কৃষকের বাড়িতে ১২৫ গোখরা দুইদিনে ১৫২ সাপ নিধন : আতঙ্ক

আপডেট: জুলাই ৭, ২০১৭, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

ইমরান হোসাইন, তানোর পৌরসভা


তানোরে উদ্ধাকৃত ১২৫টি গোখরা-সোনার দেশ

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। গতকাল বৃহস্পতিবার অন্য দিনের মতই পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না ঘরে খাবার তৈরির জন্য যান হাসনা বিবি। রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসে একটি কম বয়সি ছোট গোখরা। এসময় তিনি সাহস করে লাঠি দিয়ে সাপটি মেরে ফেলেন। এরপর আবারো আরেকটির দেখা মেলে। এরপর ঘরের ভেতরে তিনি দেখতে পান গোখরার সারি। হাসনা চিৎকার দিলে স্বামী আক্কাস আলী ঘটনাস্থলে এসে গোখরা দেখে স্বামী ও স্ত্রী ভীত হয়ে ওঠেন।
এরপর তারা স্বামী-স্ত্রী চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশিরা এসে দেখেন গোখরার আস্তানা। কোদাল দিয়ে খুড়তে থাকেন। ক্রমান্বয়ে গোখরার চেহারা দেখে খানিকটা ভয় পেয়েও গিয়েছিলেন বাড়ির লোকজন। তবে, সাহস করে গর্ত খুড়ে দেখেন অসংখ্য গোখরা। গর্ত থেকে বেরিয়ে আসছে গোখরা। এক এক করে মারতে মারতে ১২৫টি বিষাক্ত গোখরা মারা হয়। এমন গোখরার আস্তানার খবর মিলে রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার ভদ্রখণ্ড মহল্লার কৃষক আক্কাছ আলীর বাড়ির রান্না ঘরে। বাড়িতে দুই ছেলে হাসিবুর ও আজিবুর। চার সদস্যের পরিবারের মধ্যে এতো গোখরা এলো কিভাবে। এজন্য আতঙ্কে পরিবারটি।
বাড়ির মালিক আক্কাছ আলী জানান, সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। তার স্ত্রী হাসনা বিবি রান্না ঘরে যায়। সেখানে দেখে গোখরা। তিনি জানান, বাড়িটি মাটির তৈরি এবং অনেক পুরনো। তাই হয়তো সাপ বাসা বেঁধেছে। গরমের কারণে সাপগুলো বেরিয়ে আসতে পারে। বাড়িতে আরো সাপ আছে বলে তার ধারণা। এখন আতঙ্কে রয়েছে তার পরিবার।
স্ত্রী হাসনা বিবি জানান, সাপের দখলে চলে গেছে তাদের বাড়িটি। এ কারণে বাড়ির সবাই আতঙ্কিত। তাই তার দুই ছেলে বাড়িতে থাকতে চাইছে না। ভয়ে শোয়ার ঘরে ঢুকছে না। কারণ, যে গোখরা সাপগুলো মারা পড়েছে, সবই বাচ্চা। দৈর্ঘ্য দেড় থেকে দুই ফুট। ধারণা, বাড়িতে এখনো আরো সাপ আছে। বিশেষ করে সাপের বাচ্চাগুলোর বাপ-মা তো রয়েছেই। তাই অভিজ্ঞ সাপুড়িয়ার খোঁজ করছেন তারা।
ওই মহল্লার ব্যবসায়ী আবুল কালামের কলেজ পড়–য়া পুত্র আল-আমিন জানালেন, গোখরা বেরুনোর খবর শোনে দৌড়ে গিয়ে দেখি ডালিতে করে বাড়ির মালিক অন্যদের দেখাচ্ছেন। লেজ ধরে গুনে দেখি ১২৫টি গোখরার বাচ্চা। আমি মোবাইলে ছবি তুলেছি। মোড়ে গিয়ে অন্যদের দেখিয়েছি। রান্না ঘরের আশপাশে ইঁদুরের গর্ত রয়েছে। আর সেই গর্তগুলোতে বাসা বেঁধেছিল গোখরার বাবা মা। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত গর্ত খুঁড়ে খুঁড়ে সাপগুলো মারা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, পরে একত্রে গোখরার হাড়ি দেখে সব সাপ মারা হয়। হাড়িতে এসময় ৪০টির মতো সাপের ডিম দেখা গেছে। ডিমগুলো ভেঙে ফেলা হলে গোখরার বাচ্চা (পোকল) বেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। সেখানে আরও সাপ থাকলে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা আছে। বিষয়টি নিয়ে তাদের মহল্লায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে গত বুধবার নগরীর বুধপাড়া এলাকার মাজদার হোসেনের বাড়িতে সন্ধান মেলে বিষাক্ত গোখরা সাপের ‘আস্তানা’। সেই আস্তানা থেকে প্রথমে একটি সাপ বেরিয়ে আসলেও পরে সেখান থেকে ২৭টি সাপ মেরে ফেলা হয়। পর পর দুইদিন দেড় শতাধিক সাপ নিধন করায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ