কেরলে বিজেপির গোমাংস সমবায় সমিতি

আপডেট: জুলাই ৭, ২০১৭, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দেশ জুড়ে স্বঘোষিত গোরক্ষকদের বজ্জাতি চলছে। সবকিছু দেখেশুনেও নীরব মোদি সরকার। তারইমধ্যে উল্টো পথ ধরল ভারতীয় জনতা পার্টির কেরল শাখা। মাছ ও মাংস উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ এবং বাজারে পৌঁছে দেয়ার জন্য সমবায় সমিতি গড়লেন ত্রিশূরের নেতারা। সমবায় সমিতির নাম রাখা হয়েছে ‘ত্রিশূর ফিশ অ্যান্ড মিট প্রোডিউসিং, প্রসেসিং অ্যান্ড মার্কেটিং সোসাইটি।’ কর্মসূচির মধ্যে রাখা হয়েছে গোমাংসকেও। বাজারে পাঠানোর পর যে উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকবে, তা দিয়ে সার তৈরি করা হবে। রাজ্যে ঘুরে ঘুরে মাংস বিক্রির জন্য গাড়ি ও রেস্তোরাঁ চালুরও পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সমিতি গড়ার জন্য ছ’মাস আগেই রেজিস্ট্রারের অনুমোদন জোগাড় করা হয়েছিল। সংগঠনের নিয়মাবলিতে খুচরো ও পাইকারি বাজারে মাংসের চাহিদা মেটাতে গবাদি পশু পালনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জোর দেয়া হয়েছে।
কেরল বিজেপি নেতাদের মধ্যে এমন উদ্যোগ অবশ্য নতুন কিছু নয়। উপ নির্বাচনে জিতলে আইন মেনে গোমাংস বিক্রি এবং শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কসাইখানা খুলবেন বলে এর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মল্লপুরম জেলার বিজেপি নেতা এন শ্রীপ্রকাশ। তবে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্যই তাঁরা এসব করছেন বলে মত সমালোচকদের। কারণ ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গোমাংস নিষিদ্ধ করতে উঠে পড়ে লেগেছেন তাঁদের কেন্দ্রীয় নেতারা। উন্নতমানের গোমাংস জোগানোর প্রস্তাব দেয়ায় এক বিধায়ককে কড়া শাস্তি পর্যন্ত দিয়েছিলেন তাঁরা। তাই রাজনৈতিক লক্ষ্যপূরণ করতেই যে কেরলে দলের নেতাদের আচমকা গোমাংস নিয়ে আদিখ্যেতা শুরু করেছেন, তা ত্রিশূর জেলার বিজেপি সভাপতি এ নাগেশের মন্তব্যেও ধরা পড়েছে। তিনি বলেছেন, ‘যেন তেন প্রকারে সিপিএমকে কোণঠাসা করতে চাই আমরা। ওরা আর একটা মাংস প্রক্রিয়াকরণ শাখা খুললে আমাদেরই ক্ষতি। তবে বিজেপি মোটেও মাংস বিক্রির বিপক্ষে নয়। আমরা শুধুমাত্র গোহত্যার বিপক্ষে।’ ত্রিশূরের বিজেপি সভাপতি এ নাগেশ এবং সহ সভাপতি টিএস উল্লাস ওই সমবায় সমিতির শীর্ষে রয়েছেন। রাজ্য বিজেপির কার্য নির্বাহক সমিতির বেশ কিছু সদস্যও তাতে যোগ দিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: আজকাল

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ