কোয়ারেন্টিনে কি করবেন

আপডেট: মার্চ ২২, ২০২০, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


আপনার এই স্বেচ্ছা নির্বাসনের সময়টাকে আকর্ষণীয় আর যতটা সম্ভব উৎপাদনশীল করে তুলতে আমাদের কাছে কয়েকটি দারুণ আইডিয়া আছে। চাইলে চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে মহামারি করোনা ভাইরাস। কনসার্ট স্থগিত হয়েছে, খেলাধুলার অনুষ্ঠানগুলো বাতিল হয়ে গেছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব স্কুল-কলেজ। এমনকি বন্ধ রয়েছে পর্যটনকেন্দ্রগুলো। বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনার আক্রমণের এই সময়ে যারা অসুস্থ নন, তাদেরও ঘরে বসে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঠিক তাই, বাড়িতে স্বেচ্ছা নির্বাসন নিতে হবে আপনাকে। যদিও ঘরে থাকা নিজের এবং অন্যকে করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা করার একটি ভালো উপায়, তবু এটি আরও মন্দকে ডেকে আনতে পারে- আপনার ভেতরের একঘেয়েমি এবং উন্মত্ততা নাড়িয়ে তুলতে পারে।
কেননা ঘরে আটকে বসে থেকে কি করবেন আপনি? সারাক্ষণ তো আর টিভি দেখা যায় না, ফেসবুক, ইউটিউবও সারাক্ষণ ঘাড় গুঁজে বসে থাকা যায় না, তাহলে? আপনার এই স্বেচ্ছা নির্বাসনের সময়টাকে আকর্ষণীয় আর যতটা সম্ভব উৎপাদনশীল করে তুলতে আমাদের কাছে কয়েকটি দারুণ আইডিয়া আছে। চাইলে চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
১। পাজল মেলান: এই ফাঁকে জটিল পাজলগুলো মিলিয়ে ফেলুন। চাই কি রুবিক’স কিউবটাও শিখে নিতে পারেন। কোয়ারেন্টিন থেকে বের হবেন যখন, আবার যখন নীল আকাশের নিচে আড্ডা বসবে- চমকে দেবেন বন্ধুদের।
২। ডায়েরি বা ব্লগ লিখতে শুরু করুন: হ্যাঁ, করোনা ভাইরাস আর নির্বাসন জীবন নিয়ে তো বটেই, লিখতে পারেন পছন্দের যেকোনো কিছু নিয়ে। রান্না, বই, হ-য-ব-র-ল যা ইচ্ছা তাই।
৩। ধুলোজমা বাদ্যযন্ত্রটা বের করুন: ঠিক তাই। আজকের এই ব্যস্ত সময়ে হয়তো নিজের হারমোনিয়াম কিংবা বেহালাটাকে ভুলেই বসেছেন আপনি। বাক্স থেকে বের করুন জিনিসটাকে, ধুলো ঝেড়ে হাতযশটা পরখ করে নিন। (তবে হ্যাঁ, পড়শিরা যেন বিরক্ত না হয় আবার)।
৪। বন্ধু আর আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করুন: রোজকার হাজারটা কাজ, স্যোশাল মিডিয়া আর ইউটিউব থেকে সময় মেলে না আমাদের। পৃথিবীটা ছোট হয়ে গেলেও আমরা আলোকবর্ষ দূরেই সরে গেছি। এই সুযোগে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করুন, ভিডিও কলে দেখে নিন তারা ঠিক আছেন কিনা।
৫। কবিতা লিখুন: পরীক্ষার খাতা ছাড়া হয়তো লিখতেই পারেন না আপনি। তবু চেষ্টা করেই দেখুন।
৬। সিনেমা দেখুন: যে সিনেমাগুলো এতদিন ফেলে রেখেছিলেন দেখে ফেলুন। একটা টার্গেট ঠিক করুন- এই পর্যন্ত অস্কার পাওয়া সব সিনেমা সংগ্রহ করে দেখে ফেলুন একে একে।
৭। শিখে ফেলুন নতুন ভাষা: স্মার্টফোন বা ট্যাবে ডুওলিঙ্গো বা এরকম কোন অ্যাপ ডাউনলোড করে নিন। শিখে ফেলুন পছন্দের ভাষা।
৮। মেডিটেশন, যোগব্যায়াম করুন: বাড়িতে সারাক্ষণ শুয়ে বসে থাকলে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তার চেয়ে বরং ভোরে উঠে ধ্যান করুন, ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখে করতে পারেন যোগব্যায়াম। আর ছোটখাট ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়ামগুলো করে সচল থাকার চেষ্টা করুন।
৯। ত্বকের যত্ন নিন: ব্যস্ত রুটিনের ফাঁকে ত্বকের দিকে খেয়ালই করার সময় হয় না আমাদের। এই সুযোগে ঘরেই করে ফেলতে পারেন ফেসিয়াল, পেডিকিউর আর ম্যানিকিউর।
১০। নতুন কিছু শিখুন: ক্যালিগ্রাফি, মোমবাতি বানানো, সেলাই, বুনন, নতুন কোনো রান্না- যা ইচ্ছা করে শিখে নিতে পারেন। ইউটিউব টিউটোরিয়াল দেখে শিখে ফেলতে পারেন পছন্দের যেকোন কাজ।
১১। বই পড়ুন: ‘ওয়ার এন্ড পিস’, ‘লা মিজারেবল’ এর মতো বিশালবপু ক্লাসিক বইগুলো এতদিন ফেলে রেখেছিলেন? এখনই পড়ে ফেলুন। এমনকি সাহস করে ধরে ফেলতে পারেন জেমস জয়েসের ‘ইউলিসিস’ ও।
১২। ছবি তুলুন: বাড়িতে ক্যামেরা নেই? হাতে স্মার্টফোন দিয়েই তুলুন পরিবারের সদস্যদের ছবি। নিজের ঘর, জানালা, পর্দা ছোটখাট জিনিসগুলোর ছবি তুলে ফটোস্টোরি তৈরি করে ফেলতে পারেন। স্মৃতি হয়ে থাকবে সারাজীবন।
১৩। খেলাধুলা করুন: অবাক হচ্ছে? বাইরে না বের হলে খেলবেন কি করে? বাড়ির লোকজনেরা মিলে দাবা, লুডু ক্যারাম এমনকি ভিডিও গেম প্রতিযোগিতায় বসে পড়ুন।
১৪। ঘর সাজান নতুন করে: না, নতুন কিছু কিনতে হবে না। আসবাব আর জিনিসপত্রগুলো স্থান পাল্টে নতুন করে সাজান। মনে হবে নতুন কোন জায়গায় বেরাতে এসেছে। একঘেয়েমি কাটবে।
১৫। ঘুমান: যত পারেন ঘুমান। একসময় সব স্বাভাবিক হলে শুরু হবে জীবনের দৌড়ঝাঁপ। সুযোগটা কাজে লাগান। ঘুমিয়ে নিন ইচ্ছেমতো।