কোন থানার মরদেহ এনিয়ে অজ্ঞাত হয়ে পড়েছিল আট ঘণ্টা

আপডেট: জুন ২৫, ২০২৪, ৯:২৮ অপরাহ্ণ

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি:


স্পষ্ট করে লেখা আছে রেস্ট হাউজ বাংলাদেশ রেলওয়ে, সান্তাহার। রেলওয়ে থানার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাসহ রেল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্যবহার করে থাকেন সেই রেস্ট হাউজ। বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনের। আর এই রেস্ট হাউজের মূল ফটকের সিঁড়ির উপর অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকলেও পদক্ষেপ নেয়নি রেলওয়ে থানা পুলিশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অজ্ঞাত ওই মরদেহের ঝামেলা এড়াতে গোপনে লোকজন দিয়ে মরদেহটি সরিয়ে রেলওয়ে সীমানার বাহিরে। রেস্ট হাউজের মূলফটক থেকে মরদেহটি সরিয়ে রাখা হয় রেস্ট হাউজের সীমানা প্রাচীর পাশে। ফলে রেস্ট হাউজের মূল ফটকের সিঁড়ির পাশে দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা পড়েছিল অজ্ঞাত ওই মরদেহটি। রেলওয়ে পুলিশের এমন দায়িত্বহীন কাজে জনমনে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। একপর্যায়ে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে সেখান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায় আদমদীঘি থানা পুলিশ। এরপর পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা নিহত ভূপেন চন্দ্র বর্মণকে (৫৬)। তার বাড়ি নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার হাজরাপুকুর গ্রামে। তিনি ধনেশ্বর বর্মণের ছেলে।

জানা যায়, গত কয়েকদিন থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন ওই ব্যক্তি উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশন এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। আশ্রয় হিসেবে স্টেশন প্লাটফর্মসহ যাত্রীদের প্রবেশ করার মূল ফটকের পাশে থাকতো। তবে বেশকিছু দিন ধরে তাকে সান্তাহার রেলওয়ের রেস্ট হাউজের সামনে দেখা যায়। সোমবার সকালে ওই রেস্ট হাউজের ফটকের সিড়িঁর উপর তার মৃতদেহ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। স্থানীয়রা সান্তাহার রেলওয়ে থানায় খবর দিলেও ৮ ঘন্টা পার হলেও ওই মরদেহটি উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেনি রেলওয়ে থানা পুলিশ। পরে আদমদীঘি থানা মৃতদেহ উদ্ধার করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এদিন ওই লোক সন্ধ্যা থেকে রেস্ট হাউজের সামনে ছিল।

রাতে রেস্ট হাউজের প্রধান ফটকে টাইলসের সিড়িঁর উপর ঘুমিয়ে পড়েন। হয়তো ঘুমের মধ্যে সে মারা যায়। সকালে দেখলাম কয়েকজন রেলওয়ের শ্রমিক তাকে তুলে নিয়ে রেস্ট হাউজের পাশে রেলওয়ের সীমানার বাহিরে ঘাসের উপর রেখে দেয়। মনে করছিলাম মরদেহটি কোথাও নিয়ে যাচ্ছে পরে দেখলাম সেখানে ফেলে রেখে তারা চলে যান। তাদের এমন কাজগুলো আমার কাছে অদ্ভুত লেগেছে। পরে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মরদেহ সেখানেই পড়ে ছিলো। দীর্ঘসময় পড়ে থাকতে দেখেও সেখানে উদ্ধারের জন্য আসেনি পুলিশ।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোক্তার হোসেনের বক্তব্য নিতে থানায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা ও একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজেশ কুমার চক্রবর্তী জানান, সান্তাহার রেলওয়ে রেস্ট হাউজের সামনে দীর্ঘসময় একটি মরদেহ পড়েছিলো। আদমদীঘি থানা পুলিশ খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিচয় শনাক্তের মাধ্যমে নিহতের পরিবারে খবর পাঠানো হলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ নিয়ে যান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ