কেবল ইসলামপন্থি জঙ্গি দমনেই জোর দেবেন ট্রাম্প

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৭, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



সব ধরনের সহিংস চরমপন্থি মতাদর্শের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গৃহীত কর্মসূচি ঢেলে সাজিয়ে এবং নতুন নাম দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন শুধু উগ্র ইসলামপন্থি জঙ্গিদের দমনে মনোনিবেশ করেতে চায় বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন দেশটির পাঁচ কর্মকর্তা।
‘কাউন্টারিং ভায়োলেন্ট একস্ট্রিমিজম’ (সিভিই) কর্মসূচির নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্প প্রশাসন এর নাম ‘কাউন্টারিং ইসলামিক একস্ট্রিমিজম’ অথবা ‘কাউন্টারিং র‌্যাডিকাল ইসলামিক একস্ট্রিমিজম’ রাখবে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।  এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে বোমা ও বন্দুক হামলা চালানো শ্বেতাঙ্গ চরমপন্থি দলগুলো আর দমনাভিযানের আওতাভুক্ত থাকবে না।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী প্রচারের সময় ‘উগ্র ইসলাম’ শব্দটি ব্যবহার না করা এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দুর্বল অবস্থান নেয়ার সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। এখন চরমপন্থি-দমনাভিযানের স্বরূপ বদলের কথা বলে ওবামার সেই নীতির বিপক্ষেই অবস্থান নিচ্ছেন তিনি।
‘কাউন্টারিং ভায়োলেন্ট একস্ট্রিমিজম’ বা সিভিই প্রোগ্রামের লক্ষ্য গুগল ও ফেইসবুকের সহযোগিতায় কমিউনিটি পার্টনারশিপ, শিক্ষামূলক প্রকল্প বা কাউন্টার-ম্যাসেজিং ক্যামপেইনের মাধ্যমে দলবদ্ধ বা একক হামলা পরিকল্পনাকারীকে নিরস্ত করা।
সিভিই প্রকল্পের কয়েকজন প্রবক্তার আশঙ্কা, প্রকল্পটির নতুন নামকরণ হলে বা  এটি পুনর্গঠন করা হলে সরকারের জন্য এ প্রকল্পের আওতায় মুসলিমদের সঙ্গে কাজ করা আরও কঠিন হয়ে যাবে।
শরণার্থী ইস্যুতে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের কারণে এমনিতেই মুসলিম সম্প্রদায় বর্তমান প্রশাসনের উপর আস্থা হারিয়েছে বলে মনে করেন তারা।
বর্তমানে সিভিই প্রকল্পের মূল মনযোগ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের উপর। দেশটির সেনাবাহিনী চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে অনলাইনে যে যুদ্ধ চালায় সিভিই তার থেকে একদমই আলাদা এবং এটি এখনও অকার্যকর একটি ব্যবস্থা হিসাবে সমালেচিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, গত বছর ডিসেম্বরে সিভিই’র একটি টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে ট্রাম্পের দল প্রথমবার বৈঠক করে। ওই বৈঠকেই এর নাম পরিবর্তন এবং নতুন করে এর লক্ষ্য নির্ধারণ করার কথা বলা হয়।
কংগ্রেস থেকে সিভিই প্রোগ্রামের তহবিল ঠিক করে দেয়া হয়েছে এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের শেষ দিনেই এর ফান্ডে অর্থ পৌঁছে গেছে। ওই অর্থ এখনও প্রকল্পের ফান্ডেই রয়েছে এবং ডিএইচএস সেক্রেটারি জন কেলি বিষয়টি দেখছেন বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে জানতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে ডিএইচএস এবং হোয়াইট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।- বিডিনিউজ