কোমরে ‘সুইসাইড বেল্ট’ বেঁধে নিয়েছিল আটক নারী

আপডেট: মার্চ ১৫, ২০১৭, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



ধরা পড়ার আগে কোমড়ে হাতবোমা লাগানো সুইসাইড বেল্ট বেঁধে নিয়েছিলেন আটক হওয়া নারী জঙ্গি। তবে বাড়ির মালিকের স্ত্রী কৌশল আর বুদ্ধিমত্তায় সেই হাতবোমার বিস্ফোরণ ওই নারী ঘটাতে পারেনি বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে থাকা সীতাকুণ্ড থানার ওসি ইফতেখার হাসান।
এদিকে সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে ওই নারী ও তার স্বামী এবং তাদের এক শিশুসন্তানকে আস্তানা থেকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। তাদের আস্তানায় থাকা গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের বিস্ফোরক নিস্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা।
আটক নারী জঙ্গির নাম-পরিচয় এখনও জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে তার স্বামীর নাম জসিম এবং বাড়ি কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগা বলে পরিচয়পত্রে লেখা আছে। পরিচয়পত্রটি ভূয়া বলে জানিয়েছেন ওসি ইফতেখার হাসান।
বুধবার সীতাকুণ্ড পৌরসভার লামারবাজার আমিরাবাদের সাধন কুটির থেকে দুই জঙ্গিকে তাদের এক শিশুসন্তান সহ আটক করা হয়।
সাধন কুটিরের মালিক সুভাষ দাশ সুরেশ বাংলানিউজকে জানান, ২৭ ফেব্রুয়ারি তিন পুরুষ ও এক নারীসহ চারজন এসে খালি বাসাটি দেখে যায়। এসময় তারা নিজেদের কাপড় ব্যবসায়ী পরিচয় দেয় এবং ভাড়া নিতে সম্মত হয়। ২ মার্চ দুটি আলনা ও ব্যাগ নিয়ে দুজন ওই বাসায় রাখতে যায়। ৪ মার্চ রিক্সায় করে আটক হওয়া নারী-পুরুষ ওই বাসায় উঠে।
তবে শুরু থেকেই তাদের আচরণে সন্দেহ হয় মালিক সুরেশ ও তার স্ত্রী ছবি রাণী দাশের। কারণ যে রিক্সায় করে তারা সুরেশের বাসায় এসেছিল সেই রিক্সাচালক ছিল পূর্বপরিচিত। সুরেশ রিক্সাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারে, তারা এসেছে সীতাকুণ্ডের প্রেমতলা থেকে। অথচ ভাড়াটিয়ারা জানিয়েছিল তারা এসেছে রামু থেকে।
এছাড়া তাদের সন্দেহ করার আরও একটি কারণ হচ্ছে, তাদের বাসার দরজা সবসময় বন্ধ থাকত। তারা কারও সঙ্গে কথা বলত না।
মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে মালিক সুরেশ টাইলস লাগানোর জন্য বাথরুম ওই বাসায় যায়। এসময় তাকে দেখে একটি কক্ষে বিদ্যুতের তারসহ কিছু ছোট ছোট সার্কিট পা দিয়ে খাটের নিচে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে জসিম। এতে সুরেশের সন্দেহ হয়। তিনি জিজ্ঞেস করলে বলেন, এগুলো দিয়ে তারা লাইট তৈরি করে।
সুরেশ তাদের কাছ থেকে দুটি সার্কিট খুঁজে নিয়ে সকালে পৌরসভার একটি বাজারে ইলেকট্রিকের দোকানে যান। সেখানে একজন তাকে জানান, সার্কিটগুলো খুবই মূল্যবান। ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম শহর ছাড়া সেগুলো পাওয়ার কথা নয়। সেগুলো ভাল কাজে এবং খারাপ কাজেও ব্যবহার করা যায়।
সকাল ১০টার দিকে সুরেশ আবারও তাদের বাসায় গিয়ে ভাড়াটিয়ার তথ্য নিবন্ধনের জন্য পরিচয়পত্র চান। এসময় তারা যে পরিচয়পত্র দেয় সেটা অনলাইনে যাচাইবাছাই করে জসিম ভূয়া বলে নিশ্চিত হয়।
এরপর দুপুর ১টার দিকে সুরেশ ও স্ত্রী ছবি এবং সুরেশের বন্ধু সাগর ও তার বন্ধু মুক্তি গিয়ে তাদের জোর করে বাসা থেকে বের করে দিতে চান। তারা পাঁচদিন সময় দাবি করেন।
তখন হঠাৎ আটক নারী রুমের ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে বের হন বোরখা পরে। কোমরে ছিল বেল্ট বাঁধা।
সুরেশ জানান, এসময় তার স্ত্রী ছবি ওই নারীকে জাপটে ধরে ফেলে। ছবিকে কামড়ে দেয় ওই নারী। তখন মুক্তিও তাকে জাপটে ধরে। সুরেশ ও সাগর মিলে জসিমকে ধরে ফেলে। এরপর পুলিশকে খবর দেয়া হয়।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি ইফতেখার হাসান বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, বেল্টে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারত। বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেকে শেষ করে দেয়াই ছিল তার লক্ষ্য। তার কোমর থেকে বেল্ট খুলে তারপর তাকে আটক করা হয়েছে।- বাংলানিউজ