কৃষক আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী সাখাওয়াতের শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০২২, ৯:৩২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় নিমঘুটু গ্রামে সেচের পানি না পেয়ে দুই কৃষকের আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীর কঠোর শাস্তিসহ পাঁচ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে আদিবাসী কৃষক নেতারা।

শনিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে রাজশাহী নগরীর কাজীহাটা এনজিও ফোরাম কার্যালয়ে রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটি’র ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় আদিবাসী নেতারা আরও পাঁচটি দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো- বরেন্দ্র অঞ্চলের সেচ কার্যক্রমে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, অভিনাথ মার্ডি ও রবি মার্ডির আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী সাখাওয়াত হোসেনের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে গভীর নলকূপ অপারেটর হিসেবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি ও প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি ও প্রান্তিক কৃষকদের পর্যাপ্ত পরিমাণে সেচের পানির অভিগম্যতার সুযোগ নিশ্চিতকল্পে নীতিমালায় সুস্পষ্ট বিধান থাকতে হবে এবং বরেন্দ্রের সেচ কার্যক্রমে কৃষকবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, গোদাগাড়ী রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির সদস্য রঞ্জিত সাওরীয়া। উপস্থিত ছিলেন, মৃত কৃষক অভিনাথ মার্ডির স্ত্রী রোজিনা হেমব্রন, রবি মার্ডির ভাই সুশীল মার্ডি, রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির উপদেষ্টা প্রসেন এক্কা, সভাপতি সরল এক্কা, সিসিবিভিও’র সমন্বয়কারী আরিফ ও প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী নিরাবুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৩ মার্চ বিকেলে গোদাগাড়ী উপজেলাধীন নিমঘুটু আদিবাসী পল্লীর অভিনাথ মার্ডি ও রবি মার্ডি ধানের জমিতে সেচের পানি না পেয়ে এবং বিএমডিএর নলকূপ অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনের অসদাচারণের ফলে বিষপান করলে ওই দিনই অভিনাথ মার্ডি মৃত্যু হয়।

রবি মার্ডি ২৫ মার্চ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ঘটনার পর সাখাওয়াত হোসেনের নামে গোদাগাড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে স্থানীয় থানা পুলিশের অবহেলা লক্ষ করা যায়। যা কখনোই কাম্য নয়।

এসময় আরও বলা হয়, গভীর নলকূপ অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনের নামে দীর্ঘদিন ধরেই সেচের পানি প্রদানের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ থাকলেও তিনি সেগুলোর কোন তোয়াক্কা করেন নি। যে প্রতিবাদ করেছে সেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কৃষকের আত্মহননের পেছনে সাখাওয়াত হোসেনের মতো জাতি বিদ্বেষী ও দুর্নীতিবাজ নলকূপ অপারেটর যেমন দায়ী; তেমনি এই অঞ্চলের সেচ কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা বিএমডিএ’র অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম সমানরুপে দায়ী।

খোদ কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদন্তে ওই নলকূপ অপারেটরের বিরুদ্ধে অনিয়ম বিষয়টি উঠে এসেছে। কিন্তু এরপরও কর্তৃপক্ষের কোন তদারকি ছিলো না।

তাদের দাবি, পুরো বরেন্দ্র অঞ্চলের সেচের পানি গভীর নলকূপ অপারেটরদের কবজায়। যাদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে প্রায় ৪ লাখ কৃষক। নলকূপ অপারেটর নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ’র স্বার্থবাদী চক্র ও দলীয় সমর্থন বিবেচনায় রাখে। যার ফলে নলকূপগুলোর পানি বন্টন নীতি দলীয় নেতা-কর্মীদের স্বেচ্ছাচারিতার অংশ হয়ে গেছে। এ সকল অসৎ নলকূপ অপারেটররা ক্ষমতাসীন দলের নামের অপব্যবহার করে ফায়দা লুটছে।

বিএমডিএ’র কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও অসৎ নলকূপ অপারেটররা মিলে বরেন্দ্র অঞ্চলে পানি নিয়ে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করেছে। যার শিকার লক্ষ লক্ষ অসহায় কৃষক। এসময় বিএমডিএ কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে দ্রুত দাবিগুলোর বাস্তবায়নের দাবি জানান কৃষক নেতারা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ