কোভিড সংক্রমণ অধোমুখি ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে

আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০২১, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

পৃথিবীব্যাপিই কোভিড সংক্রমণ অধোমুখি। এটা বিশ্ব মানুষের জন্য স্বস্তিও বটে। করোনা সংক্রমণের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষের আচরণ ও বৈশিষ্ট্যের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। তারপরও করোনা সংক্রমণ আছে, ভীতি আছে মানুষের মৃত্যুও ঘটছে।
বাংলাদেশ এর ব্যত্রিক্রম কিছু নয়। আশার সঞ্চার হয়েছে করোনাকালের অবসান হতে চলেছে। কিন্তু বাস্তবতা মোটেও তা নয়। করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু সহনশীল মাত্রার মধ্যেই চলে এসেছে। কিন্ত সে ক্ষেত্রেও কমছে আবার বাড়ছে। এটা যে আবার ভোল পাল্টে আবারো ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে সেই আশংকাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলার বাধ্যবাধকতা সমানভাবে প্রযোজ্য আছে। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ মানুষই আর স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানছে না। এটাই ভয়ের কারণ। কিছু লোক মাস্ক পরে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন তারাই কেবল মাস্ক পরে বাইরে আসছেন।
দেশের করোনা প্রতিরোধের যুদ্ধটাকে যে যেভাবেই সমালোচনা করুক কিংবা সরকারের ব্যর্থতা অনুসন্ধান করুক না কেন বাংলাদেশ করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রম ভালভাবে সামলাতে পেরেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে করোনাভাইরাসের ধাক্কা সামাল দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। জাপানের নিক্কি কোভিড-১৯ রিকভারি সূচকে উঠে এসেছে এমন তথ্য। দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা, টিকাদান কর্মসূচি এবং সামাজিক গতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসের শেষ দিকে জাপানের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক নিক্কি এশিয়া বৈশ্বিক এই করোনা সূচক প্রকাশ করে আসছে।
বিশ্বের ১২১টি দেশ ও অঞ্চলের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর চারটি মানদন্ডের ভিত্তিতে এই
সূচকটি তৈরি করা হয়। এতে দেশগুলোর প্রাপ্ত স্কোর ছিল ০ থেকে ৯০-এর মধ্যে।
৭ অক্টোবর নিক্কির প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী, আগের বারের তুলনায় এবার বাংলাদেশের ৪৮ ধাপ উন্নতি হয়েছে। ১২১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে ২৬তম স্থানে রয়েছে। যারা এক তরফা সমালোচনা করে আসছে নিশ্চয় এই তথ্যে তাদের মুখপোড়ার সামিল।
যাহোক সতর্কতার শতভাগই এখনো বহাল আছে। ইতো¤্রধ্যই যে সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে তা নিয়ে প্রস্তুত থাকার কতঅও বলা হচ্ছে বিশেষজ্ঞ মহল থেকে।
বিশ্বেজুড়ে করোনাভাইরাসের দাপট চলার মধ্যেই নতুন মহামারী নিয়ে হুঁশিয়ার করলেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী। আর তা মোকাবেলার প্রস্তুতিও রাখতে বললেন তিনি। মর্যাদাপূর্ণ র‌্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী ফেরদৌসী কাদরী সংবাদ মাধ্যমেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘এমার্জিং প্যাথোজেন, যেটা নিয়ে আমরা অনেক চিন্তা করি, নিপাহ, ডেঙ্গু পরিবর্তন সব জায়গায় হচ্ছে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়েল রেজিস্ট্যান্সও মারাত্মক জিনিস। একটা জীবাণু যদি রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যায়, তাহলে কোনো ওষুধই কাজ করবে না। তখন চিহ্নিত রোগও মহামারী আকারে চলে যাবে। এমার্জিং এবং রি-এমার্জিং ইনফেকশন নিয়ে সচেতন থাকতে হবে।’ তবে ড. কাদরী মনে করেন, করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় করতে গিয়ে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে যে কাঠামো তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে কাজে আসবে।
করোনা মহামারী মোকাবিলায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা আমাদের ভবিষ্যতকে নিরাপদ করবে। এর জন্য প্রস্তুতি ও উন্নত ব্যবস্থাপনার দিকে সবিশেষ সতর্ক নজর থাকতে হবে যাতে করে কোভিড-১৯ এর মত কোনো সংক্রমণে সংশ্লিষ্টরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় না হয়ে পড়ে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ