বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

কৃষিতে আরো বেশি সরকারি প্রণোদনা খাদ্য নিরাপত্তার জন্যই প্রয়োজন

আপডেট: December 8, 2019, 1:01 am

দেশের কৃষির সাফল্য বেশ উল্লেখযোগ। টেকসই ও সহনশীল কৃষির কারণেই দেশের অর্থনীতিকে তেমন চাপের মধ্যে পড়তে হয় নি। এক দশক ধরে কৃষিতে তেমন অস্থিরতাও লক্ষ্য করা যায় নি। বিশ্বব্যাপি মন্দার আঁচ লাগেনিÑ তার বড় কারণটিই ছিল কৃষি উৎপাদন। বলা যায় কৃষি দেশের সম্ভ্রম সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে।
ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ ছিল একটি খাদ্য ঘাটতির দেশ। ব্রিটিশ আমলে গঠিত বিভিন্ন কৃষি কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্য থেকে এখানকার চরম খাদ্য ঘাটতির চিত্রই ফুটে ওঠে। পাকিস্তান আমলেও পূর্ববঙ্গের খাদ্য উৎপাদনের চিত্র তেমন সুখকর ছিল না। এ অঞ্চলে প্রতি বছর গড়ে খাদ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ লাখ টন।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ১০ বছর ধরে ক্রমাগতভাবে বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার কৃষিখাতে নীতিগত সমর্থন বাড়ায়। ফলে কৃষির সকল ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রবৃদ্ধির হার। খাদ্যশস্যের ক্ষেত্রে এ প্রবৃদ্ধির হার ছিল খুবই লক্ষ্যণীয়। ১৯৭২ সালে এদেশে খাদ্যশস্যের মোট উৎপাদন ছিল এক কোটি টন। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে চার কোটি টনেরও উপরে। এ সময় উৎপাদন বৃদ্ধির গড় হার ছিল বার্ষিক তিন শতাংশের বেশি।
বর্তমানে চাল উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবন ও উন্নয়নে বাংলাদেশের স্থান হলো সবার উপরে। তাছাড়া পাট উৎপাদনে বাংলাদেশের স্থান দ্বিতীয়, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, মৎস্য উৎপাদনে চতুর্থ, আম উৎপাদনে সপ্তম ও আলু উৎপাদনে অষ্টম।
বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি গ্রহণের ফলেই এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে । জমির সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এখন আর সারের জন্য কৃষককে জীবন দিতে হয় না। বরং সার কৃষকদেরকে খুঁজে বের করছে যথাসময়ে কৃষকদের কাছেই পৌঁছে যায় সার। আওয়ামী লীগ সরকার সেই ব্যবস্থা করেছে। খাদ্যের জন্য আর কোনো দিন বাংলাদেশকে কারো কাছে হাত পাততে না হয় সেটা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এ দেশের বিশাল জনগোষ্ঠির সমৃদ্ধির জন্য কৃষির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জিডিপিতে বৃহৎ কৃষি খাত (ফসল, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং বন) এর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রায় ৪১ শতাংশ কর্মক্ষম শ্রমশক্তি এ খাতে নিয়োজিত।
সরকার এ বছর থেকে সরকারি পর্যায়ে ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে মধ্যসত্ত্বভোগিদের দৌরাত্ম্য বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যেই তালিকা করে সেই অনুযায়ী আমন ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েচে। এতে করে তৃণমূল পর্যায়ে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সুফল বয়ে এনেছে। কৃষকের কথা মাথায় রেখে উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য সরকার সম্প্রতি ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সারের দাম কেজি প্রতি ৯ টাকা কমিয়েছে। এর আগে এই মূল্য ছিল ২৫ টাকা, আর এখন প্রতি কেজি ডিএপি সার ১৬ টাকা। ডিলার পর্যায়ে বর্তমান ২৩ টাকার পরিবর্তে এখন ১৪ টাকা কেজি। বন্যা-উত্তর কৃষিতে প্রণোদনা ধারাবাহিকভাবেই প্রদান করা হয়।
স্বাভাবিকভাবেই এসব উদ্যোগ কৃষিবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে কৃষক হয়রানি ও বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এখনো সমস্যা আছে। সমস্যা উত্তরণের জন্য সরকারের নতুন নতুন উদ্ভাবনি কাজে লাগাচ্ছে। সময়ের সাথে সাথে কৃষির উন্নতিতে এ দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ