কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সম্পাদকের বিরুদ্ধে চালকদের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: নভেম্বর ৩০, ২০২২, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


চাঁদার টাকা, শ্রমিক কার্ড বিক্রি, ভবনসহ জমি বিক্রি ছাড়া অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে, রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনয়নের সদস্যরা। সদস্যদের অভিযোগ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেনের বিরুদ্ধে। শ্রমিকদের অভিযোগ প্রতিবাদ করলে কার্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এমন অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, সদস্য মিজানুর রহমান মিজার। সঙ্গে ছিলেন- বাস চালক হারুন অর রশিদ, নজরুল ইসলাম, আব্দুস সালাম শেখ, নাজিম।

সংবাদ সম্মেলনে তারা সাংবাদিকদের জানায়, সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত ছাড়া বেআইনীভাবে আনুমানিক ৭০০ কার্ড বিক্রি করেন। বর্তমান কার্ডের মূল্য দাড়ায়- ২১ লাখ টাকা; যা সম্পূর্ণ আত্যসাৎ করা হয়েছে। রাজশাহী বাইপাস সংলগ্ন ললিতাহার মৌজা জমি (দলিল নম্বর-৯৪১৭) জমির পরিমান ৩১৭০ একর (১৯ কাঠা ১২ পয়েন্ট) বিক্রয় করার পরে মাহাতার চৌধুরী বলে ১৬ কাঠা জমি বিক্রয় করিলাম। যার মূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। রাজশাহী শিরোইল বাস টার্মিনালের পাশে মেইন রোড সংলগ্ন শিরোইল মৌজা এক তলা আরসিসি পাকা বিল্ডিং করা ও জমির পরিমাণ .০৯৭৭ শতাংশ। (দলিল নম্বর- ৬২৪২) রাজশহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনয়নের নামে। এটি হাশেম আলীর কাছে ১ কোটি টাকায় বিক্রয় করেন মাহাতাব হোসেন চৌধুরী।

কিন্তু বর্তমানে বিল্ডিং ও জমির মূল্য ৮ কোটি টাকা। তা একক ভাবে আত্যসাৎ করেন। তার কাছে শেয়ার হোল্ডার মূলে জমির মালিক সদস্যগণ হিসাব চাইতে গেলে প্রাণ নাশের হুমকি দেন। কার্ডের মাসিক চাঁদা বন্ধ করে দেন। তার নামে শ্রমিকরা একাধিক মামলা করেছেন। বিভাগীয় শ্রম আদালত রাজশাহীতে তার নামে মামলা। ২ হাজার ৪৪০ জনের শেয়ার হোল্ডার যা খড়খড়ি ললিতহার মৌজার জমি বিক্রয় করে শেয়ার হোল্ডারের শ্রমিকদের মাঝে ৩ হাজার টাকা করে দেন।

গত ৭ জুন মাহাতাব হোসেন চৌধুরী সাংবাদিক সম্মেলন করে বক্তব্যে বলেন, জমি বিক্রয় করেছি। ২ হাজার ৪৪০ জনকে ৩ হাজার টাকা করে দিয়েছি। বাকী টাকা আমার কাছে আছে সে টাকা দিয়ে শ্রমিকদেরকে ১০ কোটি টাকার সম্পদ কিনে দিব। কিন্তু তিনি দেননি।

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন সড়ক ফেডারশনের নামে প্রতিদিন গাড়ী প্রতি চাঁদা গ্রহণ করে ২০ টাকা। কমপক্ষে প্রতিদিন গাড়ী চলে ৩০০টি। তাতে প্রতিদিন চাঁদায় উঠে ৬ হাজার টাকা। রাজশাহী হইতে স্থানীয় গাড়ী ছাড়া হয় কমপক্ষে বিভিন্ন রোডে ১৫০টি। স্লিপ ছাড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন চাঁদা গ্রহণ করে গাড়ী ১১০ টাকা। যা চাঁদা উঠে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। আন্তঃ জেলা ঢাকা বাস গাড়ী থেকে চাঁদা গ্রহণ হয় প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকা । আন্তঃ জেলা গাড়ী রাজশাহীতে প্রবেশ করে তা প্রতিদিন চাঁদা গ্রহণ করে ২০ হাজার টাকা। আনুমানিক রাজশাহী জেলা প্রতদিন চাঁদা উঠে ৫০ হাজার টাকা । যা এক বছরে ১ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিন বছরে ৫ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবুও শ্রমিকরা শিক্ষা, ভাতা কন্যাদায় মৃত্যুকালীন টাকার অধিকার থেকে সম্পূর্ণ ভাবে বঞ্চিত। সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী নিজস্ব শ্রমিক সদস্যদের মাঝে স্বজনপ্রীতি করেন।

এবিষয়ে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী জানান, আমি কোনো অন্যায় করিনি। বরং শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি নিরলস ভাবে। জমি বিক্রি করা হয়েছে নির্বাহী পরিষদের অনুমতি নিয়ে। সেই টাকাও শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আমি কোনো টাকা আত্মসাত করিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ