কোর্ট কলেজের জমি দখলমুক্ত করার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান

আপডেট: মার্চ ২৮, ২০১৭, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী কোর্ট কলেজের জমি দখলমুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে শীক্ষার্থীরা- সোনার দেশ

রাজশাহী কোর্ট কলেজের নামে লিজকৃত জমি বিএনপি নেতার জোরপূর্বক অবৈধভাবে দখল ও ভরাট করার প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে তা দখলমুক্ত করার দাবিতে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন এবং স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে রাজশাহী কোর্ট কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও কর্মচারিরা সম্মিলিতভাবে নগরীতে এ কর্মসূচি পালন করে।
সকালে কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই দাবিতে কলেজ প্রাঙ্গন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিলটি কোর্ট চত্বর থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অভিমুখে যেতে চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়।
পরে তারা কোর্ট শহিদ মিনার চত্বরে মানববন্ধন করে। ঘন্টাব্যাপি চলমান এ মানববন্ধনে রাজশাহী কোর্ট কলেজের অধ্যক্ষের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী কোর্ট কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ শফিকুর রহমান বাদশা, উপাধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আব্দুল্লাহ ইউসুফ, সহকারি অধ্যাপক ওবাইদুল হক, জালাল উদ্দিন, প্রভাষক হাসানুজ্জামান, আহসান হাবিব, রোমানা, ফাহমিদা, জসিম উদ্দিন, মিজান, কলেজের শিক্ষার্থী ফারজানা তাসনিম রিফাত, তানবীন তাবাস্সুম, নিশাত তাসনিম, আবদুল্লাহ আল বাকী, আরিফুল ইসলাম, শামীউল আলীম শাওন প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে কলেজ অধ্যক্ষ একেএম কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে ৭ (সাত) সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং তার হাতে দাবি সংবলিত স্মারকলিপি তুলে দেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন, উপাধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আব্দুল্লাহ ইউসুফ, সহকারি অধ্যাপক ওবাইদুল হক, জালাল উদ্দিন, প্রভাষক হাসানুজ্জামান, আহসান হাবিব।
জেলা প্রশাসককে প্রদানকৃত স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে যে, ১৯৮৮ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক হড়গ্রাম মৌজার (আরএস দাগ নং২৫২৫, রকম -ধানি) জমি লিজ প্রদান করেন এবং বাংলা ১৪১৭ সং পর্যন্ত লিজ মানি পরিশোধ করা আছে। পরবর্তী বছরগুলো লিজমানি দেয়ার জন্য ভিপি শাখায় আবেদন করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়েছে যে, ইতিপূর্বে বর্তামান সভাপতি রাজশাহী সদর আসনের সাংসদের ডিও লেটারের মাধ্যমে আপনার কাছে সীমানা চিহ্নিতকরণের জন্য আবেদনে প্রেক্ষিতে বোয়ালিয়া ভূমি অফিসের সরজমিনে তদন্তে ও সীমানা নির্ধারণে কোন বাধা প্রদান করা হয়নি। তদন্তে উল্লেখ করা হয় যে, এসএ ও আর এস খতিয়ানে এটি ‘ক’ তফসিল ভূক্ত। সেহেতু জমিটি সরকারের এবং জেলা প্রশাসক তার মালিক। জমিটি এখন পর্যন্ত কলেজের ভোগ দখলে আছে।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করে বলা হয়েছে যে, কামরান যাকে সহযোগিতা করছে রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি শওকত আলী ও তার দল। ফলে সেখানে একটি ক্রয়কৃত সম্পত্তি সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে এবং বালু ভরাট ফেলছে। এ বিষয়ে রাজপাড়া থানায় এবং পুলিশ কমিশনারের নিকট অভিযোগ করা হলেও অভিযুক্তরা রাতের অন্ধকারে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ