কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সম্মুখ সমরে যাঁরা তাঁদের প্রতি স্যালুট জানাই

আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০২০, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাস সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবায় দেশের ২ হাজার ২৩৮ জন চিকিৎসক স্বেচ্ছায় নিয়োজিত রয়েছেন। তারা স্বাস্থ্য বাতায়ন, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য পরামর্শ দিচ্ছেন।
৭ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিন উপস্থাপনকালে অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য জানান।
জাতি এই চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞ না হয়ে পরে না। জাতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ যে চিকিৎসক, নার্স ও স্বেচ্চাসেবিরা সরাসরি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করছেন। তাঁরা দায়িত্বজ্ঞান সর্বোপরি রেখে যেভাবে মানুষের এই দুর্যোগকালে এগিয়ে এসেছেনÑ জাতি তাঁদের জন্য গর্বিত। চিকিৎসকদের মতই সরকারের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ বাহিনীর সদস্য এবং সেনাবাহিনীর সদস্য করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের দেয়া কর্মসূচি নিষ্ঠার সাথে পালন করে চলেছেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা করছেন। মানুষকে সচেতন করতে এবং আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করে করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে কাজ করছেন- তাদের প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা। কৃতজ্ঞতা জানাতে হয় জাতির এই দুর্যোগ মুহূর্তে যারা অসহায়-দুস্থ মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন এবং সংবাদ কর্মি যারা ঝুঁকির মধ্যে অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করে চলেছেন।
এইসব মানুষের তৎপরতা এবং যারা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলছেনÑ সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় জাতির ঐক্যবদ্ধরূপ পরিগ্রহ হয়েছে। বাঙালি জাতি যে কোনো দূর্যোগ মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন বারবার। করোনাভাইরাসের মত মরণঘাতি রোগকেও তারা মোকাবিলা করবে সে প্রত্যয় ঘোষিত হয়েছে। এটা জাতির জন্য আস্থা ও স্বস্তির জায়গা।
কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছে যারা করোনাভাইরাস পরিস্থিতিকে নানা গুজব ছড়িয়ে ও মিথ্যা তথ্য সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলছে। এই মানুষেরা খুবই বিপজ্জনক। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কিন্তু তাদের হীন উদ্দেশ্যের প্রচারণা বন্ধ হয় নি। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। এমন একটি নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে অনেক চিকিৎসক আছেন যারা দায়িত্বের কথা ভুলে গিয়ে নিজেদের সামলাতেই ব্যস্ত আছেন। অথচ তাদের নামের সাথে ডিগ্রির শেষ নেই। সরকারের দেয়া পদ-পদবি ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। জাতির এমন এক দূর্যোগ মুহূর্তে তারা তাদের নেয়া শপথের কথা ভুলে গেছেন। এইসব চিকিৎসকদের চিহ্নিত করে অবশ্যই শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।
সরকার অঘোষিত লকডাউনের শিকার শ্রমজীবী মানুষের সহায়তায় নানাভাবে এগিয়ে এসেছে। তাদের খাদ্য সহায়তাও দেয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও এসব খাদ্য নিয়েও দুর্নীতির খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। এরা পশুরও অধম। এদেরকে কোনোভাবে ক্ষমা করা যায় না। এদেরকে বিশেষ আদালত পরিচালিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা বাঞ্ছনীয় হবে। এরা মানুষ ও সভ্যতার শত্রু।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশের দায়িত্বশীল যে সব মানুষ একেবারে সামনে থেকে যুদ্ধটা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের স্যালুট জানাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ