কৌশল পরিবর্তন করছে নব্য জেএমবি, তৎপর গোয়েন্দারাও

আপডেট: জানুয়ারি ৮, ২০১৭, ১১:৪২ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


নব্য জেএমবির স্থানীয় নেতারা নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রযুক্তিগত কৌশলের দুর্বলতাকে দায়ী করছে জঙ্গিদের শীর্ষ নেতারা। আর তাই প্রযুক্তিগত কৌশল পরিবর্তন করছে জঙ্গি এ সংগঠনটি। তবে, জঙ্গিদের নতুন এই কৌশল মাথায় নিয়েই গোয়েন্দা তদন্তেও আসছে নতুন মোড়।
বাংলানিউজকে এসব তথ্য জানিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র। গত বছর ১ জুলাই  হলি আর্টিজানে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায় জঙ্গিরা। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে গোয়েন্দা অনুসন্ধান ও নব্য জেএমবির নেতাদের গোপন আলাপচারিতা থেকে এসব তথ্য পায় সিটিটিসি।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতারা নিহত হওয়ার পেছনে অনেক কারণের মধ্যে প্রযুক্তি ব্যবহারকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর এ কারণেই নব্য জেএমবির নেতারা তাদের প্রযুক্তিগত কৌশল পরিবর্তন করছে। তারা এখন উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া এমন প্রযুক্তি তারা ব্যবহার করতে যাচ্ছে, যা নাকি রাডারের মাধ্যমেও অপ্রীতিকর ঘটনা শনাক্ত করা সম্ভব নয়!
গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, তারা শুধু প্রযুক্তি নয়, অস্ত্রের ব্যবহার, পোশাক পরিচ্ছেদ, বাসস্থান, ব্যাংক একাউন্ট, অস্ত্রের চালান, দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশলগত পরিবর্তন আনছে।
তবে, জঙ্গিদের সব কৌশল মাথায় রেখেই গোয়েন্দা তদন্তেও নেওয়া হয়েছে নতুন মোড়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানায়, এখন আর তদন্তে শুধু পরিচিত মুখ নয়। অপরিচিতদেরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যাদের কখনো গ্রেফতার করা হয়নি, যারা পুলিশের নজদারিতে নেই, সন্দেহের তালিকায় নেই, এমনকি কোনো মামলার আসামিও নয়, তারাও থাকবে তদন্ত তালিকায়। একই দলগত আর্দশ ধারণ করা ব্যক্তিরাও বাদ যাবেন না তদন্ত থেকে।
সূত্র আরও জানায়, অপরিচিত নব্য জেএমবি সদস্যদের খোঁজার জন্য সিটিটিসির তৎপরতা শুরু হয়েছে। ধরা পড়া ও তালিকায় থাকা জঙ্গিদের সঙ্গে যাদের স্বাভাবিক যোগাযোগ ছিল সেখান থেকেও ক্লু খোঁজা হচ্ছে। কোনো কিছুই বাদ দেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক (অপরাধ বিশ্লেষক) জিয়া রহমান বাংলানিউজকে বলেন, জঙ্গিরা প্রতিনিয়ত তাদের প্রযুক্তিগত কৌশল পরিবর্তন করছে। সাইবার ক্রাইম এখন তাদের চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, ফেসবুক, হ্যাকিং, ই-মেইল, বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস, ভিডিও কনফারেন্সসহ অত্যাধুনিক অনেক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে জঙ্গিরা। এক কথায় বলতে গেলে অনেক দূর থেকে তারা একটি সুইচ বা রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে একসঙ্গে অনেকে যোগাযোগ রক্ষা করছে।
জিয়া রহমান বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটের দিকে তাকালে আমরা দেখি আমাদের ইংরেজি মাধ্যম ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অনেক দক্ষ। সেই দিক দিয়ে আমাদের গোয়েন্দারা পিছিয়ে আছেন। তাদের দক্ষতা আরও বাড়ানো উচিত।
এই অপরাধ বিশ্লেষক বলেন, গোয়েন্দারা তাদের দক্ষতা বাড়ালে কৌশল পরিবর্তন করে খুব বেশি দূর এগোতে পারবে না জঙ্গিরা।- বাংলানিউজ