কোচিং সেন্টারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা কেন?

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

করোনাকাল জুড়ে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের কিন্ডার গার্টেন ও কোচিং সেন্টারগুলো। পুরো ১৮ মাস ধরে লোকসানের বোঝায় পরিণত হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। অনেকেই নিঃস্ব হয়ে গেছে। যখন দেশের স্কুল-কলেজগুলো খুলে গেল- তখনো অনেক কিন্টার গার্টেন ও কোচিং সেন্টার আর খোলার মত পরিস্থিতিতে নেই। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত হলেও এক হাজারের মত কিন্ডারগার্টেন ও স্কুল খুলছে না।
স্কুলের শিক্ষকরা বলছেন, মূলত আর্থিক অস্বচ্ছলতা, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী সংকটের কারণেই স্কুলগুলো বন্ধ রাখতে তারা বাধ্য হচ্ছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন ব্যক্তিমালিকানাধীন এসব স্কুল নিয়ে এখনও তাদের কোন পরিকল্পনা নেই।
কোচিং সেন্টারগুলোও একই পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সরকারি ঘোষণায় রাজশাহী মহানগরীর কতিপয় কোচিং সেন্টারের যেন তর সইলো না তারা ১২ সেপ্টেম্বরের আগেই কোচিং কুলে বসে থাকলো। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতেই স্বাস্থ্য সুরক্ষা কোনো বালাই নেই। অথচ সরকারের ১৯ দফা নির্দেশনা মেনেই স্কুল-কলেজের মত কিন্ডার গার্টেন ও কোচিং সেন্টারগুলো খোলার কথা। কিন্তু তার ব্যত্যয় ঘটেছে। এ সংক্রান্ত একটি সচিত্র প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে যেসব কোচিং সেন্টার ঔদ্ধত্য আচরণ করছে- সেটা অন্যদের জন্য বিড়ম্বনার কারণ হতে পারে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে উদাসীনতা বা বাড়াবাড়ি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটাকে কেহই প্রশ্রয় দিবে না। কোচিং সেন্টারগুলো দেড় বছর কাল ধরে যে ক্ষতির মুখে পড়েছে তার জন্য সহমর্মিতা তাদের প্রাপ্য। কিন্তু তারা যদি করোনা পরিস্থিতি উস্কে দেয়ার মত আচরণ করে তবে সেটা তাদের জন্য আরো ক্ষতির কারণ হতে পারে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাটাই একটি দায়িত্বশীল কোচিং সেন্টারের কর্তব্যকাজ হবে। সরকারি নির্দেশনা মেনেই সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এর অন্যথা নিশ্চয় ধৃষ্টতার সামিল হবে। এর ফলে অন্য যারা স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনেই কোচিং চালাতে চায়- তাদের জন্যও বিষয়টি স্বস্তির হবে না। জীবন-জীবিকার সব পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে -সেটাই সকলের কাম্য।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ