়ার এক ঘণ্টা পর এমন একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে যে কাজটি করেছেন গবেষকরা, সেটি ফলাও করে বিজ্ঞান পত্রিকা নেচারের ৩ আগস্ট সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকরা মনে করেন, ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে যদি মানুষের অঙ্গ পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হয়, তবে বড়সড় বদল আসতে পারে চিকিৎসাবিজ্ঞানে। ‘অর্গানএক্স’ পদ্ধতিতে জীবিত অবস্থায় বিশেষ ধরনের কোষ রক্ষাকারী তরল প্রবেশ করানো হয়েছিল শূকরের কোষে। মৃত্যুর পর কোষ নষ্ট হয়ে যাওয়া আটকানো গিয়েছে। কোষের কার্যকারিতাও ফিরিয়ে আনা গিয়েছে আংশিকভাবে। বিজ্ঞানীরা এটাই লক্ষ্য করেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালেও ‘ব্রেনএক্স’ পদ্ধতিতে একই ধরনের একটি গবেষণায় মৃত শূকরের মস্তিষ্কের কোষের আংশিক কার্যক্ষমতা ফেরাতে সক্ষম হয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরেই অসাধ্য সাধন করেন আমেরিকার একদল চিকিৎসক। মানুষের শরীরে জিন পরিবর্তিত শূকরের হৃৎপিন্ড বসান তাঁরা। ৫৭ বছর বয়সি ডেভিড বেনেটের কাছে আর কোনও পথও ছিল না। জীবন ও মৃত্যুর নো-ম্যানস ল্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। এই অবস্থায় সাহসী সিদ্ধান্ত নিতেই হত। তাই নেন তিনি। নিজের শরীরে জিন পরিবর্তিত শূকরের হৃৎপি- বসানোর অনুমতি দেন চিকিৎসকদের। সেই কাজ সফল ভাবে করেন আমেরিকার মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসকরা।

তবে এর আগেও মানবদেহে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের ঘটনা সামনে এসেছিল। সেই কাজও করেছিলেন মার্কিন চিকিৎসকরা। ওই অস্ত্রোপচারকেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক বলেই মনে করা হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন