কোভিড টিকা সম্পর্কে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রশ্নবিদ্ধ বিশ্ব নেতৃত্ব

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড টিকা তৈরির সূচনাকালেই আহ্বান জানিয়েলেন, উন্নত দেশের উৎপাদিত টিকা যাতে বৈশ্বিক মালিকানায় থাকে। কেননা করোনাভাইরাস সংক্রমণ গোটা বিশ্ব জুড়েই নিষ্ঠুর আগ্রাসন চালাচ্ছে। আবিষ্কৃত টিকা বিশ্ব মানুষেরই সম্পদ হওয়া বাঞ্ছনীয়। সেটাই মানবিক আচরণ হবে। কিন্তু বাস্তবিক তা হয় নি। টিকা নিয়ে বাণিজ্য ও রাজনীতি দুটোই প্রাধান্য পেয়েছে। মানবিক বিষয়টি তেমন গুরুত্ব লাভ করেনি।
এই পরিস্থিতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল টিকা সরবরাহে বৈষম্য তৈরির দাবি করে নিন্দা জানিয়েছে। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনকারী ছয় শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ ও প্রযুক্তি ভাগাভাগি করে নিতে অস্বীকারের মাধ্যমে নজিরবিহীন মানবাধিকার সঙ্কটের ইন্ধন দিচ্ছে। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) ‘বৈষম্যর ডাবল ডোজ’ নামে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওই গবেষণায় প্রতিবেদন মতে বিভিন্ন মাত্রায় ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মানবাধিকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী পরিচালিত প্রায় ছয়শো কোটি টিকার মধ্যে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ গেছে নিম্ন আয়ের দেশে এবং ৭৯ শতাংশ গেছে উচ্চ-মধ্য ও উচ্চ আয়ের দেশে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন ‘যারা অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে দ্রুত টিকা তৈরি করেছে তাদের অভিনন্দন জানানো উচিত। কিন্ত দুঃখজনকভাবে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে টিকা উৎপাদনের জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং ধনীদেশগুলোর পক্ষে কাজ করছে। যা সম্পূর্ণ ধ্বংসাত্মকভাবে অন্যদের জন্য টিকার অভাব তৈরি করেছে।’
অ্যামনেস্টি বলছে, প্রতিটি টিকা উৎপাদনকারী কোম্পানির মানবাধিকার নীতি, টিকার মূল্য কাঠামো, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের ডকুমেন্ট, জ্ঞান ও প্রযুক্তির ভাগাভাগি, টিকার ডোজের ন্যায্য বরাদ্দ পর্যালোচনা করছে।
পৃথিবীর জাতিসত্তাসমূহের করোনাভাইরাসের মত বড় বিপর্যয়কালেও মানবাধিকারের যুক্তি মোটেও ধোপে টেকেনি। কেননা এ ক্ষেত্রে ব্যবসা ও রাজনৈতিক আধিপত্যই প্রাধান্য পেয়েছে। ফলে করোনাভাইরাসের টিকার সুফল- বলা যায়, উন্নত দেশগুলোই নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকা পাওয়া গেছে মাত্র শূণ্য দমমিক তিন শতাংশ। এই তথ্যই বলে দেয় মানুষের প্রতি মানুষের নিষ্ঠুরতা, অন্যায্যতার স্বরূপ কত ভয়ঙ্কর। মানবাধিকারের সঙ্কটের স্বরূপটাও উপলব্ধি করা যায়। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘও তাদের ভূমিকা খুব বেশি স্পষ্ট করতে পারেনি।
করোনা ভাইরাস বিশ্ব মানুষের সমস্যা। একে সম্মিলিত উপায়েই প্রতিরোধ করা যেতে পারতো কিন্তু। তাতে ফলাফল আরো ভাল আসতে পারতো। মৃত্যূর হার আরো কমিয়ে আনা সম্ভব হত। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। করোনাভাইরাসের টিকাকে কেন্দ্র করে বৈষম্যের স্বরূপ পৃথিবীর মানুষ দেখলো- তাতে বিশ্ব মানুষের কোনো বিষয়ে সংহতি প্রকাশের পথটা আরো দীর্ঘ হল। যা বিশ্ব নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করলো এবং আস্থাহীনতার দিকেই ঠেলে দেয়া হল আগামী বিশ্বকে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ