কোভিড-১৯ : গ্লোবের টিকা কতদূর?

আপডেট: মে ৬, ২০২১, ১২:৪১ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বাংলাদেশের কোম্পানি গ্লোব বায়োটেকের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের নীতিগত অনুমোদন মেলেনি সাড়ে তিন মাসেও।
এজন্য গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলে (বিএমআরসি) আবেদন জমা দিয়েছিল গ্লোব। পরে বিএমআরসির চাহিদা অনুযায়ী তথ্য-উপাত্ত যোগ করে ফেব্রুয়ারিতে সংশোধিত আবেদন জমা দেয়া হয়।
‘বঙ্গভ্যাক্স’ নামে এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের নীতিগত অনুমোদন পাবে কিনা, কবে নাগাদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে- এসব প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো উত্তর মেলেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমআরসির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমিন বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই ব্যাপারটা টোটালি আমাদের চেয়ারম্যান স্যার দেখছেন। এটার ব্যাপারে আমার তেমন কিছু বলার নাই।”
কিন্তু বিএমআরসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আই শ্যাল নট কমেন্ট অ্যানি মিডিয়া, অ্যানিহোয়্যার অ্যাবাউট দিস।”
গ্লোব বায়োটেক জানিয়েছে, ক্লিনিক্যাল রিসার্চ অর্গানাইজেশন লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টিকার ফেইজ-১ ও ফেইজ-২ এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রটোকল নীতিগত অনুমোদনের জন্য ১৭ জানুয়ারি বিএমআরসিতে দেওয়া হয়। বেশকিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে ৯ ফেব্রুয়ারি গ্লোব বায়োটেককে একটি চিঠি দেয় বিএমআরসি। ওই চাহিদা অনুযায়ী সংশোধিত প্রোটোকল ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ১৭ ফেব্রুয়ারি আবার জমা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে গ্লোব বায়োটেকের ব্যবস্থাপক (কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি অপারেশনস) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তাদের টিকার একটি ডোজের ‘অ্যানিমেল ট্রায়ালে’ কার্যকর অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেও একই ধরনের ফল পাওয়া যাবে বলে তাদের বিশ্বাস।
তিনি বলেন, “নীতিগত অনুমোদন দেওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি এখনও বিএমআরসিতে আটকে আছে। এখান থেকে অনুমোদন পেলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আমরা প্রটোকল জমা দেব। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে আমরা মানুষের শরীরে এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করতে পারব।
“প্রথমে অল্প কিছু মানুষের ওপর প্রয়োগ করে দেখা হবে টিকা নিরাপদ ও কার্যকর কি না। যদি কার্যকর ও নিরাপদ প্রমাণিত হয়, তখন সেটা মানুষের ওপর ব্যাপক হারে প্রয়োগ শুরু হবে।”
ডা. মহিউদ্দিন জানান, এই টিকা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১ মাস এবং মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে।
দেশে করোনাভাইরাসের মহামারী শুরুর পর গত বছর ২ জুলাই ওষুধ প্রস্ততকারী গ্লোব ফার্মার সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক টিকা তৈরির কাজ শুরুর কথা জানায়। ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যে এই টিকা বাজারে আনার যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছিল তারা।
সেদিন সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, খরগোশের ওপর এ টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ‘সফল’ হয়েছে। মানবদেহেও তা সফল হবে বলে আশাবাদী তারা। পরে গত বছর ৫ অক্টোবর গ্লোব বায়োটেক জানায়, ইঁদুরের ওপর প্রয়োগ করেও তাদের ওই সম্ভাব্য টিকা ‘কার্যকর ও সম্পূর্ণ নিরাপদ’ প্রমাণিত হয়েছে।
গ্লোব বায়োটেকের উদ্ভাবিত তিনটি সম্ভাব্য টিকা পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। ওই দিনই মহিউদ্দিন জানান, তাদের ওই তিনটি টিকার মধ্যে উ৬১৪এ াধৎরধহঃ সজঘঅ াধপপরহব- এর প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ হয়েছে।
শুরুতে গ্লোব বায়োটেক তাদের টিকার নাম দেয় ‘ব্যানকোভিড। পরে তা পরিবর্তন করে ‘বঙ্গভ্যাক্স’ রাখা হয়। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডকে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনের অনুমতি দেয়। পরে ১৭ জানুয়ারি এই টিকা মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নীতিগত অনুমোদন চেয়ে আবেদন করে গ্লোব বায়োটেক।- বিডিনিউজ