কেশরহাট পৌরসভার কাউন্সিলরকে সওজের নোটিশ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৪, ২:৪৬ অপরাহ্ণ


মোস্তফা কামাল, মোহনপুর :মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার কাউন্সিলর সাবের আলীর অবৈধ দখলকৃত জমিতে নির্মাণাধীন বাণিজ্যিক ভবন সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জানুয়ারি স্থানীয় বাসিন্দা জামাল হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র জেলাপ্রশাসক বরাবর দায়ের করা হয়। এরপর ১৬ জানুয়ারি নিরাপদ সড়ক পরিবহন নিশ্চিতকরণে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের ২৫ দফা নির্দেশনায় ৩, ৪ ও ৫তম নির্দেশনা অনুযায়ী মহাসড়কের পাশে অনুমতি ছাড়া অবৈধ নির্মিত স্থাপনা সম্পূর্ণ নিজ ব্যয়ে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন রাজশাহী সওজ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেশরহাট পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাবের আলী এলাকায় চিহ্নিত দখলবাজ হিসেবে পরিচিত। ইতোপূর্বে তিনি সরকারি খাস ও মালিকানা অনেক জমি অবৈধ দখলের করে একাধিক বহুতল বাণিজ্যিক ভবন গড়েছেন। অভিযোগে উল্লিখিত মৌজা-কেশরহাট, বিএস খতিয়ান ১৬৪০, ১৬৫০, ১৬৫১, ১৬২১ ও ১৬৩৮ দাগ সমূহ সড়ক ও জনপথ নামীয় রেকর্ডভুক্ত। এছাড়াও তার রয়েছে বৈধ ও অবৈধ জায়গায় নির্মাণাধীন শতাধিক দোকাপাট। পৌরসভার নানা কার্যক্রমের অর্থ আত্মসাতের চেষ্টায় নিষ্ফল হয়ে পৌরসভা থেকে বিচ্ছিন্নপ্রায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাউন্সিলর সাবের আলীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তার নির্মাণাধীন দোকানপাটের অধিকাংশই ভূয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে নিজ মালিকানায় রূপ দেয়া হয়েছে। প্রভাব খাটিয়ে অনেক জায়গা নিজ দখলে নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের পাশে কেশরহাট ফিলিংস্টেশনের দক্ষিণ পাশে সওজের জায়গা জুড়ে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে আসছেন।

এজন্য স্থানীয়রা অবৈধ দখলকৃত জমির উপর নির্মাণাধীন ভবন অপসারণের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ প্রশাসনের একাধিক দফতরে লিখিত আবেদন করেন। এরই প্রেক্ষিতে সওজ কর্তৃপক্ষ কাউন্সিলর সাবের আলীকে নিজ খরচে নির্মাণ সামগ্রীসহ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার আদেশ দেন। এছাড়াও রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লিখিত আবেদন করেন। তবে সকল কিছু তোয়াক্কা না করে কাউন্সিলর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

কাউন্সিলর সাবের জানান, আমি সড়ক ও জনপথ বা সরকারের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করিনি। আমার নিজ মালিকানাধীন সম্পত্তিতে স্থাপনা নির্মাণ করছি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের দেয়ার নোটিশের জবাব দিয়েছি। আইন অনুযায়ী তারা আমাকে সরাতে পারলে সরাক।

কেশরহাট পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদ বলেন, কেশরহাট পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাবের আলী দুর্নীতিবাজ কাউন্সিলর। তিনি পৌরসভার উন্নয়ন কাজের বিশেষ অংশ ভাগ বাটোয়ারা করে আত্মসাত করার চেষ্টা করেন। পৌর কর্তৃপক্ষ তাকে এধরনের সুযোগ না দেয়ার কারণে ৮/৯ মাস যাবত পৌরসভা থেকে বিচ্ছিন্ন। তিনি পৌরসভা আসেন না এবং কোনো ধরনের উন্নয়ন মূলক নাগরিক সেবা কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত নন। গণমাধ্যমসহ এলাকাবাসীর মাধ্যমে জেনেছি তার বিরুদ্ধে এলাকায় অসংখ্য অবৈধ দখলবাজির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে উর্ধ্ধতন কর্তৃপক্ষ যথার্থ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশাবাদী তিনি।