কোভিড-১৯ সামলাতে পারলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭.৮%: এডিবি

আপডেট: এপ্রিল ৩, ২০২০, ২:১৪ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর চ্যালেঞ্জ যথাযথভাবে মোকাবেলা করতে পারলে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি জোরালোই থাকবে বলে মনে করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্দি আগের বছরের চেয়ে কিছুটা কমে ৭ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ম্যানিলাভিত্তিক ঋণদাতা সংস্থাটি।
প্রবৃদ্ধির কিছুটা শ্লথ গতির পেছনে বৈশ্বিক চাহিদায় নেতিবাচক প্রবণতার কথা শুক্রবার প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০২০ নামে সংস্থাটির শীর্ষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।
এতে বলা হয়েছে, দ্রুত বর্ধনশীল তৈরি পোশাকের রপ্তানির বড় বাজারগুলো থেকে চাহিদা কমায় বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ৮ শতাংশে নামবে। তবে বিশ্বজুড়ে ভোক্তাদের মধ্যে আস্থার উন্নয়ন হলে ২০২১ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা এগিয়ে ৮ শতাংশে উঠতে পারে বলে আশা করছে এডিবি।
“শান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা অব্যাহত থাকার,২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানি ও আমদানিতে কমে যাওয়া এবং পরের বছর পুনরুদ্ধার,কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতির ও উপযোগী আবহাওয়া বিদ্যমান থাকবে ধরে নিয়ে এই পূর্বাভাস তৈরি হয়েছে। তবে এই পূর্বাভাসে কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব বিবেচনা করা হয়নি।”
এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন পারকাশ এক বিবৃতিতে বলেন,বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালোই করছে। তবে কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীর কারণে তার পতনের ঝুঁকি আছে।
“এডিবির প্রাথমিক প্রাক্বলনে যে ইঙ্গিত মিলেছে যাতে এই মহামারীর সামান্য প্রভাবে বাংলাদেশে দশমিক ২ শতাংশ থেকে দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপি হারাতে পারে। তবে বাংলাদেশে এই প্রাদুর্ভাব বড় আকারে ছড়ালে এর ক্ষতিও আরও মারাত্মক হবে।
তিনি বলেন, আরও তথ্য পাওয়া গেলে এই আউটলুক হালনাগাদ করা হবে। কোভিড-১৯ এর অভিঘাত মোকাবেলা ও প্রশমনে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে ও সহযোগিতা করতে এডিবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কোভিড-১৯ এর কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবেলায় সরকারের সাম্প্রতিক হস্তক্ষেপের প্রশংসা করে মনমোহন পারকাশ বলেন, আর্থিক প্রণোদনা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে।
এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্ধনশীল আভ্যন্তরীণ চাহিদা ও প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি জোরালো রয়েছে।
উন্নয়ন খাতে সরকারের উচ্চ ব্যয়;তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) তেল ও নির্মাণসামগ্রীর আমদানি বৃদ্ধি;উপযোগী বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং রপ্তানি বাড়াতে সরকারের নীতি সহায়তার ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে রপ্তানি চাহিদায় বিপর্যয়,ভোগ সংকোচন হলে ও রেমিটেন্স কমে গেলে এই প্রবণতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে মূল্যায়ন করতে না পারলেও এই মহামারীর কারণে এর মধ্যেই শ্লথ গতিতে পড়া উন্নয়নশীল এশিয়ার অর্থনীতি চলতি অর্থবছরে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছে এডিবি। তবে সামনের বছরে গিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
চিন ও ভারতসহ ৪৫টি দেশ মিলে উন্নয়নশীল অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আগের ৫ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ২ শতাংশে নামবে বলে এডিবির নতুন প্রাক্কলনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এডিবির ব্যষ্টিক অর্থনীতি গবেষণা বিভাগের পরিচালক আব্দুল আবিয়াদ রয়টার্সকে বলেন,২২ বছরের মধ্যে উন্নয়নশীল এশিয়ার সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি এটা। অথবা বলা চলে ২০০৭ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পর এমন পরিস্থিতি হয়নি।”
তবে ২০২১ অর্থবছরের জন্য এই অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি ঘুরে দাঁড়িয়ে ৬ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে এডিবির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ