কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আহবানে সাড়া দেয় নি নাটোর জেলা ছাত্রলীগ ।। পদত্যাগ করেন নি সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪ বিবাহিত নেতা

আপডেট: জুলাই ১৯, ২০১৭, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বেঁধে দেয়া ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটামের পরও পদত্যাগ করে নি নাটোরের বিবাহিত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪ জন নেতা। যুগ্মসম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আবদুল্লাহ আল মামুন। সম্প্রতি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির জরুরি বৈঠকে ছাত্রলীগের বিবাহিত নেতাদের পদত্যাগের নির্দেশ দেয়ার পর পরই তিনি দলের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই পদত্যাগ করেন।
ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, সম্প্রতি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির জরুরি বৈঠকে ছাত্রলীগের বিবাহিত নেতাদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের পরেই হইচই পড়ে যায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে।
এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বিয়ের পর আর ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকা যায় না। তাই দলের প্রতি সম্মান জানিয়ে পদত্যাগ করেছি। বিয়ের পরও যারা কমিটিতে বহাল আছে তাদেরও পদত্যাগ করা উচিত বলে মনে করি।’
নাটোর জেলা ছাত্রলীগের কমিটির বিয়ের তালিকায় নাম আছে এমন নেতারা হলেন- নাটোর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাকিবুল হাসান জেমস, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম মাসুম, সহসভাপতি হাফিজুর রহমান, গোলাপ হোসেন, সাহাবুদ্দিন মোল্লা, নাজমুল হক বকুল, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সবুজ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মকুল মিঞা, প্রচার সম্পাদক তানভীর আহাম্মেদ শাওন, সাহিত্য সম্পাদক সাইফ হাসান শাওন, উপসাহিত্য সম্পাদক রাকিবুল হাসান রকি, মানব সম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক সরকার গোলাম সাকলাইন, উপ-শিক্ষা উপবৃত্তি সম্পাদক নয়ন কুমার কুন্ডু এবং সদস্য নিয়ন হোসেন।
জেলা ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে নাটোর জেলা ছাত্রলীগের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের আগে অনেকে বিয়ে না করলেও কমিটির পর অনেক নেতাই বিয়ে করেন।
জেলা ছাত্রলীগের উপ-শিক্ষা ও উপবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক নয়ন কুমার কুন্ডু বলেন, ‘বিবাহিত হওয়ার পর আর ছাত্রলীগ করা যায় না। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নির্দেশনা অনুযায়ী পদত্যাগের বিষয়টি অনেকে ভাবছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের দিকে তাকিয়ে আছি। তারা যে নির্দেশনা দেন আমরা সেটাই মানবো।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভায় মৌখিক নির্দেশনা দিলেও তারা কোনো লিখিত নির্দেশনা পান নি। যার কারণে লিখিত নির্দেশনা না থাকায় কেউ পদত্যাগ করতে চাইছে না। তবে লিখিত নির্দেশনা এলে বিবাহিত ছাত্রলীগ নেতারা পতদ্যাগ করবেন’। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বেঁধে দেয়া ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটামের বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাকিবুল হাসান জেমস বলেন, ‘যখন কমিটি গঠন হয় তখন আমরা অবিবাহিত ছিলাম, কমিটি গঠন হওয়ার পরে বিয়ে করি। তিনি আরো বলেন, আগামীতে সম্মেলন না হওয়া পর্যন্ত আমরা কমিটিতে থাকব, নতুন কমিটি হওয়ার পর আমরা বিদায় নিব।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ