কেউ কি জানেন সড়ক দুর্ঘটনা কেন হয়?

আপডেট: জুলাই ৮, ২০১৭, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

মো. শহীদ উল্লাহ সঞ্জু


“কঠোর আইন কোন সমাধান নয়”
আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা নিত্যদিনের বিষয়, বর্তমান সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা মহামারি আকার ধারণ করেছে যা প্রতিদিনের প্রত্রিকার শিরোনাম হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং প্রতিনিয়ত মানুষের অন্তরে আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।
পাঠকগণ আমার এই লেখনিতে অনেকের আাত্মসম্মানে আঘাত লাগতে পারে, আবার অনেকের স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটতেও পারে। তবুও আমি লিখবো কারণ দেশের স্বার্থে জাতির স্বার্থে সর্বোপরি নতুন প্রজন্মের নিরাপত্তার স্বার্থে আমার চিন্তা, চেতনায় ও উপলব্ধিতে যতটুকু এসেছে তা না লিখে পারলাম না।
এই সড়ক দুর্ঘটনায় কত মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছে এবং কত মানুষ সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করছে, কত সম্ভাবনাময় প্রাণ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হচ্ছে। সব কিছু দেখছি, শুনছি, বুঝছি কিন্তু করার কিছুই নাই। সত্যিই কী তাই! সাম্প্রতিক সময়ে মিডিয়ার সুবাদে আমাদের দেশে একটা বিষয় খুব প্রচলন শুরু হয়েছে।
যখন কোন বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে আর সেই দুর্ঘটনায় যদি দেশের কোন গণ্যমান্য খ্যাতিসম্পন্ন, বরেণ্য ব্যক্তি প্রাণ হারান তখন টেলিভিশনের পর্দায় সব চ্যানেলে ভরপুর টক‘শো’ তে স্বনামধন্য, জ্ঞানী, গুণী, গুশীল, সুধি, গবেষক, বিশ্লেষক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার থেকে শুরু করে চিত্রনায়ক সহ কেহই বাদ পড়েন না। টক’শো’ তে আগত উল্লিখিত এইসব স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গের আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই সেটা সড়ক দুর্ঘটনার আইন কঠোর থেকে কঠোরতর করতে হবে, আইনের সংস্কার করে শাস্তির মেয়াদ বাড়াতে হবে, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- দিতে হবে। গাড়ির মালিককে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এতে মনে হয় পরিবহণ সেক্টরটা সবার প্রতিপক্ষ। সরকার মনে করে এই সেক্টরকে কঠোর হাতে দাবিয়ে রাখতে হবে। সাথে সাথে জনগণ তার যে কোনো দাবি তা রাজনৈতিক হোক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হোক বা পাড়া মহল্লায় যে কোনো গোলযোগে তুচ্ছ ঘটনায় রাস্তায় নেমে গাড়ি না ভাঙ্গলে যেন সঠিক প্রতিবাদ হলো না।
আর টক ‘শো’তে আগত ব্যক্তিরা শত্রুপক্ষ মনে করেন যেন পরিবহণ সেক্টর যুদ্ধাপরাধীর সমতূল্য। অথচ মাত্র কিছুদিন আগে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পরবর্তি সময়ে সরকারের আহবানে সাড়া দিয়ে দেশকে সচল রাখতে পেট্রোল বোমা তা-বের মধ্যেও গাড়ির মালিক-শ্রমিক জানমালের তোয়াক্কা না করে জনগণের সেবায় নিয়োজিত হয়ে পরিবহণ সচল রাখতে কত শ্রমিক ভায়েরা জীবন উৎসর্গ করেছে।
পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে তাদের জীবন প্রদীপ নিভে গেছে। কত মালিকের কোটি কোটি টাকার সম্পদ আগুনে ভষ্মিভুত হয়েছে আমাদের সকলের জানা এবং দেখা- যা সারা দেশের মানুষ অবলোকন করেছে। যারা পরিবহল ব্যবসা করে তারা এই দেশেরই দেশপ্রেমিক জনগণের একাংশ। আমাদের এই ঘৃণ্য সংস্কৃতি ও মন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমস্যা হতেই পারে, তার সমাধান খুঁজতে হবে। এই সড়ক ুূর্ঘটনার প্রখরতা সৃষ্টি দীর্ঘদিনের অবহেলার পুঞ্জিভুত সমস্যার ফলশ্রুতি।
আলোচনায় অনেক কথাই বলা যায়, কিন্তু বাস্তবতা মাথায় রেখে সুষ্ঠু ও সূদরপ্রসারী পরিকল্পিত পদক্ষেপ, (গবমধ চৎড়লবপঃ) এখনই গ্রহণ করতে হবেÑ প্রসঙ্গত যদি ১০ জন চালকেরও ফাঁসি দেওয়া যায়, আমি বলতে পারি সড়ক দুর্ঘটনা তিল পরিমাণেও কমবে না। বরং দেশ ও জাতি আগমীতে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মৃত্যুর মিছিল আর পঙ্গুত্বের হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকবে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিফলে যাবে।
আমি ওনাদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখে বিনয়ের সাথে বলতে চাই, ওনাদের জ্ঞানের পরিধি আন্যান্য ক্ষেত্রে অনেক বেশি ও গভীর হতে পারে কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ে ওনাদের জ্ঞান হাঁটুর নিচেই আছে বলেই আমার মনে হয়Ñ যা মাথায় উঠতে আরও ৫০ বছর সময় লাগবে।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং মন্ত্রণালয়ের কর্তাদের কাছে আমার একটি প্রশ্ন: একজন দক্ষ ডাক্তার তৈরি করতে, একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করতে, একজন দক্ষ সেনা অফিসার তৈরি করতে এবং একজন দক্ষ পাইলট তৈরি করতে সরকারের কোটি কোটি টাকার ভর্তুকি দিতে হয়। আপনারা কি বলতে পারেন, একজন দক্ষ পরিবহণ চালকের ক্ষেত্রে সরকারের একটি টাকাও কি ভর্তুকি দিতে হয় ? … না
অথচ এই সেক্টর থেকে সরকার শত শত কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করছে। গত অর্থ বছরেই আদায় করেছে ১২শত কোটি টাকা যা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হিসাবে অবদান রাখছে।
“আপনি গাছ লাগাবেন জলপাইয়ের, আর ফল চাইবেন আঙ্গুর! সেটা কি সম্ভব?” দেশের নীতিনির্ধারক, পরিকল্পনাবিদ, রাজনীতিবিদদের উদাসীনতার কারণে পরিবহন সেক্টর আজ চরম অবহেলিত, এবং ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে।
আমরা গাছের গোঁড়ায় পানি না দিয়ে ফল পাওয়ার আশায় তাকিয়ে থাকি। দুঃখজনক হলেও সত্য যে দেশে পণ্য কেনার মত অর্থের বিনিময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স কেনা যায়, সে দেশে দক্ষ চালকের আশা করা অবান্তর। ড্রাইভিং পেশায় যারা আসে দরিদ্র জনগোষ্ঠির একাংশ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা টার্মিনালে টোকাই হিসাবে আবির্ভুত হয়। তারপর গাড়ির হেলপার, কিছু দিনের ব্যবধানে আচম্কা একদিন চালকের আসনে। আর ওস্তাদের নেক নজর থাকলেতো কথায় নাই- সে ট্রিপে চলে গেলো। সে বনে গেল একজন ড্রাইভার। তার কোন যোগ্যতা যাচাই ছাড়া অর্থের বিনিময়ে পেয়ে গেলো ড্রাইভিং লাইসেন্স।
একজন গাড়ির মালিক সে চালক নিয়োগ দিবে কিসের ভিত্তিতে? মালিকের একটাই দেখার বিষয় সেটা তার বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কিনা? এর থেকে বেশি জানার কিছু কি থাকে? অর্থের বিনিময়ে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স তার হাতেই আছে। সরকার গাড়ির মালিককে এমন কোনো যন্ত্র দেয় নি, যা দিয়ে ড্রাইভার পরীক্ষা করা সম্ভব। এ সংক্রান্তে গাফিলতি যদি থাকে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ও সরকারের। তার খেসারত মালিককে কেন দিতে হবে?  সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আমার সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব আছে যা বাস্তবায়ন করলে আগামীতে ৯০% সড়ক দুর্ঘটনা কমবে বলে আমি বিশ^াস করি। আমার প্রস্তাবনা মূলত দুইটি।
দক্ষ চালক তৈরি
(ক)    সম্পূর্ণ সরকারি উদ্যেগে অবকাঠামো সংবলিত (ওহভৎধংঃৎঁপঃঁৎব) : প্রত্যেক জেলায় ও বিভাগীয় সদরে একটি করে ড্রাইভিং ট্রেনিং অ্যাকাডেমি (উঞঅ) স্থাপন করতে হবে। সেখানে শারীরিক যোগ্যতার সাথে সাথে শিক্ষাগত যোগ্যতা নূন্যতম এসএসসি পাস হতে হবে। কারণ একজন শিক্ষিত ব্যক্তির বিবেক বিবেচনা নীতি নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ একটু হলেও থাকবে, যা দক্ষ চালকের ক্ষেত্রে অপরিহার্য্য, প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষ ট্রেনার দিয়ে ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাও প্রদান করতে হবে।
(খ)    আমি আগেও বলেছি যারা ড্রাইভিং পেশায় আসে তারা অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠির একাংশ। সুতরাং ট্রেনিঙের সময় শিক্ষানবিশ চালকদের সরকারিভাবে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষানবিশ চালকদের ভাতা প্রদান করতে হবে। উল্লেখ্য, সরকার শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষার্থীদের বই, চাল, গম এবং স্কুলে টিফিন সরবরাহ করে থাকেÑ প্রয়োজনে শিক্ষানবিস চালকদের এই ধরনের সুবিধা প্রদান করতে হবে।
(গ)    ট্রেনিং নূন্যতম ৬ মাস থেকে ১ বছর হতে হবে এবং ট্রেনিং পিরিয়ডে অবশ্যই দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে প্রকৃত শিক্ষা দান করতে হবে।
(ঘ)    একজন দক্ষ চালকও দেশের সম্পদ হতে পারে এবং দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হতে পারে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার যদি দক্ষ চালক তৈরিতে আন্তরিক হয়, এই সুযোগ সৃষ্টি হলে সারা দেশ থেকে দরিদ্র শিক্ষিত বেকার যুবকদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়ার প্রেরণা যোগাবে এবং আগামী নতুন প্রজন্ম নিরাপদ সড়ক চলাচলে প্রাণহানি ছাড়াই নতুন বাংলাদেশকে দেখতে পাবে।
(ঙ)     ট্রেনিং শেষে যে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে, তার ভিত্তিতে বিআরটি. এতে মৌখিক (জড়ড়স ঞবংঃ) পরীক্ষার মাধ্যমে লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবে। কোনোভাবেই ট্রেনিং এর দায়িত্ব বিআরটিএ-এর কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়া যাবে না। কারন ইতোমধ্যেই বিআরটিএ একটি দুর্নীতিগ্রস্ত সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অ্যাকাডেমির প্রধান কর্মকর্তার দায়িত্ব দিতে হবে সামরিক/আধাসামরিক বাহিনীর যোগ্য অফিসারের হাতে। তাহলে কোনো স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতি হবে না বলে আমার বিশ^াস।
সড়ক প্রশস্তকরণ ও রোড ডিভাইডার নির্মাণ
(ক)    বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার অধিকাংশই মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে হয়। এর মূল কারণ আমরা জানি না বা জানার চেষ্টাও করি না। আমার পরিবহন ব্যবসার দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি বিভিন্ন সময়ে অনেক সড়ক দুর্ঘটনার স্থান পরিদর্শন ও বিশ্লেষণ করে দেখেছি যে কোনো গাড়িকে দ্রুত গতিতে ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির গতি ও সময় পরিমাপে এবং যে গাড়িটিকে ওভারটেক করছে তার গতি উপলব্ধি করতে না পারা এবং সময় সমন্বয়হীনতার কারণে আগত গাড়ি ও যেটিকে ওভারটেক করছে এই দুই গাড়ির গ্যাপে পর্যাপ্ত দূরত্ব না থাকার কারণে শেষ মুহুর্তে আগত গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে যার গতি (ঙাবৎ ঝঢ়ববফ) অতিরিক্ত মাত্রায় থাকে। এ ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের সংখ্যা বেশি হয়। মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করে মুখোমুখি সংঘর্ষ ১০০% এড়ানো সম্ভব। তাই সারা দেশে সকল মহা সড়কগুলি (ঋড়ঁৎখধহব রিঃয জড়ধফ উরারফবৎ) এখন এটা সময়ের দাবি।
(খ)    সড়কে কী পরিমাণ যানবাহন চলাচল করে এবং এর জন্য প্রয়োজন অনুসারে পর্যাপ্ত পরিমাণ সড়ক প্রশস্ত করতে হবে। মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াতে সড়ক পর্যাপ্ত প্রশস্তকরণ ও রোড ডিভাইডার নির্মাণের কোন বিকল্প নাই। ফোর লেনসহ রোড ডিভাইডার থাকলে ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের কোনো সম্ভাবনাই থাকবে না।
সরকার যদি দক্ষ চালক তৈরিতে আন্তরিকতার সাথে এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করে এবং ভর্তুকি প্রদান করে তাহলে অনেক শিক্ষিত, বেকার ও দরিদ্র পরিবার থেকে মেধাবী এবং দক্ষ চালক তৈরি করা যাবে। শুধুমাত্র দক্ষ চালকের হাতেই সড়ক নিরাপদ রাখা সম্ভব। বড় বড় সড়ক দুর্ঘটনার অধিকাংশই মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটে। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন ঠিক এই ধরনের মুখোমুখি সংঘর্ষে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আমার পরিবারের নিজ রক্তের দুইটি তরতাজা প্রাণ অকালেই ঝরে গেছেÑ আমি ও আমার পরিবার ভুক্তভোগী ও শোকাহত।
মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, আমাদের দেশ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলো, এতো সরকার এলো গেলো, এত জ্ঞানী, গুণী, সুধিজন, গবেষক, বিশ্লেষক, নীতিনির্ধারক কারোরই মনে এই সামান্য প্রশ্নটা কোনোদিন জাগেনি যে একজন অদক্ষ (অদক্ষ বলছি এই কারনে তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা-দিক্ষা নাই) (‘ঁহংশরষষ রিঃয রষষরঃবৎধঃব’) ব্যক্তি যার নিজের পরিবার তো দূরের কথা নিজের প্রতি নিজের দায়িত্ববোধ টুকুও নাই। তার পিছনে বসে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, শিল্পপতি, কবি, সাহিত্যিক, বিচারপতি সহ সকলে নিজের জীবন তার হাতে শপে দিয়ে অনিশ্চয়তার প্রহর গুণতে হয়।
ভাগ্য ভালো থাকলে গন্তব্যে আর তা না থাকলে হাসপাতালে। ভাগ্যক্রমে বাঁচতে পারলেও পঙ্গুত্ব জীবন যে শুরু হবে না তাও বলা যাবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ‘ভিশন-২০২১, এবং উন্নত দেশ গড়ার যে স্বপ্ন ২০৪১, উন্নয়নের অগ্রযাত্রা দেখিয়েছেন, সেটাকে সমৃদ্ধ, সফল করতে টেকসই উন্নয়নের কোনো বিকল্প নাই। তাই এখনই পরিকল্পিত ও অবকাঠামো সংবলিত (গবমধ চৎড়লবপঃ) কার্যক্রম শুরু করতে হবে। তাহলে আমরা আগামী দিনে নিরাপদ সড়কের সাথে সাথে সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা ও সার্বিক উন্নয়নে আগামী দিনে নতুন প্রজন্ম উন্নত বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাবো এবং সুখি সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলায় পরিণত হবে ইনশাল্লাহ।
বি: দ্র: আমার লেখনিতে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন আশাকরি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।  লেখক: সহ্ সভাপতি, রাজশাহী ট্রাক মালিক সমিতি, রাজশাহী