কেশরহাট পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে চান প্যানেল মেয়র রুস্তম আলী প্রামাণিক

আপডেট: জুলাই ৩০, ২০২০, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

কেশরহাট প্রতিনিধি


কেশরহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ রুস্তম আলী প্রামাণিক আগামি নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৪ টায় কেশরহাটের কে এস এন কফি হাউজে আয়োজিত সংবাদ সম্মেললনের মাধ্যমে আগামি পৌরসভা নির্বাচনে তিনি নিজেকে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কেশরহাট পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহেদুজ্জামান মুক্তা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য উপাধাক্ষ আনোয়ারুল হক হেনা, রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি রুবেল হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল মমিন, ছাত্র নেতা কাউছার মাহমুদ মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন, ব্যবসায়ি বেলাল হোসেন সোনারসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে জানান, আমি সমাজ প্রধান হিসেবে সামাজিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসার সূচনা। সুদীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে গ্রামগঞ্জ, মাঠে, ময়দানে মানুষের পাশে থাকতে গিয়ে সুপরিচিতি হয়ে উঠেছি। এজন্য মানুষ আগ্রহী হয়ে বার বার অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল কলেজসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক পদে দায়িত্ব দিয়েছেন। নিষ্ঠার সাথে সুষ্ঠ দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি বলেই আজ কেশরহাট পৌরবাসী আমাকে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব অর্পণের জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এজন্য জনসাধারণের ভালবাসাকে মূল্যায়ন করার জন্য আগামি নির্বাচনে আমি মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।
আমি ১৯৯০ সালে তৎকালিন ৩ নং রায়ঘাটী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনের সময় ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় নির্বাচন পরিচানা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছি। ১৯৯৬ সালে কাউন্সিল ভোটের মাধ্যমে পুনরাই রায়ঘাটী ইউনিয়নআওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়। ১৬ বছর যাবত মোহনপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। প্রায় এক যুগ ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কেশরহাট পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড কান্সিলর এবং পৌর বিচার বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছি। ইতোপূর্বে উপজেলা পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির শ্রেষ্ঠ সভাপতির সুনাম অর্জন করেছি।
অন্যদিকে তার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও জনপ্রিয়তা সম্পর্কে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুস্তম আলী প্রামাণিক বলেন, আমি উন্নয়নের লক্ষ নিয়ে নির্বাচন করবো। কারণ কম বয়সেই সমাজ প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছি। ১৯৮৩ সালে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেই নৌকা মার্কা প্রতিকের প্রার্থী মরহুম সরদার আমজাদের ভোট করেছি। রাজশাহী অঞ্চলের সুনামধন্য সামাজিক সংগঠন কেশরহাট প্রগতি সংঘের নির্বাচনে দফতর সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে বিনামুল্যে চক্ষু ক্যাম্প পরিচালনা করেছি। আগামি পৌরসভা নির্বাচনে আমি বিজয়ী হলে “পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করণ, জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট পাকাকরণ, জলাবদ্ধতা ও বসত বাড়ির পানি নিষ্কাসনের স্থায়ী ব্যবস্থাকরণ, সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের সহয়োগিতায় সমস্ত পৌর এলাকা আলোকিতকরণ, পৌরসভায় নাগরিক সেবা পেতে মানুষের চলমান হয়রানী রোধসহ রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ব্যবসাকেন্দ্র কেশরহাটে আধুনিক মার্কেট নির্মাণসহ ব্যবসায়িদের সকলপ্রকার সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
রোজগারের উৎস সম্পর্কে অপর একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরো বলেন, আমি ১৯৯০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত যৌথ ও বানিজ্যিক ভাবে মাছচাষ করে আসছি। উপজেলা মৎস বিভাগ হতে শ্রেষ্ঠ মৎসচাষি হিসেবে পুরুস্কৃত হয়েছি। আমি কারো বিরুদ্ধে সমালোচনায় বিশ্বাসি নয়, আমি বঙ্গন্ধুর স্বপ্নে গড়া দেশ ও জাতির উন্নয়নে বিশ্বাসি।