কৃষিতে খরচ বাড়ায় দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

আপডেট: আগস্ট ১৮, ২০২২, ২:৫৯ অপরাহ্ণ

এম খাদেমুল ইসলাম, বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি :


কৃষিতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষিপণ্যের দাম নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার কৃষকেরা। আমন ধানের চারা রোপণের শেষ সময় চলছে। এদিকে বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ধানের চারা রোপণের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই মেশিনে সেচ দিয়ে জমিতে আমনের চারা রোপণ করতে বাধ্য হচ্ছে কৃষক। তবে তেলের দাম ও ইউরিয়া সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।
জানা গেছে, এ বছর বর্ষার সময়েও দেখা নেই বৃষ্টির। কাঁঠ ফাঁটা রোদে একের পর এক রেকর্ড গড়ছে তাপদাহের। মাঠ-ঘাট ডোবা-নালা সবখানেই বৃষ্টির বদলে খা খা অবস্থা। চলছে আমন ধানের চারা রোপণের শেষ সময়। বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ধানের চারা রোপণের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবুও দেখা মিলছে না বৃষ্টির। সময় শেষ হয়ে গেলে আমন ধান রোপণ করতে না পারলে কৃষকেরা সারা বছর খাবে কী তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছে। অনেকে মেশিনে সেচ দিয়ে জমিতে আমনের চারা রোপণ করছে। কিন্তু হঠাৎ তেলের দাম ও ইউরিয়া সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে এ উপজেলার কৃষকরা। আমনের চারা রোপণ করতে আর্থিকভাবে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের রহিমাপুর গ্রামের কৃষক মোতালেব হোসেন বলেন, ‘আমরা কিষাণখাটা মানুষ এ বছর মনে হয় মরমো। তেল আর ইউরিয়া সারের যে দাম বাড়ছে হামার নিকাশ খরে গেছে। এত দাম বাড়াইলে আবাদ করমো কি করে। আমি মানুষের থেকে ৩০ শতকের জমি আদি নিয়েছি। আগে পানির ছেচ নিচ্ছিলাম ১ ঘণ্টায় টাকা ৮০-৯০ টাকা দিয়ে আর এখন এক ঘণ্টা পানি নিতে হচ্ছে ১৫০ টাকা। আবাদ করার জন্য আমরা টাকা কোথায় পাবো।’
এ বিষয়ে গালিমপুর মোড়ের কীটনাশক ও বীজ ব্যবসায়ী সোহেল রানা তুহিন জানান, কৃষিতে ব্যবহৃত সকল ধরনের জিনিসে দাম বাড়ানোর ফলে কৃষকেরা আর্থিক সংকটে পড়েছে। ফলে এর প্রভাব আমাদের ব্যবসা বাণিজ্যে পড়েছে। বিক্রি অনেকাংশে কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যবসা কম হওয়ার কারণে লাভ কমে গেছে বলে জানান তিনি।