কৃষি ঋণে কমলো সুদের হার

আপডেট: জুন ২৩, ২০১৭, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


কৃষি ও পল্লী ঋণের সুদের হার আরও ১ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে কৃষি ও পল্লী ঋণে মাত্র ৯ শতাংশ হারে সুদ গুনতে হবে কৃষককে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে।
এতদিন ব্যাংকগুলো কৃষি ও পল্লী ঋণে ১০ শতাংশ হারে সুদহার আরোপ করতো। ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, অগ্রাধিকার খাত হিসাবে কৃষি ও পল্লী ঋণে ৯ শতাংশ সুদ হার পুনর্নিধারণ করা হলো। আগামী ১ জুলাই থেকে এই হার কার্যকর হবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কৃষকদের সুবিধার্ধে অগ্রাধিকার খাত হিসাবে কৃষি ও পল্লী ঋণে ৯ শতাংশ সুদ হার নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।’
এর আগে, ২০১৬ সালের ১৫ জুন কৃষি ও পল্লী ঋণের সুদের হার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। অবশ্য গত বছরের জানুয়ারি থেকে কৃষি ও পল্লী ঋণের সুদের হার ২ শতাংশ কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩ শতাংশ হারে ঋণ নিয়েছে ব্যাংকগুলো। ২০১১ সালের ৯ মার্চ থেকে কৃষি ঋণের বিপরীতে সর্বোচ্চ সুদের হার ১৩ শতাংশ বহাল ছিল।
জানা গেছে, বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর গ্রামাঞ্চলে শাখা কম হওয়ায় তাদের মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি’র (এমআরএ) অনুমোদনপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের (এমএফআই) অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করছে। আর্থিক খাত সংস্কার কর্মসূচির আওতায় ১৯৮৯ সালের পর থেকে ব্যাংকগুলো নিজেরাই সুদের হার নির্ধারণ করতে পারে। তবে বৈশ্বিক মন্দা-পরবর্তী সময়ে উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃষি, মেয়াদি শিল্প, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি এবং রফতানিমুখি শিল্পসহ বেশ কয়েকটি খাতে সুদের হারের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এরপর, ২০১১ সালে এক নির্দেশনার মাধ্যমে কয়েকটি খাত ছাড়া সুদ হারের ঊর্ধ্বসীমা প্রত্যাহার করা হয়। তখন কৃষি এবং মেয়াদি শিল্প সুদের হার নির্ধারণ করা হয় ১৩ শতাংশ। সব ধরনের রফতানি ঋণে ৭ শতাংশ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তথা চাল, গম, চিনি, ভোজ্য তেল, ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ ও খেজুর আমদানিতে সুদের হারের সর্বোচ্চ সীমা ১২ শতাংশ। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে আরেক নির্দেশনার মাধ্যমে প্রাক-জাহাজীকরণ রফতানি ঋণ এবং কৃষি ছাড়া অন্যান্য খাতে সুদের হারের ঊর্ধ্বসীমা প্রত্যাহার করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তথ্যসত্র: বাংলা ট্রিবিউন